০৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

জার্মানির ছোট শহরে কট্টর ডানপন্থার উত্থান, অল্প ব্যবধানে হারলেন বিতর্কিত মেয়র প্রার্থী

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় আট দশক ধরে জার্মানির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নাৎসিবাদের প্রতি প্রত্যাখ্যান ছিল একটি মৌলিক নীতি। কিন্তু সম্প্রতি দেশটির একটি ছোট শহরের মেয়র নির্বাচন সেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐকমত্যকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

পূর্ব জার্মানির আউয়ে-বাদ শ্লেমা শহরের মেয়র নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী এক প্রার্থী অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলেও তার শক্তিশালী অবস্থান দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় ১৯ হাজার মানুষের এই শহরে তিনি শেষ পর্যন্ত ৪৭ শতাংশ ভোট পান, যেখানে বিজয়ী প্রার্থী পান ৫৩ শতাংশ ভোট।

বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল শুধু একটি স্থানীয় নির্বাচনের ঘটনা নয়; এটি জার্মান সমাজে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারও ইঙ্গিত।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নতুন সংকেত

A man wearing a dark green T-shirt with white text that reads, “Stefan Hartung.”

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে নাৎসি আদর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো রাজনৈতিক শক্তি কখনও সরাসরি কোনো শহরের মেয়র পদে নির্বাচিত হতে পারেনি। সেই প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনের ফলাফলকে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন।

যদিও বিতর্কিত প্রার্থী শেষ পর্যন্ত জয় পাননি, তবু প্রথম দফার ভোটে এগিয়ে থাকা এবং চূড়ান্ত লড়াইয়ে এতটা কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া অনেকের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

অভিবাসন ও স্থানীয় অসন্তোষের প্রভাব

নির্বাচনী প্রচারে শহরের জনসংখ্যা হ্রাস, অবকাঠামোর অবনতি এবং অভিবাসন ইস্যুকে সামনে আনা হয়। গত দুই দশকে শহরটিতে অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, জাতীয় নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলের সমস্যা যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। এই বঞ্চনার অনুভূতি কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির জন্য উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

People stand and sit at a bus stop. Residential buildings and a green hillside form the background, under a cloudy blue sky. In the foreground, a bus is next to a tree and foliage.

স্থানীয়দের একটি অংশের মতে, তাদের উদ্বেগ ও সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়নি। ফলে মূলধারার রাজনীতির বাইরে থাকা শক্তিগুলোর প্রতি সমর্থন বাড়ছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার

নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শহরের উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগকে আরও জোরালোভাবে সামনে আনা হয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য ও ঘটনার ব্যাখ্যা বাস্তব পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করেছে। তবে সমর্থকদের মতে, এসব বিষয় দীর্ঘদিন উপেক্ষিত ছিল বলেই মানুষ এখন সেগুলো নিয়ে বেশি কথা বলছে।

জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিফলন

Several people stand on a cobblestone street. An older woman using a walker stands next to a sign that reads, “Marcus Hoffmann.”

এই নির্বাচন জার্মানির বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। দেশজুড়ে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে এবং তারা বিভিন্ন জরিপে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য ধীরে ধীরে মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠছে। এর ফলে আগে যেসব মতাদর্শকে সমাজের বড় অংশ অগ্রহণযোগ্য মনে করত, সেগুলোর প্রতি কিছু ভোটারের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে।

আউয়ে-বাদ শ্লেমার নির্বাচন দেখিয়েছে যে জার্মানির রাজনৈতিক মানচিত্রে কট্টর ডানপন্থার প্রভাব এখন আর শুধু প্রান্তিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। যদিও বিতর্কিত প্রার্থী জয় পাননি, তার অর্জিত সমর্থন দেশটির রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

A close-up of a man in a green T-shirt holding a brown paper bag that with text that reads, “Stefan Hartung.” Another person in a red textured sweater carries a black purse on her arm.

