১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
বাবা-মা হত্যার অভিযোগে কারাগারে, এবার ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ দাবি পরিচালকের ছেলের নাসির-তামিমার বিয়ে বৈধ, মামলায় খালাস পেলেন দুজনই ইরানে পানির সংকট, মার্কিন হামলায় ২০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ কাউন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস, কেন্টে খেলবেন হাসান মাহমুদ জন্মহার কমে সংকটে জাপান, পাঁচ বছরে জনসংখ্যা কমল ৩০ লাখের বেশি গাজায় বন্দি চিকিৎসকের নিঃসঙ্গ কারাবাস নিয়ে উদ্বেগ, ৫০০ দিনের বেশি সময়েও নেই অভিযোগ ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে লেবাননের প্রাচীন শহর টাইর, নিহত ৮ ইরান যুদ্ধ, দুধের প্যাকেট, সার, বিদ্যুৎ, কোভিড-২ ও এবারের বাজেট ১৮ বছর বয়সেই সংসদ সদস্য, জার্সির তরুণ রাজনীতিককে শুভকামনা জানালেন ট্রাম্প প্রোটিনের চাহিদায় বিশ্ববাজারে চাপ, হুই ঘাটতির আশঙ্কায় উদ্বেগ

ব্রিটেনে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তিতেও অনড় সরকার

১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি এবং হোয়াইট হাউসের অসন্তোষ প্রকাশ সত্ত্বেও ব্রিটেন জানিয়েছে, দেশের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

ব্রিটিশ সরকারের প্রযুক্তিবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল স্পষ্টভাবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। তার মতে, ব্রিটিশ পরিবার ও শিশুদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যা প্রয়োজন, সরকার সেটিই করবে।

শিশুদের সুরক্ষায় নতুন পদক্ষেপ

আগামী সপ্তাহেই ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন নিয়ম ঘোষণা করা হতে পারে। এর পাশাপাশি অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

White House urges UK not to ban social media for under-16s | Social media  ban | The Guardian

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথনমূলক ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। সরকারের ধারণা, অনলাইন পরিবেশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি

অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে একটি সরকারি পরামর্শ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার মতামত দিয়ে বলেছে, শিশুদের সুরক্ষার জন্য এক ধরনের বাধ্যতামূলক সরকারি বিধিনিষেধ সব ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। তাদের মতে, প্রযুক্তিগতভাবে বয়স নির্ধারণের বর্তমান পদ্ধতিগুলো আরও কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সহজে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

লন্ডনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও সতর্ক করে বলেছে, এমন নিয়ম যেন আমেরিকান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে কিংবা একই ধরনের সেবার মধ্যে বৈষম্য না তৈরি করে।

বিনিয়োগ নিয়ে সরকারের আত্মবিশ্বাস

White House urges UK not to ban social media for under-16s | Social media  ban | The Guardian

সমালোচকদের একাংশের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে ব্রিটেনে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। তবে লিজ কেন্ডাল এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রিটেনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে। বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে

অনলাইন নিরাপত্তা আইন নিয়ে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কিছুদিন ধরেই মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং আইনপ্রণেতা ব্রিটেনের অনলাইন নিয়ন্ত্রণ নীতির সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার বলছে, শিশুদের সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তারা আপস করবে না। সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং সেই লক্ষ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Don't ban social media for under-16s, White House tells UK as Trump weighs  in on British politics again | LBC

আইনি চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা

নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বড় কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তোলার নজির রয়েছে।

তবে শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন মনে করছে, সরাসরি নিষেধাজ্ঞার বদলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অ্যালগরিদমের ব্যবহার সীমিত করার মতো বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা উচিত। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ ব্যর্থ হলে তবেই কঠোর নিষেধাজ্ঞার পথে যাওয়া যেতে পারে।

ব্রিটিশ সরকার এখন এমন একটি নীতি তৈরির চেষ্টা করছে, যা একদিকে শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে, অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের পরিবেশও বজায় রাখবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা-মা হত্যার অভিযোগে কারাগারে, এবার ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ দাবি পরিচালকের ছেলের

ব্রিটেনে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা, যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তিতেও অনড় সরকার

১১:১২:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কড়া বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি এবং হোয়াইট হাউসের অসন্তোষ প্রকাশ সত্ত্বেও ব্রিটেন জানিয়েছে, দেশের শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।

ব্রিটিশ সরকারের প্রযুক্তিবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী লিজ কেন্ডাল স্পষ্টভাবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন নন। তার মতে, ব্রিটিশ পরিবার ও শিশুদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যা প্রয়োজন, সরকার সেটিই করবে।

শিশুদের সুরক্ষায় নতুন পদক্ষেপ

আগামী সপ্তাহেই ১৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন নিয়ম ঘোষণা করা হতে পারে। এর পাশাপাশি অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

White House urges UK not to ban social media for under-16s | Social media  ban | The Guardian

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথনমূলক ব্যবস্থার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। সরকারের ধারণা, অনলাইন পরিবেশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি

অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে একটি সরকারি পরামর্শ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার মতামত দিয়ে বলেছে, শিশুদের সুরক্ষার জন্য এক ধরনের বাধ্যতামূলক সরকারি বিধিনিষেধ সব ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। তাদের মতে, প্রযুক্তিগতভাবে বয়স নির্ধারণের বর্তমান পদ্ধতিগুলো আরও কম বয়সী ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে সহজে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়।

লন্ডনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও সতর্ক করে বলেছে, এমন নিয়ম যেন আমেরিকান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে কিংবা একই ধরনের সেবার মধ্যে বৈষম্য না তৈরি করে।

বিনিয়োগ নিয়ে সরকারের আত্মবিশ্বাস

White House urges UK not to ban social media for under-16s | Social media  ban | The Guardian

সমালোচকদের একাংশের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে ব্রিটেনে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। তবে লিজ কেন্ডাল এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্রিটেনে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে। বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে

অনলাইন নিরাপত্তা আইন নিয়ে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কিছুদিন ধরেই মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং আইনপ্রণেতা ব্রিটেনের অনলাইন নিয়ন্ত্রণ নীতির সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার বলছে, শিশুদের সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে তারা আপস করবে না। সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তরুণদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং সেই লক্ষ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Don't ban social media for under-16s, White House tells UK as Trump weighs  in on British politics again | LBC

আইনি চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা

নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বড় কিছু প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি তোলার নজির রয়েছে।

তবে শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা কয়েকটি সংগঠন মনে করছে, সরাসরি নিষেধাজ্ঞার বদলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অ্যালগরিদমের ব্যবহার সীমিত করার মতো বিকল্প ব্যবস্থাও বিবেচনা করা উচিত। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ ব্যর্থ হলে তবেই কঠোর নিষেধাজ্ঞার পথে যাওয়া যেতে পারে।

ব্রিটিশ সরকার এখন এমন একটি নীতি তৈরির চেষ্টা করছে, যা একদিকে শিশুদের অনলাইন ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে, অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের পরিবেশও বজায় রাখবে।