০১:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
মস্তিষ্কের জন্য নতুন ওষুধের দিগন্ত, জিএলপি-১-এর পর এবার ওরেক্সিনের পালা জাপানের বিশাল ইয়েন বাণিজ্য: বিশ্বের সবচেয়ে বড় কারবারি এবার অবস্থান গুটোচ্ছে ট্রাম্পের চাপ, মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল কর্মসংস্থান—ফেডের নতুন প্রধানের সামনে পুরোনো সংকট সূচক তহবিল কি সত্যিই নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগ? সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজারে নতুন জাগরণ, বড় বাজার গড়ার স্বপ্ন চীনের ঋণবোমা সামলাতে গিয়ে নিজেরাই ডুবছে ঋণ উদ্ধারকারী প্রতিষ্ঠান চীনের হাতে এখন তেলের বাজারের রাশ, ওপেককে ছাপিয়ে নতুন শক্তি বেইজিং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বুনো পশ্চিম: অবিশ্বস্ত যন্ত্রমানবেই কি থমকে যাচ্ছে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ? এনভিডিয়া বনাম প্রযুক্তি জায়ান্ট: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন লড়াই লেকার্স বিক্রি: ক্রীড়া দুনিয়ায় বিনিয়োগের উন্মাদনার নতুন রেকর্ড

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধনকুবেরদের ৪৩০ বিলিয়ন ডলারের দান, বদলে যেতে পারে বিশ্বকল্যাণের মানচিত্র

সিলিকন ভ্যালিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান শুধু প্রযুক্তি খাতের চেহারাই বদলাচ্ছে না, বদলে দিতে যাচ্ছে দাতব্য কর্মকাণ্ডের পরিসরও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা, কর্মী ও বিনিয়োগকারীরা আগামী কয়েক বছরে শত শত বিলিয়ন ডলার দাতব্য কাজে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। হিসাব অনুযায়ী, কেবল দুটি বড় প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে প্রবেশের মাধ্যমেই প্রায় ৪৩০ বিলিয়ন ডলার দাতব্য খাতে আসতে পারে।

এ অর্থের পরিমাণ এতটাই বিশাল যে এটি আগের বড় দাতব্য উদ্যোগগুলোকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুল অর্থ কোথায় ব্যয় হবে এবং তা সত্যিই মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো সমাধানে কাজে লাগবে কি না।

দানের পরিমাণ বাড়লে কি প্রতিটি টাকার কার্যকারিতা কমবে

দাতব্য খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো কম খরচে বেশি মানুষের উপকার করা। ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে টিকা দেওয়ার আগে মশারি সরবরাহের মতো তুলনামূলক সস্তা উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু বিপুল পরিমাণ অর্থ যদি এসব সহজ ও কম খরচের উদ্যোগের চাহিদা পূরণ করে ফেলে, তখন আরও ব্যয়বহুল প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করতে হবে।

ফলে একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে যে অর্থ এখন প্রায় ৫ হাজার ডলার লাগে, ভবিষ্যতে তা ১৫ হাজার ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। দাতব্য খাতের কিছু বিশেষজ্ঞ অবশ্য এটিকে সংকট নয়, বরং ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তাদের যুক্তি, সহজলভ্য কার্যকর উদ্যোগে পর্যাপ্ত অর্থ পৌঁছে গেলে পরবর্তী ধাপে আরও কঠিন সমস্যার সমাধানে অর্থ ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

Silicon Valley's AI boom is remaking American charity

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পদে নতুন দাতব্য যুগ

শিল্পবিপ্লবের সময় অ্যান্ড্রু কার্নেগি, জন ডি রকফেলার ও হেনরি ফোর্ডের মতো ধনকুবেররা বিশ্ববিদ্যালয়, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন। ইন্টারনেট যুগে বিল ও মেলিন্ডা গেটস, মার্ক জাকারবার্গসহ প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা কৃষি, শিক্ষা ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের দাতব্য উদ্যোগ নেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সেই ধারার তৃতীয় এবং আরও বড় ঢেউ আসতে পারে। এ খাতের নতুন ধনীরা যেভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্ব বদলানোর চেষ্টা করেছেন, একই উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এখন বিশ্বের অসুস্থতা, দারিদ্র্য ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানেও অর্থ ঢালতে চাইছেন।

