মার্কিন হামলার পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর সিরিকে দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার, যার ফলে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তীব্র গরমের মধ্যে এই পরিস্থিতি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি করেছে।
হামলার পর ভেঙে পড়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি দক্ষিণাঞ্চলের জাস্ক, সিরিক এবং হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে হামলা চালায়। ওই হামলায় সিরিক শহরের বেমানি ও কুহেস্তাক এলাকার পানি সরবরাহকারী দুটি প্রধান জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় পানি সরবরাহ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলাধার দুটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পুরো অঞ্চলের পানি বিতরণ নেটওয়ার্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ পানীয় জল পাওয়ার সুযোগ হারিয়েছেন।

তীব্র গরমে বাড়ছে দুর্ভোগ
বর্তমানে এলাকাটিতে তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। এমন চরম আবহাওয়ার মধ্যে পানির সংকট স্থানীয় মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপদ পানির অভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
বিকল্প ব্যবস্থার চেষ্টা
হরমোজগান প্রদেশের পানি বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবদুলহামিদ হামজেহপুর জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর জন্য বিকল্প পানি সরবরাহের ব্যবস্থা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তবে স্থানীয় ভূগর্ভস্থ পানির মজুত পর্যাপ্ত নয়, ফলে সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা কঠিন হতে পারে।

প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন গ্রামে পানি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে অবকাঠামোগত ক্ষতি বড় হওয়ায় স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উত্তেজনা আরও বেড়েছে
মার্কিন হামলার ঘটনায় তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, এই হামলা ভিত্তিহীন অজুহাতে পরিচালিত হয়েছে। এর জবাবে দেশটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে, যা বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাবও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সিরিকের পানি সংকট সেই বাস্তবতারই একটি বড় উদাহরণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















