নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২০ সালে মালির ক্ষমতা দখল করেছিল সামরিক বাহিনী। সে সময় বহু মানুষ বিশ্বাস করেছিলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা সহিংসতা ও জঙ্গি হামলার অবসান ঘটবে। কিন্তু ছয় বছর পর পরিস্থিতি উল্টো আরও জটিল ও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিদ্রোহী ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর নতুন জোট দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে দ্রুত প্রভাব বিস্তার করছে, আর রাজধানী বামাকোতেও বাড়ছে উদ্বেগ।
নতুন জোটে বদলে গেছে সংঘাতের চিত্র
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মালির উত্তরাঞ্চলে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছে জঙ্গি ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট। একদিকে রয়েছে ইসলামপন্থী সশস্ত্র সংগঠন, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই করা তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা। আগে এই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও এখন তারা কৌশলগতভাবে একসঙ্গে কাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট মালির বর্তমান সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেশটির সামরিক নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
রাশিয়ার সহায়তাও পরিস্থিতি বদলাতে পারেনি
ক্ষমতায় আসার পর সামরিক সরকার ফরাসি সেনাদের দেশ থেকে বের করে দেয় এবং তাদের পরিবর্তে রুশ ভাড়াটে যোদ্ধাদের সহায়তা গ্রহণ করে। তখন অনেকের আশা ছিল, এতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। নিরাপত্তা বাহিনী ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর কঠোর অভিযানের অভিযোগ রয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে নতুন করে অসন্তোষ ও চরমপন্থার বিস্তার ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রাজধানীর ওপরও বাড়ছে চাপ

জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো শুধু সামরিক হামলাই চালাচ্ছে না, অর্থনৈতিক চাপ তৈরির কৌশলও ব্যবহার করছে। প্রধান সড়কগুলোতে হামলা, পণ্যবাহী যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করার ফলে রাজধানী বামাকোতে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে।
অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণে সাম্প্রতিক ধর্মীয় উৎসবেও তারা শহরের বাইরে যেতে সাহস পাননি। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় এবং অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।
আলোচনার দাবি জোরালো হচ্ছে
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, বর্তমান সংঘাতের সামরিক সমাধান সম্ভব নয়। তাদের মতে, সরকার ও বিদ্রোহী পক্ষের মধ্যে সংলাপ শুরু না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
তবে সামরিক সরকার এখনো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনার পথ বেছে নিতে অনিচ্ছুক। সরকারের অবস্থান হলো, সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হবে না।

এই অবস্থার কারণে দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা আরও প্রাণহানি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে দিতে পারে।
সাধারণ মানুষের আস্থা কমছে
একসময় সামরিক সরকারের সমর্থক ছিলেন এমন অনেক মানুষও এখন হতাশা প্রকাশ করছেন। তাদের অভিযোগ, নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং হামলা বেড়েছে, অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়েছে।
ফলে মালির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সামরিক সরকার এখনো ক্ষমতায় থাকলেও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান শক্তি দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















