দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধিনিষেধ বাস্তবসম্মত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
বুধবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিজিএমইএর একটি প্রতিনিধি দল এ দাবি তুলে ধরে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সাবেক বিটিএমএ সভাপতি এ. মতিন চৌধুরী, বিজিএমইএর পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা এবং কিংসলে সিইও মো. আশিকুর রহমান।
বাস্তবসম্মত পরিবেশগত মানদণ্ডের দাবি
বৈঠকে পোশাক খাতের নেতারা পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তারা জানান, “পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩”-এর কিছু শর্ত বাস্তবায়নে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে উল্লেখযোগ্য কারিগরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বিশেষ করে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) থেকে নির্গত পানির রঙ সংক্রান্ত বর্তমান মানদণ্ড দেশের বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামোর জন্য অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন বলে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে বিজ্ঞানভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত মানদণ্ড নির্ধারণের অনুরোধ জানায় বিজিএমইএ।
জিরো লিকুইড ডিসচার্জে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব
জিরো লিকুইড ডিসচার্জ (জেডএলডি) ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বিজিএমইএ ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ার প্রস্তাব দেয়। বর্তমানে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়নের জন্য যে বাধ্যতামূলক অঙ্গীকারপত্রের শর্ত রয়েছে, তার পরিবর্তে কর্মসম্পাদনভিত্তিক একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়।
একই সঙ্গে জেডএলডি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে পানি সাশ্রয়ী নির্দেশিকা প্রণয়ন, জেডএলডি যন্ত্রপাতির ওপর ভ্যাট ও শুল্ক ছাড় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ডের আওতায় বিশেষ “জেডএলডি উইন্ডো” চালুর দাবি জানানো হয়।
স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি ছাড়পত্র ব্যবস্থার প্রস্তাব
পরিবেশগত নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতে ‘মিরর টেস্টিং’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও দেয় বিজিএমইএ। পাশাপাশি যেসব কারখানা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত বিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছে, তাদের জন্য ঝুঁকিভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) নবায়ন কাঠামো চালুর আহ্বান জানানো হয়।
বন অধ্যাদেশ ও বায়ুমান মূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগ
প্রতিনিধি দল জানায়, “বন অধ্যাদেশ ২০২৬”-এর আওতায় প্রয়োজনীয় বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন না হওয়ায় শিল্পকারখানার জমি ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ সমস্যা দ্রুত নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিধি চূড়ান্ত করার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া বায়ুমান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বাইরের দূষণের উৎস এবং চরম আবহাওয়ার কারণে পরিবেশগত সূচকে যে ওঠানামা হয়, সেগুলো বিবেচনায় রেখে ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন পদ্ধতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকারের ইতিবাচক সাড়া
উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উল্লেখ করে বিজিএমইএর প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, শিল্পের সক্ষমতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে যৌক্তিক ও বাস্তবমুখী কাঠামোর মাধ্যমে উত্থাপিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে।
পোশাক খাতে পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স সহজ করতে সরকারের কাছে বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানভিত্তিক নীতিমালার দাবি জানিয়েছে বিজিএমইএ।
#BGMEA #RMGSector #GarmentIndustry #EnvironmentCompliance #TextileIndustry #BangladeshEconomy #ZLD #ECC #EnvironmentalPolicy #BangladeshBusiness
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















