০২:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
পাহাড়জয়ী নির্মল পুরজা: অসম্ভবকে সম্ভব করার এক দুরন্ত জীবনের শেষ অধ্যায় তরুণদের হাত ধরে আবারও জমে উঠছে সিনেমা হল শিশুদের কার্টুন ঘিরে কেন এত রাজনীতি? ‘পাপ প্যাট্রোল’ বিতর্কের নেপথ্যে বড় প্রশ্ন সিনেমা হলেই ফিরছে তরুণদের ভিড়, পর্দার জাদুতে নতুন করে মজেছে প্রজন্ম সমুদ্রের তলদেশে তারের জাল: যে অসম্ভব স্বপ্ন বদলে দিয়েছিল তথ্যের পৃথিবী রুয়ান্ডার গণহত্যার ক্ষত ও ক্ষমার কঠিন পথ, ‘জাকারান্ডা’য় গায়েল ফায়ের অনন্য উপন্যাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও কেন ফিরছে ট্রাভেল এজেন্ট, বিলাসবহুল ভ্রমণে মানুষের বিকল্প নেই সবার গন্তব্য কি এক হবে? ভ্রমণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বরং ছড়িয়ে দিতে পারে পর্যটকের ভিড় পেটের জীবাণু নিয়ে ব্যক্তিগত চিকিৎসার স্বপ্ন কতটা বাস্তব? আগুনের আগুনঝড়: দাবানলই যখন তৈরি করছে আরও ভয়ংকর আবহাওয়া

ট্রাম্পের চাপ, মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল কর্মসংস্থান—ফেডের নতুন প্রধানের সামনে পুরোনো সংকট

ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ দায়িত্ব নেওয়ার পর বারবার বলেছেন, তাঁর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে শুরু হয়েছে ‘নতুন অধ্যায়’। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাস না যেতেই বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। নতুন অধ্যায়ের বদলে পুরোনো সংকটই যেন আবার ফিরে এসেছে—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, দুর্বল হয়ে পড়া কর্মসংস্থান সামলানো এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুদের হার কমানোর রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা।

ওয়ার্শ মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় প্রতিটি প্রকাশ্য বক্তব্যে পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বাজার, রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষকে বোঝানো যে ফেডের নীতিতে এবার নতুন ধরনের নেতৃত্ব দেখা যাবে। কিন্তু অর্থনীতির বাস্তব চিত্র তাঁকে দ্রুতই এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে, যা তাঁর পূর্বসূরি জেরোম পাওয়েলের সময়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মূল্যস্ফীতি এখনো স্বস্তি দিচ্ছে না

এক বছর আগের পরিস্থিতির দিকে তাকালে বর্তমান সংকটের সঙ্গে তার মিল স্পষ্ট। তখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি একদিকে দুর্বল হয়ে পড়া কর্মসংস্থানের আশঙ্কায় ভুগছিল, অন্যদিকে শুল্কের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফলে সুদের হার কমানো হবে, নাকি মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে হার আরও কিছুদিন উঁচু রাখা হবে—এই দ্বিধায় পড়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এক বছর পরও সেই দ্বন্দ্ব কাটেনি। জুলাইয়ের ভোক্তা মূল্যসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে পণ্যের দামও মাসিক হিসাবে বেড়েছে। এতে ধারণা জোরালো হয়েছে, আমদানির ওপর আরোপিত শুল্কের বাড়তি ব্যয় আবারও ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

মূল্যস্ফীতি ও নতুন মুদ্রানীতি

তবে সামগ্রিক মূল মূল্যস্ফীতি, যেখানে সেবার দামও অন্তর্ভুক্ত, তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। সেটি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশে। তারপরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশ ওপরে থাকায় নীতিনির্ধারকদের একাংশ সুদের হার আরও বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ফলে সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও এখন পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

চাকরির বাজারে উল্টো সংকেত

মূল্যস্ফীতির চাপ যেখানে সুদের হার বাড়ানোর যুক্তি দিচ্ছে, সেখানে কর্মসংস্থানের চিত্র ঠিক বিপরীত বার্তা দিচ্ছে।

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ হাজার চাকরি কমেছে। এর পাশাপাশি আগের কয়েক মাসের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হিসাবও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। অর্থাৎ শ্রমবাজারের শক্তি নিয়ে যে আশাবাদ ছিল, সেটি এখন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এ পরিস্থিতি অর্থনীতিকে আরেকটি কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে। মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে সুদের হার বেশি রাখলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার অর্থনীতিকে চাঙা করতে দ্রুত সুদের হার কমালে মূল্যস্ফীতি নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলকভাবে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ওয়ার্শের জন্য তাই এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে কঠিন। তবে শ্রমবাজারের দুর্বলতা তাঁর জন্য সুদের হার কমানোর পক্ষে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক যুক্তিও তৈরি করছে।

