দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকার পর আবারও পেশাদার ফুটবলে ফিরলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি তারকা রোনালদিনহো। ৪৬ বছর বয়সে ইতালির সিরি সি ক্লাব রাভেন্নার সঙ্গে চুক্তি করে ফুটবলপ্রেমীদের চমকে দিয়েছেন সাবেক এই বিশ্বকাপজয়ী।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাভেন্না ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে রোনালদিনহোর নাম ঘোষণা করে। ক্লাবের জার্সি হাতে তুলে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা, যিনি একসময় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দক্ষ ফুটবলারদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ফুটবলে ফেরার উচ্ছ্বাস
নিজের প্রত্যাবর্তন নিয়ে রোনালদিনহো বলেন, তিনি আবারও বল নিয়ে নাচতে মুখিয়ে আছেন। ফুটবল সবসময়ই তার কাছে আনন্দের উৎস ছিল এবং সেই আনন্দের অনুভূতিই তিনি রাভেন্নার সমর্থকদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান।
বিশ্ব ফুটবলে সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং দক্ষতা এবং দর্শক মাতানো খেলায় অনন্য রোনালদিনহোর এই প্রত্যাবর্তন ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের কাছে এটি কেবল একজন খেলোয়াড়ের ফেরা নয়, বরং ফুটবলের এক সোনালি যুগের স্মৃতির পুনর্জাগরণ।
রাভেন্নার বড় প্রত্যাশা
রাভেন্না ক্লাবের মালিক ইগনাজিও সিপ্রিয়ানি, যিনি বিখ্যাত সিপ্রিয়ানি রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত, জানিয়েছেন যে ছোটবেলা থেকেই রোনালদিনহো তার প্রিয় ফুটবলার ছিলেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তির উপস্থিতি নতুন প্রজন্মের সমর্থকদের রাভেন্নার প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং ক্লাবের জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিপ্রিয়ানির মতে, রোনালদিনহোর মতো একজন বিশ্বখ্যাত ফুটবলারের সম্পৃক্ততা ক্লাবের জন্য শুধু ক্রীড়া নয়, সাংগঠনিক ও সমর্থকভিত্তিক দিক থেকেও বড় সুযোগ তৈরি করবে।
এক দশকের বেশি সময় পর মাঠে
রোনালদিনহো সর্বশেষ পেশাদার ফুটবল খেলেছিলেন ২০১৫ সালে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের হয়ে। এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেন এবং বিভিন্ন প্রদর্শনী ম্যাচ ও ফুটবল-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অংশ নিলেও পেশাদার পর্যায়ে আর মাঠে নামেননি।
রাভেন্নায় যোগদানের মাধ্যমে ইতালিয়ান ফুটবলে এটি তার দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হলো। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি এসি মিলানের জার্সিতে খেলেছিলেন এবং ইতালির শীর্ষ লিগে নিজের প্রতিভার ছাপ রেখেছিলেন।
গৌরবময় ক্যারিয়ার
রোনালদিনহোকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০২ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এছাড়া দুইবার ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন এবং ২০০৫ সালে অর্জন করেন মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর।
তার ক্যারিয়ারের অসাধারণ সাফল্য, অনন্য নৈপুণ্য এবং দর্শকনন্দিত খেলার ধরন তাকে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে বিশেষ স্থান এনে দিয়েছে। আর সেই কারণেই ৪৬ বছর বয়সে তার এই প্রত্যাবর্তন শুধু রাভেন্না নয়, গোটা ফুটবল বিশ্বের জন্যই একটি আলোচিত ঘটনা হয়ে উঠেছে।
রোনালদিনহোর ৪৬ বছর বয়সে ইতালির সিরি সি ক্লাব রাভেন্নায় যোগ দিয়ে পেশাদার ফুটবলে ফেরার সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে আলোচনায়।
#রোনালদিনহো #ব্রাজিলফুটবল #রাভেন্না #ইতালিয়ানফুটবল #ফুটবল #বিশ্বকাপ #ব্যালনডিঅর #SportsNews #FootballNews #BrazilFootball
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















