যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনে নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ডেমোক্র্যাট নেতা জেভিয়ার বেসেরা প্রাথমিক নির্বাচনে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে প্রথম লাতিনো গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেন।
প্রাথমিক নির্বাচনের ফলাফল এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত না হলেও ভোট গণনার ধারা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বেসেরা এবং রিপাবলিকান প্রার্থী স্টিভ হিলটন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে মুখোমুখি হবেন। ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেমোক্র্যাট ভোটারের সংখ্যা রিপাবলিকানদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় বেসেরা বর্তমানে স্পষ্ট সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
অপ্রত্যাশিত উত্থান
নির্বাচনী প্রচারের শুরুতে বেসেরাকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সাবেক কংগ্রেস সদস্য, অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল এবং মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তিনি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভিড়ে আড়ালে পড়ে যান।

তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা পরিস্থিতি বদলে দেয়। অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী এরিক সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তার প্রচারণাকে বড় ধাক্কা দেয়। একই সময়ে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে অনেক প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে গেলে রিপাবলিকানরা সুবিধা পেতে পারে। ফলে অনেক ভোটার নিরাপদ ও অভিজ্ঞ প্রার্থী হিসেবে বেসেরার দিকে ঝুঁকে পড়েন।
অর্থ নয়, অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা
এই নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল অর্থের প্রভাব নিয়ে ভোটারদের মনোভাব। ধনী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী টম স্টেয়ার নিজের প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি।
এ থেকে বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা এখনও শুধুমাত্র অর্থের জোরে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করা প্রার্থীদের প্রতি সতর্ক। বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সরকারি কাজের রেকর্ডকে তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বদলে যাচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্র
দীর্ঘদিন ধরে সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।

রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্র ধীরে ধীরে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে। তরুণ এবং লাতিনো ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন ধরনের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। বেসেরার উত্থানকে অনেকেই এই পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
নীতির চেয়ে পরিচিতি বেশি?
যদিও বেসেরা নির্বাচনী লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন, তবুও তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। সমালোচকদের মতে, বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি এখনও স্পষ্ট ও বিস্তারিত অবস্থান তুলে ধরতে পারেননি।
স্বাস্থ্যসেবা, চলচ্চিত্র শিল্প, গৃহহীনতা এবং বীমা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে তার বক্তব্য অনেক সময় সাধারণ প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। কিছু বিতর্কে তার প্রস্তাবিত সমাধান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে তার সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ সরকারি অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতাই তাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অনেক ভোটার এখনও তার অতীত কাজের রেকর্ডকেই সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন।

নভেম্বরের আগে বড় পরীক্ষা
প্রাথমিক নির্বাচনে এগিয়ে থাকা বেসেরার জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভোটারদের সামনে একটি স্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা। ক্যালিফোর্নিয়া বর্তমানে আবাসন সংকট, বীমা বাজারের অস্থিরতা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় এবং গৃহহীনতার মতো জটিল সমস্যার মুখোমুখি।
আগামী কয়েক মাসে এসব সমস্যা সমাধানে তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কতটা গ্রহণযোগ্য হয়, সেটিই সাধারণ নির্বাচনের আগে ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা আপাতত তার অভিজ্ঞতার প্রতি আস্থা দেখিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জানতে চাইবেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















