শিশুদের জীবনে প্রযুক্তির বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে আলোচনা এখন বিশ্বজুড়েই। সেই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিতে যাচ্ছে জনপ্রিয় অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ‘টয় স্টোরি ৫’। ছবিটিতে নতুন এক চরিত্রে কণ্ঠ দিয়েছেন অভিনেত্রী Greta Lee গ্রেটা লি। এবার তিনি কোনো খেলনার নয়, বরং একটি শিক্ষামূলক ট্যাবলেট যন্ত্রের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আর এই চরিত্রকে ঘিরেই তিনি তুলে ধরেছেন সন্তান লালন-পালন, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা।
প্রযুক্তি নিয়ে অভিভাবকদের বাস্তবতা
গ্রেটা লি জানান, নতুন চরিত্রটির প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি দ্রুতই এতে যুক্ত হতে আগ্রহী হন। তবে চরিত্রের নকশা ও গল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর তিনি বুঝতে পারেন, এটি কেবল শিশুদের বিনোদনের গল্প নয়। বরং আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে শিশুদের জীবন ও সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে, সেটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে এসেছে।
দুই সন্তানের মা হিসেবে তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে অধিকাংশ অভিভাবক প্রযুক্তিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পক্ষে নন। বরং তারা চান সন্তানরা প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষ হয়ে উঠুক। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষায় শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবারে বদলে যাওয়া নিয়ম
গ্রেটার ভাষায়, তাদের পরিবারেও প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। শুরুতে সন্তানরা বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করলেও পরে তিনি ও তার পরিবার লক্ষ্য করেন, এতে শিশুদের পর্দার সামনে কাটানো সময় ধীরে ধীরে বেড়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে তারা এক ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন। আধুনিক স্মার্টফোনের পরিবর্তে বাড়িতে একটি ল্যান্ডলাইন ফোন স্থাপন করা হয়। তার মতে, এটি শিশুদের যোগাযোগের সুযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্যও একটি স্বস্তিদায়ক ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
ল্যান্ডলাইনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা
গ্রেটা জানান, শুরুতে তার সন্তানদের ফোন রিসিভ করার সাধারণ শিষ্টাচারও শেখাতে হয়েছিল। কারণ তারা আগে কখনও সেই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়নি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তারা অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
এখন সন্তানরা নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরাসরি যোগাযোগের আনন্দ উপভোগ করে। গ্রেটার মতে, এই অভিজ্ঞতা শিশুদের সামাজিক দক্ষতা বিকাশেও সহায়তা করেছে।

বন্ধুত্ব কি শুধু অনলাইনে সম্ভব?
প্রযুক্তির সমালোচনামূলক দিক একটি প্রযুক্তিনির্ভর বিনোদনমূলক গল্পে তুলে ধরা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গ্রেটা বলেন, বিষয়টি প্রযুক্তি ভালো না খারাপ—এমন সরল বিতর্ক নয়।
তার মতে, আসল প্রশ্ন হলো কীভাবে সত্যিকারের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। শুধুমাত্র বার্তা আদান-প্রদান বা ভার্চুয়াল যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পর্কের গভীরতা তৈরি করা কঠিন। শিশুদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, মুখোমুখি আলাপ এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও প্রয়োজন।
পর্দার বাইরের জীবন
অভিনয়ের বাইরে গ্রেটা লির জীবনও বেশ সাধারণ। তিনি জানান, একসময় তাদের বাড়িতে মুরগি পালন করা হতো। যদিও বিভিন্ন কারণে এখন আর সেই ব্যবস্থা নেই। ফ্যাশন সচেতনতার জন্য পরিচিত হলেও পারিবারিক জীবনে তিনি খুবই স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন।
তার সন্তানরা মাঝে মাঝে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার পরা পোশাক পরে দেখতে পছন্দ করে। এসব ছোট ছোট অভিজ্ঞতাকেই তিনি পারিবারিক জীবনের আনন্দময় অংশ হিসেবে দেখেন।
‘টয় স্টোরি ৫’-এর নতুন চরিত্রকে ঘিরে গ্রেটা লির বক্তব্য প্রযুক্তি ও মানবিক সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহ দেয়। তার মতে, প্রযুক্তি জীবনের অংশ হয়েই থাকবে, তবে বাস্তব বন্ধুত্ব, পরিবার এবং সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্ব কখনও কমে যাওয়া উচিত নয়।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে সন্তানদের সুস্থ বিকাশের জন্য পর্দার বাইরের সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার মূল্য যে এখনও অটুট, সেই বার্তাই যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে এই চলচ্চিত্র।
টয় স্টোরি ৫-এ গ্রেটা লির নতুন চরিত্র এবং সন্তানদের প্রযুক্তি ব্যবহারে তার বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















