মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে প্রয়াত অর্থলগ্নিকারী ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এপস্টেইনের প্রভাবশালী পরিচিতদের নিয়ে নানা বিতর্ক, তদন্ত ও জনআলোচনার মধ্যে এই জিজ্ঞাসাবাদ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের তদারকি কমিটির সামনে বুধবার গেটস একটি লিখিত সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু সরকারি নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে গেটসের যোগাযোগ নিয়ে নতুন প্রশ্ন ওঠার পরই তাকে ডাকা হয়েছে।
নতুন করে আলোচনায় পুরোনো সম্পর্ক
জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। তার বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন পাচারের অভিযোগে বিচার চলছিল। মৃত্যুর পরও তার যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশিত নথির মধ্যে একটি খসড়া ইমেইলে দাবি করা হয়, এপস্টেইন নাকি গেটসের ব্যক্তিগত কিছু বিতর্ক সামাল দিতে সহায়তা করেছিলেন। তবে গেটস এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ইমেইলকে ভুয়া বলে দাবি করেছেন।
‘ভুল সিদ্ধান্ত ছিল’
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস স্বীকার করেছিলেন যে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো সময়ের জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং সেই সম্পর্ক নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।
গেটসের ভাষ্য অনুযায়ী, তার সঙ্গে এপস্টেইনের যোগাযোগ মূলত নৈশভোজ ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি দাবি করেন, এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে কখনও যাননি এবং এপস্টেইনের মাধ্যমে কোনো নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়নি।
স্ত্রীর উদ্বেগ উপেক্ষার অভিযোগ
বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গেটসের সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস ২০১৩ সালেই এপস্টেইনকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তবুও গেটস আরও কিছু সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখেন বলে জানা যায়।

২০২১ সালে বিবাহবিচ্ছেদের পর মেলিন্ডা প্রকাশ্যে বলেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যেসব প্রশ্ন রয়েছে, সেগুলোর উত্তর বিল গেটসকেই দিতে হবে।
রাজনৈতিক চাপ ও তদন্ত
তদারকি কমিটি বর্তমানে এপস্টেইন এবং তার সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের কর্মকাণ্ড এবং সরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত তদন্ত চালাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন।
ডেমোক্র্যাট সদস্যরা জানতে চান, এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গেটস কতটা জানতেন এবং তাদের সম্পর্কের প্রকৃত পরিধি কী ছিল।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোনো ব্যক্তির নাম এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়। তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো সম্পর্কের প্রকৃতি এবং তথ্য গোপনের কোনো বিষয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা।
মার্কিন রাজনীতি, ব্যবসা ও সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘিরে এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। বিল গেটসের জিজ্ঞাসাবাদ সেই দীর্ঘ আলোচনাকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















