০৮:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও তীব্র, ড্রোন হামলার অভিযোগে উদ্বেগে উপসাগরীয় অঞ্চল নড়াইলে ঐচ্ছিক অনুদান বিতর্ক: তালিকায় দুইবার এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম, ব্যাখ্যায় পিএসকে দায়ী করলেন সংসদ সদস্য সরকারি তথ্য এবার বিভিন্ন ভাষায়, এআই অনুবাদ চালু করল সিঙ্গাপুর দেশীয় টায়ার শিল্প সুরক্ষায় ২০% শুল্ক বহাল রাখার দাবি, আমদানিকারকদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান নিবন্ধন কমছে, দামও পড়ছে: ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা নামাজের সময় মাগুরায় হামলা-লুটপাট, ভাঙচুর ২০টি বাড়িতে আমেরিকার ২৫০ বছর: নতুন রূপে স্বাধীনতার প্রতীক, টাইমের প্রচ্ছদে ইতিহাসের গল্প নতুন বৈশ্বিক বিনিয়োগ করিডোর গড়ে আফ্রিকার প্রবেশদ্বার হতে চায় মরিশাস শান্তি নাকি নতুন সংঘাতের বিরতি? যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা নতুন প্রযুক্তি বনাম বাস্তব বন্ধুত্ব: ‘টয় স্টোরি ৫’ নিয়ে গ্রেটা লির ব্যতিক্রমী ভাবনা

নতুন স্নায়ুযুদ্ধের ভয়, নাকি কূটনৈতিক কল্পনা?

চীন-রাশিয়া সম্পর্ককে ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী ধারণা প্রচলিত রয়েছে—বিশ্ব রাজনীতিতে তারা একত্রে এমন একটি জোট গড়ে তুলছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ওয়াশিংটনের বহু নীতিনির্ধারক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকের কাছে এই সম্পর্ক যেন একটি নতুন “স্বৈরশাসকদের অক্ষশক্তি”-র পূর্বাভাস। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এতটা সরল?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সামরিক সহযোগিতায় দুই দেশের যোগাযোগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় গভীর। তবু এই ঘনিষ্ঠতাকে পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়তো বাস্তবতাকে অতিরঞ্জিত করে দেখার শামিল।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস বলে, ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব আর আনুষ্ঠানিক জোট এক বিষয় নয়। একটি প্রকৃত জোটে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার, সমন্বিত সামরিক কাঠামো এবং সংকটকালে একে অপরের পক্ষে সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রতিশ্রুতি থাকে। চীন ও রাশিয়ার বর্তমান সম্পর্ক সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বরং এটি এমন এক ধরনের কৌশলগত সহযোগিতা, যা পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং যার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট।

ইউক্রেন যুদ্ধ সেই সীমাবদ্ধতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বেইজিং মস্কোকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিলেও যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি সামরিক সমর্থন দেয়নি। যদি চীন অস্ত্র বা গোলাবারুদ সরবরাহে সক্রিয় হতো, তাহলে সংঘাতের সামরিক ভারসাম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারত। কিন্তু তা ঘটেনি। এই বাস্তবতা দেখায় যে দুই দেশের স্বার্থ সবক্ষেত্রে এক নয় এবং তারা পরস্পরের জন্য সীমাহীন ঝুঁকি নিতে প্রস্তুতও নয়।

চীন ও রাশিয়ার মধ্যে দূরত্বের কারণ শুধু বর্তমান রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ নয়; এর পেছনে রয়েছে ইতিহাসের শিক্ষাও। ১৯৫০-এর দশকে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কমিউনিস্ট জোট শেষ পর্যন্ত গভীর অবিশ্বাস, মতাদর্শগত সংঘাত এবং সীমান্ত উত্তেজনায় রূপ নিয়েছিল। অতীতের সেই অভিজ্ঞতা উভয় রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের স্মৃতিতে এখনও জীবন্ত। ফলে তারা এমন কোনো কাঠামো গড়তে সতর্ক, যা আবারও নির্ভরশীলতা বা আধিপত্যের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

Proponents of the 'New Cold War' Misread the Dangers of the Old One – The  Diplomat

আজকের বাস্তবতায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো শক্তির ভারসাম্য। একসময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল বড় অংশীদার এবং চীন ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল। এখন পরিস্থিতি উল্টো। অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক প্রভাবের বিচারে চীন অনেক এগিয়ে। এই অসমতা রাশিয়ার জন্য অস্বস্তির কারণ হওয়াই স্বাভাবিক। বিশেষ করে যখন দেশটি পশ্চিম সীমান্তে ন্যাটোর চাপ এবং পূর্বাঞ্চলে জনসংখ্যাগত সংকটের মতো সমস্যার মুখোমুখি।