শুধু বিপুল অর্থ নয়, বদলাচ্ছে দানের দর্শনও

নতুন প্রজন্মের দাতাদের একটি অংশ এমন একটি দর্শনে বিশ্বাস করেন, যেখানে দানের অর্থ কোথায় সবচেয়ে বেশি মানুষের উপকার করবে তা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। এই চিন্তাধারায় বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রাণীকল্যাণের মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইতোমধ্যে সর্দি ও ফ্লুর ভাইরাসের টিকা তৈরির গবেষণায় ৫০ কোটি ডলারের একটি বড় অনুদান দেওয়া হয়েছে। ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে মশার জিনগত পরিবর্তন নিয়েও গবেষণায় অর্থ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর ম্যালেরিয়ায় প্রায় ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তাই এই ধরনের গবেষণায় বড় অর্থ বিনিয়োগের যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে।

প্রাণীকল্যাণও নতুন দাতাদের আগ্রহের একটি ক্ষেত্র। দ্রুত বেড়ে ওঠা মুরগির শারীরিক কষ্ট কমানো কিংবা মাছকে বৃহৎ পরিসরে মানবিকভাবে অচেতন করার মতো প্রকল্পেও অর্থ যেতে পারে।

নারীর ক্ষমতায়ন থেকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য—কিছু ক্ষেত্র পিছিয়ে পড়তে পারে

তবে দাতব্য অর্থ কোথায় দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্তের মধ্যেও বিতর্ক রয়েছে। যেসব প্রকল্পের ফল সহজে পরিমাপ করা যায়, সেগুলোর প্রতি নতুন দাতাদের আগ্রহ বেশি। ফলে নারীর ক্ষমতায়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ কিংবা সমাজের কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের মতো ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে কম অর্থ পেতে পারে।

কারণ এসব কাজের ফলাফল সংখ্যায় বা তাৎক্ষণিকভাবে মাপা কঠিন। অথচ সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগের গুরুত্ব অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদে প্রকাশ পায়।

AI Philanthropy: Billionaires Pledge Fortunes

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক দাতব্য কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো মানবসভ্যতার অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বেগ। নতুন দাতাদের কেউ কেউ মনে করেন, অত্যন্ত উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিন মানবজাতির জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এই কারণে নিরাপদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির গবেষণায় বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার গবেষণাতেও বড় অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু এখানেই বড় প্রশ্ন রয়েছে। মানবজাতি বিলুপ্ত না হলে কী হতো, আর বিলুপ্ত হলে কী হতো—এ দুটি পরিস্থিতির তুলনা করার বাস্তব সুযোগ নেই। ফলে নিরাপদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে প্রকৃতপক্ষে কতটা ফল পাওয়া যাচ্ছে, তা মাপা অত্যন্ত কঠিন।

এতে প্রমাণভিত্তিক দানের মূল দর্শনের সঙ্গেই এক ধরনের বিরোধ তৈরি হতে পারে।

দাতব্য নাকি প্রযুক্তি শিল্পের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা

আরেকটি আশঙ্কা হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত কিছু দান প্রকৃত জনকল্যাণের বদলে প্রযুক্তি শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করা সামাজিক সংগঠনগুলোকে দেওয়া অর্থ মানুষের উপকার করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এসব অনুদানের মাধ্যমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবার ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফলে দাতব্য কাজ এবং ব্যবসায়িক স্বার্থের সীমারেখা কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিপুল অর্থের সঙ্গে আসছে নতুন সংগঠন ও উচ্চ বেতন

এত বিপুল অর্থ দ্রুত বিতরণ করতে গিয়ে আরেকটি সমস্যা তৈরি হতে পারে। নতুন দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো আরও কর্মী নিয়োগ করছে এবং বেতন বাড়াচ্ছে।

সিলিকন ভ্যালির একটি অংশ অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্দিহান। তাদের যুক্তি, অতিরিক্ত আমলাতন্ত্র ও দুর্বল প্রণোদনার কারণে অনেক দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার হয় না।