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

জার্মানির ছোট শহরে কট্টর ডানপন্থার উত্থান, অল্প ব্যবধানে হারলেন বিতর্কিত মেয়র প্রার্থী

১০:৪৯:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রায় আট দশক ধরে জার্মানির রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নাৎসিবাদের প্রতি প্রত্যাখ্যান ছিল একটি মৌলিক নীতি। কিন্তু সম্প্রতি দেশটির একটি ছোট শহরের মেয়র নির্বাচন সেই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐকমত্যকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

পূর্ব জার্মানির আউয়ে-বাদ শ্লেমা শহরের মেয়র নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী এক প্রার্থী অল্প ব্যবধানে পরাজিত হলেও তার শক্তিশালী অবস্থান দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় ১৯ হাজার মানুষের এই শহরে তিনি শেষ পর্যন্ত ৪৭ শতাংশ ভোট পান, যেখানে বিজয়ী প্রার্থী পান ৫৩ শতাংশ ভোট।

বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল শুধু একটি স্থানীয় নির্বাচনের ঘটনা নয়; এটি জার্মান সমাজে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারও ইঙ্গিত।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নতুন সংকেত

A man wearing a dark green T-shirt with white text that reads, “Stefan Hartung.”

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে নাৎসি আদর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো রাজনৈতিক শক্তি কখনও সরাসরি কোনো শহরের মেয়র পদে নির্বাচিত হতে পারেনি। সেই প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচনের ফলাফলকে অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন।

যদিও বিতর্কিত প্রার্থী শেষ পর্যন্ত জয় পাননি, তবু প্রথম দফার ভোটে এগিয়ে থাকা এবং চূড়ান্ত লড়াইয়ে এতটা কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া অনেকের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

অভিবাসন ও স্থানীয় অসন্তোষের প্রভাব

নির্বাচনী প্রচারে শহরের জনসংখ্যা হ্রাস, অবকাঠামোর অবনতি এবং অভিবাসন ইস্যুকে সামনে আনা হয়। গত দুই দশকে শহরটিতে অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, জাতীয় নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব জার্মানির বিভিন্ন অঞ্চলের সমস্যা যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। এই বঞ্চনার অনুভূতি কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির জন্য উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

People stand and sit at a bus stop. Residential buildings and a green hillside form the background, under a cloudy blue sky. In the foreground, a bus is next to a tree and foliage.

স্থানীয়দের একটি অংশের মতে, তাদের উদ্বেগ ও সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা হয়নি। ফলে মূলধারার রাজনীতির বাইরে থাকা শক্তিগুলোর প্রতি সমর্থন বাড়ছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার

নির্বাচনী প্রচারে সামাজিক মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। শহরের উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগকে আরও জোরালোভাবে সামনে আনা হয়েছে।

সমালোচকদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য ও ঘটনার ব্যাখ্যা বাস্তব পরিস্থিতিকে অতিরঞ্জিত করেছে। তবে সমর্থকদের মতে, এসব বিষয় দীর্ঘদিন উপেক্ষিত ছিল বলেই মানুষ এখন সেগুলো নিয়ে বেশি কথা বলছে।

জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিফলন

Several people stand on a cobblestone street. An older woman using a walker stands next to a sign that reads, “Marcus Hoffmann.”

এই নির্বাচন জার্মানির বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি। দেশজুড়ে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে এবং তারা বিভিন্ন জরিপে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য ধীরে ধীরে মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠছে। এর ফলে আগে যেসব মতাদর্শকে সমাজের বড় অংশ অগ্রহণযোগ্য মনে করত, সেগুলোর প্রতি কিছু ভোটারের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে।

আউয়ে-বাদ শ্লেমার নির্বাচন দেখিয়েছে যে জার্মানির রাজনৈতিক মানচিত্রে কট্টর ডানপন্থার প্রভাব এখন আর শুধু প্রান্তিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই। যদিও বিতর্কিত প্রার্থী জয় পাননি, তার অর্জিত সমর্থন দেশটির রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

A close-up of a man in a green T-shirt holding a brown paper bag that with text that reads, “Stefan Hartung.” Another person in a red textured sweater carries a black purse on her arm.