এছাড়া দুই দেশের ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকারও এক নয়। দক্ষিণ চীন সাগরে রাশিয়ার কোনো মৌলিক স্বার্থ নেই। একইভাবে বাল্টিক বা কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের সংঘাতে চীনের অংশগ্রহণের তেমন কোনো প্রয়োজন দেখা যায় না। কিছু ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান মিললেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে তাদের কৌশলগত হিসাব আলাদা।

তবু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—যদি সম্পর্কটি এত সীমিত হয়, তাহলে কেন চীন ও রাশিয়া আরও কাছাকাছি এসেছে? এর উত্তর খুঁজতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির দিকে তাকাতে হয়। গত কয়েক দশকে ওয়াশিংটন একই সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে, ন্যাটো সম্প্রসারণ করেছে এবং পূর্ব এশিয়ায় জোটভিত্তিক প্রতিরোধ কৌশল জোরদার করেছে। বেইজিং ও মস্কোর দৃষ্টিতে এসব পদক্ষেপ তাদের নিরাপত্তা পরিবেশকে ক্রমশ সংকুচিত করেছে। ফলে পারস্পরিক সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তারা সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে উৎসাহিত হয়েছে।

এখানেই পশ্চিমা কৌশলগত আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা স্পষ্ট হয়। যখন কোনো সম্ভাব্য হুমকিকে বাস্তবতার চেয়ে বড় করে দেখা হয়, তখন সেই ধারণাই নীতিকে প্রভাবিত করে। ফলস্বরূপ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়ে, অস্ত্র প্রতিযোগিতা তীব্র হয় এবং সংঘাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, ভয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়া কৌশল শেষ পর্যন্ত সেই ভয়কেই বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করে।

চীন-রাশিয়া সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও তাই সবসময় ফলপ্রসূ নাও হতে পারে। বরং আরও কার্যকর পথ হতে পারে উভয় শক্তির সঙ্গে বাস্তববাদী ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তোলা। শীতল যুদ্ধের শেষ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র একযোগে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার যে কৌশল গ্রহণ করেছিল, তা বৈশ্বিক উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান বিশ্বেও একই ধরনের বহুমাত্রিক কূটনীতি নতুন বিভাজন তৈরির চেয়ে বেশি ফল দিতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়তো চীন-রাশিয়া সম্পর্ক নিজে নয়; বরং সেই সম্পর্ককে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা। যদি প্রতিটি সহযোগিতাকে সামরিক জোটের পূর্বাভাস এবং প্রতিটি মতবিরোধকে অস্তিত্বগত সংঘাত হিসেবে দেখা হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আরও অস্থির হয়ে উঠবে। অন্যদিকে বাস্তবতার আলোকে সম্পর্কগুলোর প্রকৃতি বোঝা গেলে প্রতিযোগিতার মধ্যেও স্থিতিশীলতা ও সংলাপের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আজকের বহুমেরু বিশ্বে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো আতঙ্ক নয়, বিচক্ষণতা। কারণ বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভুল হিসাবের মূল্য সবসময়ই অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও তীব্র, ড্রোন হামলার অভিযোগে উদ্বেগে উপসাগরীয় অঞ্চল

নতুন স্নায়ুযুদ্ধের ভয়, নাকি কূটনৈতিক কল্পনা?

০৬:৪১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

চীন-রাশিয়া সম্পর্ককে ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বে দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী ধারণা প্রচলিত রয়েছে—বিশ্ব রাজনীতিতে তারা একত্রে এমন একটি জোট গড়ে তুলছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ওয়াশিংটনের বহু নীতিনির্ধারক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকের কাছে এই সম্পর্ক যেন একটি নতুন “স্বৈরশাসকদের অক্ষশক্তি”-র পূর্বাভাস। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই এতটা সরল?

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। জ্বালানি, বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও সামরিক সহযোগিতায় দুই দেশের যোগাযোগ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় গভীর। তবু এই ঘনিষ্ঠতাকে পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়তো বাস্তবতাকে অতিরঞ্জিত করে দেখার শামিল।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাস বলে, ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব আর আনুষ্ঠানিক জোট এক বিষয় নয়। একটি প্রকৃত জোটে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার, সমন্বিত সামরিক কাঠামো এবং সংকটকালে একে অপরের পক্ষে সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রতিশ্রুতি থাকে। চীন ও রাশিয়ার বর্তমান সম্পর্ক সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বরং এটি এমন এক ধরনের কৌশলগত সহযোগিতা, যা পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং যার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট।

ইউক্রেন যুদ্ধ সেই সীমাবদ্ধতার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। বেইজিং মস্কোকে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিলেও যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি সামরিক সমর্থন দেয়নি। যদি চীন অস্ত্র বা গোলাবারুদ সরবরাহে সক্রিয় হতো, তাহলে সংঘাতের সামরিক ভারসাম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারত। কিন্তু তা ঘটেনি। এই বাস্তবতা দেখায় যে দুই দেশের স্বার্থ সবক্ষেত্রে এক নয় এবং তারা পরস্পরের জন্য সীমাহীন ঝুঁকি নিতে প্রস্তুতও নয়।

