পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে টানা ধাক্কার মুখে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস এখন কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পথে এগোচ্ছে বলে নতুন রাজনৈতিক ইঙ্গিত মিলেছে। এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে দুই দলের একীভূত হওয়ার জল্পনাকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিরোধী দলগুলোর সমন্বয় এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। রাহুল গান্ধীর ভোট চুরির অভিযোগসংক্রান্ত মন্তব্য নিয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
মমতা-সোনিয়া বৈঠকের পর নতুন বার্তা
অভিষেক-রাহুল বৈঠকের মাত্র একদিন আগে দিল্লিতে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিট বৈঠক করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত পাঁচ বছরে দুই নেত্রীর মধ্যে এটি ছিল প্রথম বৈঠক।
পরপর এই দুটি বৈঠক রাজনৈতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেই এই যোগাযোগ নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তৃণমূলের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
সাম্প্রতিক নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল একাধিক সাংগঠনিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। দলের ৭৮ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৯ জন বিদ্রোহী শিবিরে চলে গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দুইজন বিধায়ক বহিষ্কৃত হয়েছেন। একই ধরনের বিভক্তির আশঙ্কা লোকসভাতেও দেখা যাচ্ছে। রাজ্যসভার ১৩ সদস্যের মধ্যে ইতোমধ্যে দুজন পদত্যাগ করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন তৃণমূলের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিভিন্ন নেতা।
জোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না তৃণমূল
গত ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা এড়িয়ে চললেও এবার তৃণমূল সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করছে না। দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা অভিষেক ও রাহুলের বৈঠককে “দৃঢ় রাজনৈতিক বোঝাপড়ার” প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। পরে ২০১২ সালে ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দুই দলের দূরত্ব বাড়তে থাকে।
কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া
কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী দুই দলের একীভূত হওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ধাক্কা খাওয়ার পর তৃণমূলের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।
তার মতে, দীর্ঘ সময় কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন বোধ না করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল সেই প্রয়োজন অনুভব করছে।
আরও বৈঠকের প্রস্তুতি
দুই দলের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। মমতা-সোনিয়া বৈঠকের শেষ পর্যায়ে দুই দলের মধ্যে আরও একটি বৈঠকের সিদ্ধান্তও হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিগগিরই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গেও তৃণমূল নেতৃত্বের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূল দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দল ডিএমকের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ অবশ্য এই বৈঠকগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের পুনরুজ্জীবনের জন্য দলটির নিজস্ব রাজনৈতিক কৌশলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
#তৃণমূল_কংগ্রেস #মমতা_বন্দ্যোপাধ্যায় #অভিষেক_বন্দ্যোপাধ্যায় #রাহুল_গান্ধী #কংগ্রেস #পশ্চিমবঙ্গ_রাজনীতি #ইন্ডিয়া_জোট #ভারতীয়_রাজনীতি #সারাক্ষণ_রিপোর্ট
Sarakhon Report 


