অন্যদিকে দাতব্য খাতের পক্ষে যুক্তি হলো, দক্ষ কর্মীদের আকর্ষণ করতে হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো বেতন ও কর্মপরিবেশ দিতে হবে। ইতোমধ্যে কিছু সংস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখতে বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

How AI Will Change the Stock Market, Economy, and Jobs - Business Insider

৪৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির বড় অংশ আসতে পারে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দুটি বড় প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে প্রবেশ এই দাতব্য ঢেউয়ের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন প্রত্যাশা অনুযায়ী হলে তাদের প্রতিষ্ঠাতা, কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের হাতে বিপুল সম্পদ তৈরি হবে।

একটি প্রতিষ্ঠানের সাতজন সহপ্রতিষ্ঠাতা ইতোমধ্যে নিজেদের সম্পদের ৮০ শতাংশ দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাদের সম্মিলিত দানের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার কোটি ডলার হতে পারে। অন্যদিকে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দাতব্য তহবিলেও কয়েক হাজার কোটি ডলার জমা হতে পারে।

আরেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দাতব্য সংস্থার হাতে প্রায় ২৬ হাজার কোটি ডলার যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে প্রবেশ থেকে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি ডলার দাতব্য কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এটি প্রায় ২৫টি ফোর্ড ফাউন্ডেশনের সমান সম্পদ। ছোট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তাদের প্রতিশ্রুত অর্থ যোগ করলে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার ৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত দাতব্য অর্থ বিতরণ হতে পারে।

দ্রুত দান করার তাগিদ

তবে শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, অর্থ দ্রুত বাস্তব কাজে লাগানোও বড় চ্যালেঞ্জ। দাতব্য তহবিলের একটি অংশ এমন বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়, যেখানে আগে কর সুবিধা নেওয়া যায়, কিন্তু পরে সুবিধামতো অর্থ বিতরণ করা হয়। ফলে বিপুল অর্থ বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের তহবিলে ইতোমধ্যেই প্রায় ৩২৬ বিলিয়ন ডলার জমে আছে, যার বড় অংশ এখনও ব্যয় হয়নি।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক নতুন ধনীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নিজেদের সম্পদ অস্বাভাবিক দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় তাদের কেউ কেউ দ্রুত সেই অর্থ সমাজে ফিরিয়ে দিতে চাইছেন। ইতোমধ্যে কিছু কর্মী তাদের শেয়ার বিক্রি করে দাতব্য অর্থ ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

What is artificial intelligence and its capabilities

ভবিষ্যতে দাতব্য কাজের অর্থও বদলে যেতে পারে

সবচেয়ে আশাবাদী ধারণাটি হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিন রোগ ও দারিদ্র্য এতটাই কমিয়ে দিতে পারে যে দাতব্য কাজের মূল লক্ষ্যই বদলে যাবে।

এখন যেখানে মানুষের জীবন বাঁচানো, রোগ প্রতিরোধ বা ক্ষুধা দূর করাই অগ্রাধিকার, ভবিষ্যতে মানুষের জীবন আরও সুন্দর ও অর্থবহ করার প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। তখন দাতাদের ভাবতে হতে পারে জীবনের অর্থ, সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও মানুষের সুখ নিয়ে।

সেই ভবিষ্যতে হয়তো আবার নতুন নতুন প্রেক্ষাগৃহ, জাদুঘর কিংবা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের দাতব্য কর্মকাণ্ড শেষ পর্যন্ত শুধু মানুষকে বাঁচানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষকে আরও ভালোভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়ার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