চীন ও রাশিয়ার মধ্যে দূরত্বের কারণ শুধু বর্তমান রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ নয়; এর পেছনে রয়েছে ইতিহাসের শিক্ষাও। ১৯৫০-এর দশকে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ কমিউনিস্ট জোট শেষ পর্যন্ত গভীর অবিশ্বাস, মতাদর্শগত সংঘাত এবং সীমান্ত উত্তেজনায় রূপ নিয়েছিল। অতীতের সেই অভিজ্ঞতা উভয় রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের স্মৃতিতে এখনও জীবন্ত। ফলে তারা এমন কোনো কাঠামো গড়তে সতর্ক, যা আবারও নির্ভরশীলতা বা আধিপত্যের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

Proponents of the 'New Cold War' Misread the Dangers of the Old One – The  Diplomat

আজকের বাস্তবতায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো শক্তির ভারসাম্য। একসময় সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল বড় অংশীদার এবং চীন ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল। এখন পরিস্থিতি উল্টো। অর্থনীতি, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক প্রভাবের বিচারে চীন অনেক এগিয়ে। এই অসমতা রাশিয়ার জন্য অস্বস্তির কারণ হওয়াই স্বাভাবিক। বিশেষ করে যখন দেশটি পশ্চিম সীমান্তে ন্যাটোর চাপ এবং পূর্বাঞ্চলে জনসংখ্যাগত সংকটের মতো সমস্যার মুখোমুখি।

এছাড়া দুই দেশের ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকারও এক নয়। দক্ষিণ চীন সাগরে রাশিয়ার কোনো মৌলিক স্বার্থ নেই। একইভাবে বাল্টিক বা কৃষ্ণ সাগর অঞ্চলের সংঘাতে চীনের অংশগ্রহণের তেমন কোনো প্রয়োজন দেখা যায় না। কিছু ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান মিললেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে তাদের কৌশলগত হিসাব আলাদা।

তবু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—যদি সম্পর্কটি এত সীমিত হয়, তাহলে কেন চীন ও রাশিয়া আরও কাছাকাছি এসেছে? এর উত্তর খুঁজতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির দিকে তাকাতে হয়। গত কয়েক দশকে ওয়াশিংটন একই সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছে, ন্যাটো সম্প্রসারণ করেছে এবং পূর্ব এশিয়ায় জোটভিত্তিক প্রতিরোধ কৌশল জোরদার করেছে। বেইজিং ও মস্কোর দৃষ্টিতে এসব পদক্ষেপ তাদের নিরাপত্তা পরিবেশকে ক্রমশ সংকুচিত করেছে। ফলে পারস্পরিক সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তারা সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে উৎসাহিত হয়েছে।

এখানেই পশ্চিমা কৌশলগত আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা স্পষ্ট হয়। যখন কোনো সম্ভাব্য হুমকিকে বাস্তবতার চেয়ে বড় করে দেখা হয়, তখন সেই ধারণাই নীতিকে প্রভাবিত করে। ফলস্বরূপ প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বাড়ে, অস্ত্র প্রতিযোগিতা তীব্র হয় এবং সংঘাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, ভয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়া কৌশল শেষ পর্যন্ত সেই ভয়কেই বাস্তবে রূপ দিতে সাহায্য করে।

চীন-রাশিয়া সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও তাই সবসময় ফলপ্রসূ নাও হতে পারে। বরং আরও কার্যকর পথ হতে পারে উভয় শক্তির সঙ্গে বাস্তববাদী ও সম্মানজনক সম্পর্ক গড়ে তোলা। শীতল যুদ্ধের শেষ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র একযোগে বেইজিং ও মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার যে কৌশল গ্রহণ করেছিল, তা বৈশ্বিক উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান বিশ্বেও একই ধরনের বহুমাত্রিক কূটনীতি নতুন বিভাজন তৈরির চেয়ে বেশি ফল দিতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়তো চীন-রাশিয়া সম্পর্ক নিজে নয়; বরং সেই সম্পর্ককে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা। যদি প্রতিটি সহযোগিতাকে সামরিক জোটের পূর্বাভাস এবং প্রতিটি মতবিরোধকে অস্তিত্বগত সংঘাত হিসেবে দেখা হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আরও অস্থির হয়ে উঠবে। অন্যদিকে বাস্তবতার আলোকে সম্পর্কগুলোর প্রকৃতি বোঝা গেলে প্রতিযোগিতার মধ্যেও স্থিতিশীলতা ও সংলাপের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আজকের বহুমেরু বিশ্বে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো আতঙ্ক নয়, বিচক্ষণতা। কারণ বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভুল হিসাবের মূল্য সবসময়ই অত্যন্ত ব্যয়বহুল।