১২:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা চীনা ব্যবসায়ীর ১ কোটি টাকা নিয়ে চালক উধাও, মেসেজে লিখলেন ‘আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি’ কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ৩৮ বাংলাদেশি, ফেরার অপেক্ষায় আরও ১,৮০০ অস্ত্রের মুখে বিকাশকর্মীর ৩ লাখ টাকা ছিনতাই, পালাল ৬ দুর্বৃত্ত নেপালে বন্যার তাণ্ডব: ‘নিখোঁজদের দেয়ালে’ স্বজন খুঁজছেন হাজারো মানুষ ভারতের ৭.৮% জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে কেন উঠছে প্রশ্ন? নেপালের বন্যাবিধ্বস্ত উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ ছাড়া কিছুই নেই ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ নয়, প্রকৃত তথ্য জানাল পুলিশ সাভারে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু মিশেল কোগান: মিশেলিন তারকা পাওয়া রাঁধুনি, যাঁর পাই এখন নিউইয়র্কে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি: ১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, অপেক্ষায় আরও ১,৮০০

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্ত ও অভিবাসন ইস্যুতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজ্য সরকার দাবি করেছে, মোট ১০ হাজার ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে’ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১ হাজার ৮০০ জনকে বহিষ্কারের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৮০০ জন বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে সরকারের দাবি

বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এছাড়া আরও ১ হাজার ৮০০ জনকে ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে, যাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পুশ ইন' ইস্যুতে বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্যে অস্বীকৃতি শুভেন্দু অধিকারীর

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসন নিয়মিতভাবে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বৈধ নাগরিকদের জন্য আশ্বাস

বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভারতের বৈধ নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রকৃত নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি আরও জানান, যেসব ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ভারত ত্যাগ করতে চান, তাদের জন্য হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে ফিরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হবে না।

ক্ষমতা গ্রহণের পর জোরদার অভিযান

গত ৯ মে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই অনুপ্রবেশবিরোধী অভিযান আরও সক্রিয় করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে দ্রুত হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরকারের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উভয় ধরনের পদক্ষেপ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সীমান্তের কাঁটাতার : ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে এই বিতর্কিত বেড়া কীসের, কেন আর কবে থেকে? - BBC News বাংলা

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কাজ

শুভেন্দু অধিকারী জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে ১৪২ একর জমি হস্তান্তর করেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আগের প্রশাসন রাজনৈতিক কারণে বিএসএফকে জমি দিতে অনাগ্রহী ছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ২ হাজার ২১৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৪৭ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার এলাকায় ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

অবশিষ্ট অংশেও দ্রুত বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে বলে বিধানসভায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি: ১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, অপেক্ষায় আরও ১,৮০০

০২:২৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্ত ও অভিবাসন ইস্যুতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এরই মধ্যে রাজ্য সরকার দাবি করেছে, মোট ১০ হাজার ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে’ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১ হাজার ৮০০ জনকে বহিষ্কারের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ৮০০ জন বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে সরকারের দাবি

বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার অবৈধ অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এছাড়া আরও ১ হাজার ৮০০ জনকে ১২টি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে, যাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

পুশ ইন' ইস্যুতে বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্যে অস্বীকৃতি শুভেন্দু অধিকারীর

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসন নিয়মিতভাবে অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বৈধ নাগরিকদের জন্য আশ্বাস

বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ভারতের বৈধ নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রকৃত নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি আরও জানান, যেসব ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ভারত ত্যাগ করতে চান, তাদের জন্য হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে ফিরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হবে না।

ক্ষমতা গ্রহণের পর জোরদার অভিযান

গত ৯ মে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকেই অনুপ্রবেশবিরোধী অভিযান আরও সক্রিয় করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে দ্রুত হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটকের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরকারের দাবি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত উভয় ধরনের পদক্ষেপ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সীমান্তের কাঁটাতার : ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে এই বিতর্কিত বেড়া কীসের, কেন আর কবে থেকে? - BBC News বাংলা

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কাজ

শুভেন্দু অধিকারী জানান, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতোমধ্যে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে ১৪২ একর জমি হস্তান্তর করেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আগের প্রশাসন রাজনৈতিক কারণে বিএসএফকে জমি দিতে অনাগ্রহী ছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন করেছে।

পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ সীমান্ত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একটি বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ২ হাজার ২১৬ দশমিক ৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৪৭ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার এলাকায় ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

অবশিষ্ট অংশেও দ্রুত বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে বলে বিধানসভায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।