সিলিকন ভ্যালির নতুন ধনীদের হাতে যে বিপুল সম্পদ জমা হচ্ছে, তা তাই কেবল অর্থের গল্প নয়। এটি আগামী দশকগুলোতে স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রাণীকল্যাণ, মানবসভ্যতার নিরাপত্তা এবং সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপুল সম্পদ যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাতব্য ঢেউ মানবকল্যাণের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। কিন্তু সেই অর্থ কতটা মানুষের কাজে লাগবে, আর কতটা প্রযুক্তি শিল্পের নিজস্ব স্বার্থে ফিরে যাবে—তার উত্তর নির্ভর করবে অর্থের পরিমাণের চেয়ে বেশি, দাতাদের সিদ্ধান্ত ও জবাবদিহির ওপর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানবকল্যাণের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সম্ভবত এখানেই।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মস্তিষ্কের জন্য নতুন ওষুধের দিগন্ত, জিএলপি-১-এর পর এবার ওরেক্সিনের পালা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ধনকুবেরদের ৪৩০ বিলিয়ন ডলারের দান, বদলে যেতে পারে বিশ্বকল্যাণের মানচিত্র

১২:০৪:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

সিলিকন ভ্যালিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উত্থান শুধু প্রযুক্তি খাতের চেহারাই বদলাচ্ছে না, বদলে দিতে যাচ্ছে দাতব্য কর্মকাণ্ডের পরিসরও। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা, কর্মী ও বিনিয়োগকারীরা আগামী কয়েক বছরে শত শত বিলিয়ন ডলার দাতব্য কাজে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। হিসাব অনুযায়ী, কেবল দুটি বড় প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে প্রবেশের মাধ্যমেই প্রায় ৪৩০ বিলিয়ন ডলার দাতব্য খাতে আসতে পারে।

এ অর্থের পরিমাণ এতটাই বিশাল যে এটি আগের বড় দাতব্য উদ্যোগগুলোকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুল অর্থ কোথায় ব্যয় হবে এবং তা সত্যিই মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলো সমাধানে কাজে লাগবে কি না।

দানের পরিমাণ বাড়লে কি প্রতিটি টাকার কার্যকারিতা কমবে

দাতব্য খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো কম খরচে বেশি মানুষের উপকার করা। ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে টিকা দেওয়ার আগে মশারি সরবরাহের মতো তুলনামূলক সস্তা উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু বিপুল পরিমাণ অর্থ যদি এসব সহজ ও কম খরচের উদ্যোগের চাহিদা পূরণ করে ফেলে, তখন আরও ব্যয়বহুল প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করতে হবে।

ফলে একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে যে অর্থ এখন প্রায় ৫ হাজার ডলার লাগে, ভবিষ্যতে তা ১৫ হাজার ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। দাতব্য খাতের কিছু বিশেষজ্ঞ অবশ্য এটিকে সংকট নয়, বরং ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। তাদের যুক্তি, সহজলভ্য কার্যকর উদ্যোগে পর্যাপ্ত অর্থ পৌঁছে গেলে পরবর্তী ধাপে আরও কঠিন সমস্যার সমাধানে অর্থ ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

Silicon Valley's AI boom is remaking American charity

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্পদে নতুন দাতব্য যুগ

শিল্পবিপ্লবের সময় অ্যান্ড্রু কার্নেগি, জন ডি রকফেলার ও হেনরি ফোর্ডের মতো ধনকুবেররা বিশ্ববিদ্যালয়, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন। ইন্টারনেট যুগে বিল ও মেলিন্ডা গেটস, মার্ক জাকারবার্গসহ প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা কৃষি, শিক্ষা ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের দাতব্য উদ্যোগ নেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে সেই ধারার তৃতীয় এবং আরও বড় ঢেউ আসতে পারে। এ খাতের নতুন ধনীরা যেভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্ব বদলানোর চেষ্টা করেছেন, একই উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এখন বিশ্বের অসুস্থতা, দারিদ্র্য ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানেও অর্থ ঢালতে চাইছেন।

শুধু বিপুল অর্থ নয়, বদলাচ্ছে দানের দর্শনও

নতুন প্রজন্মের দাতাদের একটি অংশ এমন একটি দর্শনে বিশ্বাস করেন, যেখানে দানের অর্থ কোথায় সবচেয়ে বেশি মানুষের উপকার করবে তা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। এই চিন্তাধারায় বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং প্রাণীকল্যাণের মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে।

