০৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনঃ ভারতের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে কমতে শুরু করবে  নতুন বিশ্বব্যবস্থায় চীনের অবস্থান: কূটনীতি, শক্তির ভারসাম্য ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশ্ন নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান যখন ক্ষমতার যুদ্ধে বন্দি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নজরদারিতে ৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল অনুমোদন, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষা আমেরিকার সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল সংকটে, ২০৩৩ সালের আগেই ফুরিয়ে যেতে পারে সঞ্চয় নিখোঁজ সাংবাদিক ইয়াসির আয়াজ চার দিন পর উদ্ধার, ফিরলেন পরিবারের কাছে ইমরান খানের পুনর্বিবেচনা আবেদনের রায় বৃহস্পতিবার, শেহবাজের মানহানি মামলায় নতুন মোড় বেলুচিস্তানে অভিযানে নিহত ১৪ সশস্ত্র সদস্য, প্রাণ হারালেন এক সেনা সদস্য বিদেশে গিয়ে আশ্রয় আবেদন, দেশে না ফেরা হাজারো পাকিস্তানি নিয়ে উদ্বেগ পাকিস্তান এশিয়ান গেমসে নতুন অধিনায়ক, সাহিবজাদা ফারহানের নেতৃত্বে দল ঘোষণা

১২ বছর শিকলে বন্দি নারী উদ্ধার, বাবা-ভাই গ্রেপ্তার

পাকিস্তানের বাহাওয়ালনগর জেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার পর্দা উঠেছে। প্রায় ১২ বছর ধরে একটি ঘরে বন্দি ও শিকলবন্দি করে রাখা এক নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নারীর বাবা ও এক ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

প্রেমের বিয়ের পর শুরু বন্দিজীবন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী হাসনা বিবি ১২ বছর আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে ভিন্ন জাতের এক যুবককে বিয়ে করেছিলেন। আদালতের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হলেও পরিবারের চাপে এক সপ্তাহ পর তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।

এরপর পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে ওই বিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই হাসনাকে পরিবারের সদস্যরা একটি ছোট ঘরে আটকে রাখে। দীর্ঘ সময় তাকে লোহার শিকলে বেঁধে রাখা হয় এবং বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হতো।

বৈষম্যহীন মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সবার অধিকার | প্রথম আলো

অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বছরের পর বছর হাসনাকে স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। তার জন্য কোনো আলাদা শৌচাগারের ব্যবস্থা ছিল না। পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে একপর্যায়ে তিনি নিজের শক্তিতে চলাফেরা করতে পারছিলেন না। পরে শিকল খুলে দেওয়া হলেও তাকে ঘরের বাইরে যেতে, অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে কিংবা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হয়নি।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

গত ৪ জুন একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ বিশেষ নারী পুলিশ দল গঠন করে। প্রাথমিক তদন্তের জন্য সদস্যরা ছদ্মবেশে এলাকায় যান এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পরে নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে হাসনাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল বলে জানা গেছে।

Police in southern Pakistan shoot dead blasphemy suspect | Pakistan | The  Guardian

হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে

উদ্ধারের পর হাসনাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য নিবিড় চিকিৎসা দিচ্ছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বন্দিদশার কারণে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা

ঘটনার পর হাসনার বাবা, মা এবং কয়েক ভাইসহ পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাবা ও এক ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এই ঘটনা এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে একজন নারীকে এভাবে বন্দি করে রাখার অভিযোগ মানবাধিকার ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনঃ ভারতের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে কমতে শুরু করবে 

১২ বছর শিকলে বন্দি নারী উদ্ধার, বাবা-ভাই গ্রেপ্তার

০২:৪৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

পাকিস্তানের বাহাওয়ালনগর জেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার পর্দা উঠেছে। প্রায় ১২ বছর ধরে একটি ঘরে বন্দি ও শিকলবন্দি করে রাখা এক নারীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নারীর বাবা ও এক ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

প্রেমের বিয়ের পর শুরু বন্দিজীবন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩২ বছর বয়সী হাসনা বিবি ১২ বছর আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে ভিন্ন জাতের এক যুবককে বিয়ে করেছিলেন। আদালতের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হলেও পরিবারের চাপে এক সপ্তাহ পর তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।

এরপর পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব খাটিয়ে ওই বিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকেই হাসনাকে পরিবারের সদস্যরা একটি ছোট ঘরে আটকে রাখে। দীর্ঘ সময় তাকে লোহার শিকলে বেঁধে রাখা হয় এবং বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হতো।

বৈষম্যহীন মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সবার অধিকার | প্রথম আলো

অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বছরের পর বছর হাসনাকে স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়। তার জন্য কোনো আলাদা শৌচাগারের ব্যবস্থা ছিল না। পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বাস্থ্য এতটাই ভেঙে পড়েছিল যে একপর্যায়ে তিনি নিজের শক্তিতে চলাফেরা করতে পারছিলেন না। পরে শিকল খুলে দেওয়া হলেও তাকে ঘরের বাইরে যেতে, অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে কিংবা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হয়নি।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান

গত ৪ জুন একটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ বিশেষ নারী পুলিশ দল গঠন করে। প্রাথমিক তদন্তের জন্য সদস্যরা ছদ্মবেশে এলাকায় যান এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পরে নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে অভিযান চালিয়ে হাসনাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল বলে জানা গেছে।

Police in southern Pakistan shoot dead blasphemy suspect | Pakistan | The  Guardian

হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে

উদ্ধারের পর হাসনাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য নিবিড় চিকিৎসা দিচ্ছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বন্দিদশার কারণে তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা

ঘটনার পর হাসনার বাবা, মা এবং কয়েক ভাইসহ পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাবা ও এক ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এই ঘটনা এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে একজন নারীকে এভাবে বন্দি করে রাখার অভিযোগ মানবাধিকার ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।