দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটাতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মন্দিরের নাম থেকে ‘ধাম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হচ্ছে। নতুন নাম হবে ‘শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’।
মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ওড়িশা সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি চিঠির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘ধাম’ শব্দ
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরটি ২০২৫ সালে উদ্বোধন করা হয়। এটি ওড়িশার পুরীর ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত একটি বৃহৎ প্রকল্প। উদ্বোধনের সময় এর নাম রাখা হয়েছিল ‘জগন্নাথ ধাম’।
তবে শুরু থেকেই এই নাম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন বহু ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন সংগঠন। তাদের দাবি ছিল, সনাতন ধর্মে ‘চার ধাম’-এর বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। তাই অন্য কোনো মন্দিরের নামের সঙ্গে ‘ধাম’ শব্দ ব্যবহার করলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে।
মানুষের অনুভূতির প্রতি সম্মান
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্দিরের ধর্মীয় কার্যক্রম, পূজা-পার্বণ বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কোনো পরিবর্তন আসবে না। পুরো কমপ্লেক্স আগের মতোই মন্দির ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে।
প্রশাসনের মতে, নাম পরিবর্তনের ফলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং বিতর্কের অবসান ঘটবে এবং বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিনের মতভেদ কমবে।
ওড়িশার স্বাগত
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ওড়িশা সরকার। তাদের মতে, নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সংবেদনশীল বিষয়ে ইতিবাচক সমাধান এসেছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দুই রাজ্যের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

ওড়িশার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জগন্নাথ সংস্কৃতি কোটি মানুষের আবেগের সঙ্গে জড়িত। সেই আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে তারা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
২৫০ কোটি টাকার প্রকল্প
দিঘার এই জগন্নাথ মন্দির নির্মাণে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন কেন্দ্র দিঘায় এটি এখন অন্যতম বড় আকর্ষণ। মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী ও ভক্ত সেখানে আসছেন।
নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের ফলে মন্দিরের জনপ্রিয়তা বা কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নাম থেকে ‘ধাম’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান হতে পারে। নতুন নামে মন্দিরটি সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