ইতোমধ্যে সর্দি ও ফ্লুর ভাইরাসের টিকা তৈরির গবেষণায় ৫০ কোটি ডলারের একটি বড় অনুদান দেওয়া হয়েছে। ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে মশার জিনগত পরিবর্তন নিয়েও গবেষণায় অর্থ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর ম্যালেরিয়ায় প্রায় ৬ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। তাই এই ধরনের গবেষণায় বড় অর্থ বিনিয়োগের যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে।

প্রাণীকল্যাণও নতুন দাতাদের আগ্রহের একটি ক্ষেত্র। দ্রুত বেড়ে ওঠা মুরগির শারীরিক কষ্ট কমানো কিংবা মাছকে বৃহৎ পরিসরে মানবিকভাবে অচেতন করার মতো প্রকল্পেও অর্থ যেতে পারে।

নারীর ক্ষমতায়ন থেকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য—কিছু ক্ষেত্র পিছিয়ে পড়তে পারে

তবে দাতব্য অর্থ কোথায় দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্তের মধ্যেও বিতর্ক রয়েছে। যেসব প্রকল্পের ফল সহজে পরিমাপ করা যায়, সেগুলোর প্রতি নতুন দাতাদের আগ্রহ বেশি। ফলে নারীর ক্ষমতায়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ কিংবা সমাজের কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের মতো ক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে কম অর্থ পেতে পারে।

কারণ এসব কাজের ফলাফল সংখ্যায় বা তাৎক্ষণিকভাবে মাপা কঠিন। অথচ সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগের গুরুত্ব অনেক সময় দীর্ঘমেয়াদে প্রকাশ পায়।

AI Philanthropy: Billionaires Pledge Fortunes

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ—মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক দাতব্য কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো মানবসভ্যতার অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বেগ। নতুন দাতাদের কেউ কেউ মনে করেন, অত্যন্ত উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিন মানবজাতির জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এই কারণে নিরাপদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরির গবেষণায় বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। মানুষের মূল্যবোধের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার গবেষণাতেও বড় অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু এখানেই বড় প্রশ্ন রয়েছে। মানবজাতি বিলুপ্ত না হলে কী হতো, আর বিলুপ্ত হলে কী হতো—এ দুটি পরিস্থিতির তুলনা করার বাস্তব সুযোগ নেই। ফলে নিরাপদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণায় কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে প্রকৃতপক্ষে কতটা ফল পাওয়া যাচ্ছে, তা মাপা অত্যন্ত কঠিন।

এতে প্রমাণভিত্তিক দানের মূল দর্শনের সঙ্গেই এক ধরনের বিরোধ তৈরি হতে পারে।

দাতব্য নাকি প্রযুক্তি শিল্পের ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা

আরেকটি আশঙ্কা হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পর্কিত কিছু দান প্রকৃত জনকল্যাণের বদলে প্রযুক্তি শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাজ করা সামাজিক সংগঠনগুলোকে দেওয়া অর্থ মানুষের উপকার করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এসব অনুদানের মাধ্যমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবার ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হতে পারে। ফলে দাতব্য কাজ এবং ব্যবসায়িক স্বার্থের সীমারেখা কোথায়, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিপুল অর্থের সঙ্গে আসছে নতুন সংগঠন ও উচ্চ বেতন

এত বিপুল অর্থ দ্রুত বিতরণ করতে গিয়ে আরেকটি সমস্যা তৈরি হতে পারে। নতুন দাতব্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে, পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো আরও কর্মী নিয়োগ করছে এবং বেতন বাড়াচ্ছে।

সিলিকন ভ্যালির একটি অংশ অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্দিহান। তাদের যুক্তি, অতিরিক্ত আমলাতন্ত্র ও দুর্বল প্রণোদনার কারণে অনেক দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার হয় না।

অন্যদিকে দাতব্য খাতের পক্ষে যুক্তি হলো, দক্ষ কর্মীদের আকর্ষণ করতে হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো বেতন ও কর্মপরিবেশ দিতে হবে। ইতোমধ্যে কিছু সংস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে দক্ষ কর্মীদের ধরে রাখতে বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

