প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পর সৌদি আরবের রস তানুরা টার্মিনাল থেকে আবারও অপরিশোধিত তেল লোডিং শুরু করেছে সৌদি আরামকো। শুক্রবার প্রকাশিত শিপিং তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টায় নতুন গতি এনেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশা আরও জোরালো হয়েছে।
রস তানুরা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানি কেন্দ্র। সেখানে বর্তমানে সৌদি শিপিং প্রতিষ্ঠান বাহরির নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) তেল বোঝাই করছে এবং আরেকটি জাহাজ কাছাকাছি অপেক্ষা করছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
যুদ্ধ ও অবরোধের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সংকটের কারণে মার্চের পর থেকে রস তানুরা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ৮ মার্চ চীনের উদ্দেশে এই বন্দর থেকে তেল রপ্তানি হয়েছিল। পরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরবকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি পরিচালনা করতে হয়।
সংঘাতের সময় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রস তানুরায় অবস্থিত সৌদি আরবের দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল সক্ষমতার বৃহত্তম দেশীয় শোধনাগারও বন্ধ রাখা হয়েছিল।
রপ্তানিতে বড় ধাক্কা
যুদ্ধ ও পরিবহন সংকটের কারণে গত তিন মাসে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফেব্রুয়ারিতে যেখানে দেশটির রপ্তানি ৭০ লাখ ব্যারেল প্রতিদিনের বেশি ছিল, সেখানে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা নেমে আসে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল প্রতিদিনে।
সংঘাত শুরুর আগে রস তানুরা বন্দর থেকেই প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল রপ্তানি হতো। ফলে এই বন্দরের পুনরায় কার্যক্রম শুরু হওয়া বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজে উদ্বেগ এখনো কাটেনি
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে তাইওয়ানের একটি কার্গো জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পরপরই ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সংস্থা ইউকেএমটিও প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ এসকর্ট কার্যক্রম স্থগিত করে।
মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, জাহাজটির ওপর ইরান গুলি চালিয়েছিল। অন্যদিকে ইরানের প্রণালি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচলকারী জাহাজকে নিরাপদ যাত্রার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না।
সরবরাহ বাড়ায় কমছে তেলের দাম
সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির ফলে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এক ডলারেরও বেশি কমেছে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পরিবহনও সাম্প্রতিক সপ্তাহে সংঘাত শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
একই সময়ে ইরাক, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অতিরিক্ত তেল বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় ইরানও দ্রুত রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। শুক্রবার দুটি খালি সুপারট্যাঙ্কার ইরানি তেল বোঝাইয়ের উদ্দেশ্যে উপসাগরে প্রবেশ করেছে।
জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির বিশ্লেষকদের মতে, গত তিন সপ্তাহে অঞ্চলজুড়ে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল দৈনিক উৎপাদন আবার চালু হয়েছে। তাদের ধারণা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।
হরমুজ সংকটের পর রস তানুরা থেকে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরছে, সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশা জোরদার হয়েছে।
#হরমুজ_প্রণালি #সৌদি_আরব #সৌদি_আরামকো #তেল_বাজার #জ্বালানি #রস_তানুরা #মধ্যপ্রাচ্য #বিশ্বঅর্থনীতি #ক্রুডঅয়েল
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















