যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ সমন্বয়কারী পদে বিল পুলটের নিয়োগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আবাসন খাতের একজন প্রশাসক থেকে হঠাৎ দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার দায়িত্ব পাওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এটি কি যোগ্যতার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত, নাকি রাজনৈতিক আনুগত্যের পুরস্কার?
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিল পুলটেকে ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি তুলসি গ্যাবার্ডের স্থলাভিষিক্ত হন। গ্যাবার্ড ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক আলোচনায় তাঁর প্রভাব অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল।
কে এই বিল পুলটে?
৩৮ বছর বয়সী বিল পুলটে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আবাসন নির্মাণ ও বেসরকারি বিনিয়োগ খাতে তাঁর অভিজ্ঞতা থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তা, গোয়েন্দা কার্যক্রম বা সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

এ কারণেই তাঁর নিয়োগকে অনেক বিশ্লেষক ব্যতিক্রমী বলে মনে করছেন। কারণ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, এ পদে থাকা ব্যক্তির বিস্তৃত জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক অভিজ্ঞতা থাকার কথা।
যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
এর আগে এ পদে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের অধিকাংশই ছিলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সামরিক নেতা অথবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। সেই তুলনায় পুলটের অভিজ্ঞতা অনেক সীমিত বলে সমালোচকদের দাবি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো জানাননি তিনি পুলটেকে স্থায়ীভাবে এই পদে মনোনয়ন দেবেন কি না। তবে স্থায়ী নিয়োগ পেতে হলে তাঁকে সিনেটের অনুমোদন নিতে হবে, যা সহজ নাও হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, পুলটের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর প্রশাসনের প্রতি অনুগত অবস্থান। সমালোচকদের অভিযোগ, অতীতে তিনি বিভিন্ন সরকারি তথ্য ব্যবহার করে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন।

রাজনৈতিককরণের আশঙ্কা
পুলটের নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা। তাঁদের আশঙ্কা, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং গোয়েন্দা তথ্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সমালোচকদের মতে, গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের কাজ হলো বাস্তব তথ্য তুলে ধরা, ক্ষমতাসীনদের পছন্দসই ব্যাখ্যা তৈরি করা নয়। ফলে এই পদে রাজনৈতিক আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে গোয়েন্দা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
দুর্বল হয়ে পড়ছে কি গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়?
বিল পুলটের নিয়োগকে অনেক পর্যবেক্ষক বৃহত্তর একটি প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধীরে ধীরে প্রভাব হারিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির জনবল কমেছে, বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব বেড়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে একসময় যে কার্যালয় গোয়েন্দা ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবে গড়ে উঠেছিল, তার কার্যকারিতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।
এই প্রেক্ষাপটে পুলটের নিয়োগ শুধু একজন কর্মকর্তার নিয়োগ নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কাঠামোর বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