How AI Will Change the Stock Market, Economy, and Jobs - Business Insider

৪৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির বড় অংশ আসতে পারে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের দুটি বড় প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে প্রবেশ এই দাতব্য ঢেউয়ের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন প্রত্যাশা অনুযায়ী হলে তাদের প্রতিষ্ঠাতা, কর্মী ও বিনিয়োগকারীদের হাতে বিপুল সম্পদ তৈরি হবে।

একটি প্রতিষ্ঠানের সাতজন সহপ্রতিষ্ঠাতা ইতোমধ্যে নিজেদের সম্পদের ৮০ শতাংশ দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাদের সম্মিলিত দানের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার কোটি ডলার হতে পারে। অন্যদিকে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দাতব্য তহবিলেও কয়েক হাজার কোটি ডলার জমা হতে পারে।

আরেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দাতব্য সংস্থার হাতে প্রায় ২৬ হাজার কোটি ডলার যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য শেয়ারবাজারে প্রবেশ থেকে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি ডলার দাতব্য কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এটি প্রায় ২৫টি ফোর্ড ফাউন্ডেশনের সমান সম্পদ। ছোট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তাদের প্রতিশ্রুত অর্থ যোগ করলে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার ৫০ কোটি ডলার পর্যন্ত দাতব্য অর্থ বিতরণ হতে পারে।

দ্রুত দান করার তাগিদ

তবে শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, অর্থ দ্রুত বাস্তব কাজে লাগানোও বড় চ্যালেঞ্জ। দাতব্য তহবিলের একটি অংশ এমন বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়, যেখানে আগে কর সুবিধা নেওয়া যায়, কিন্তু পরে সুবিধামতো অর্থ বিতরণ করা হয়। ফলে বিপুল অর্থ বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের তহবিলে ইতোমধ্যেই প্রায় ৩২৬ বিলিয়ন ডলার জমে আছে, যার বড় অংশ এখনও ব্যয় হয়নি।

তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক নতুন ধনীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নিজেদের সম্পদ অস্বাভাবিক দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় তাদের কেউ কেউ দ্রুত সেই অর্থ সমাজে ফিরিয়ে দিতে চাইছেন। ইতোমধ্যে কিছু কর্মী তাদের শেয়ার বিক্রি করে দাতব্য অর্থ ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

What is artificial intelligence and its capabilities

ভবিষ্যতে দাতব্য কাজের অর্থও বদলে যেতে পারে

সবচেয়ে আশাবাদী ধারণাটি হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিন রোগ ও দারিদ্র্য এতটাই কমিয়ে দিতে পারে যে দাতব্য কাজের মূল লক্ষ্যই বদলে যাবে।

এখন যেখানে মানুষের জীবন বাঁচানো, রোগ প্রতিরোধ বা ক্ষুধা দূর করাই অগ্রাধিকার, ভবিষ্যতে মানুষের জীবন আরও সুন্দর ও অর্থবহ করার প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। তখন দাতাদের ভাবতে হতে পারে জীবনের অর্থ, সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও মানুষের সুখ নিয়ে।

সেই ভবিষ্যতে হয়তো আবার নতুন নতুন প্রেক্ষাগৃহ, জাদুঘর কিংবা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের দাতব্য কর্মকাণ্ড শেষ পর্যন্ত শুধু মানুষকে বাঁচানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানুষকে আরও ভালোভাবে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়ার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

সিলিকন ভ্যালির নতুন ধনীদের হাতে যে বিপুল সম্পদ জমা হচ্ছে, তা তাই কেবল অর্থের গল্প নয়। এটি আগামী দশকগুলোতে স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রাণীকল্যাণ, মানবসভ্যতার নিরাপত্তা এবং সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে—তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপুল সম্পদ যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাতব্য ঢেউ মানবকল্যাণের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। কিন্তু সেই অর্থ কতটা মানুষের কাজে লাগবে, আর কতটা প্রযুক্তি শিল্পের নিজস্ব স্বার্থে ফিরে যাবে—তার উত্তর নির্ভর করবে অর্থের পরিমাণের চেয়ে বেশি, দাতাদের সিদ্ধান্ত ও জবাবদিহির ওপর।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানবকল্যাণের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সম্ভবত এখানেই।