ট্রাম্পের চাপ আরও বাড়ছে

ইরানে সর্বোচ্চ মাত্রার কঠিন আঘাত চলবেই : ট্রাম্প

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক চাপ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় প্রতিটি সুযোগেই সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁর যুক্তি, কম সুদের হার অর্থনীতিকে আরও গতি দেবে এবং ঋণের ব্যয় কমাবে।

কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বিষয়টি এত সরল নয়। মূল্যস্ফীতি যখন এখনো লক্ষ্যমাত্রার ওপরে, তখন রাজনৈতিক চাপে পড়ে দ্রুত সুদের হার কমানো হলে ফেডের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে।

লিসা কুককে ঘিরে নতুন সংঘাত

ফেডের গভর্নর লিসা কুককে তাঁর পদ থেকে সরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। কুকের বিরুদ্ধে বন্ধকী ঋণের কাগজপত্রে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কুক অবশ্য এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পের কুককে সরানোর প্রচেষ্টা আটকে দেয় এবং ফেডের সাংবিধানিকভাবে বিশেষ অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তাঁকে সুরক্ষা দেয়। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি নজির তৈরি হয়।

কিন্তু সেখানেই বিরোধ থামেনি।

Judge Blocks Trump From Removing Lisa Cook, for Now - The New York Times

আগস্টের শুরুতে হোয়াইট হাউস আবার কুককে চিঠি দিয়ে জানায়, তাঁকে বরখাস্ত করার বিষয়টি প্রেসিডেন্ট বিবেচনা করছেন। তাঁকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য তিন সপ্তাহ সময়ও দেওয়া হয়েছে। কুকের আইনজীবীরা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সর্বোচ্চ আদালতের আগের সিদ্ধান্তকে স্পষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন।

নতুন অধ্যায় কি সত্যিই শুরু হবে?

ওয়ার্শ যতই নতুন অধ্যায়ের কথা বলুন, তাঁর সামনে এখন এমন এক বাস্তবতা দাঁড়িয়ে আছে যেখানে পুরোনো সমস্যাগুলোই নতুন রূপে ফিরে এসেছে।

একদিকে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে। অন্যদিকে কর্মসংস্থান দুর্বল হচ্ছে। এর ওপর রয়েছে প্রেসিডেন্টের সুদের হার কমানোর প্রবল রাজনৈতিক চাপ এবং ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান সাংবিধানিক বিতর্ক।

এই পরিস্থিতিতে ওয়ার্শের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুধু সুদের হার নির্ধারণ নয়। তাঁকে একই সঙ্গে প্রমাণ করতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে থেকে অর্থনৈতিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তাই তাঁর কাঙ্ক্ষিত ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু হতে হয়তো আরও সময় লাগবে। আপাতত তাঁর টেবিলে পড়ে আছে পুরোনো সংকটেরই নতুন সংস্করণ।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পাহাড়জয়ী নির্মল পুরজা: অসম্ভবকে সম্ভব করার এক দুরন্ত জীবনের শেষ অধ্যায়

ট্রাম্পের চাপ, মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল কর্মসংস্থান—ফেডের নতুন প্রধানের সামনে পুরোনো সংকট

০১:০৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ দায়িত্ব নেওয়ার পর বারবার বলেছেন, তাঁর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে শুরু হয়েছে ‘নতুন অধ্যায়’। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাস না যেতেই বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। নতুন অধ্যায়ের বদলে পুরোনো সংকটই যেন আবার ফিরে এসেছে—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, দুর্বল হয়ে পড়া কর্মসংস্থান সামলানো এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুদের হার কমানোর রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা।

ওয়ার্শ মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় প্রতিটি প্রকাশ্য বক্তব্যে পরিবর্তনের বার্তা দিয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল বাজার, রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষকে বোঝানো যে ফেডের নীতিতে এবার নতুন ধরনের নেতৃত্ব দেখা যাবে। কিন্তু অর্থনীতির বাস্তব চিত্র তাঁকে দ্রুতই এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে, যা তাঁর পূর্বসূরি জেরোম পাওয়েলের সময়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মূল্যস্ফীতি এখনো স্বস্তি দিচ্ছে না

এক বছর আগের পরিস্থিতির দিকে তাকালে বর্তমান সংকটের সঙ্গে তার মিল স্পষ্ট। তখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি একদিকে দুর্বল হয়ে পড়া কর্মসংস্থানের আশঙ্কায় ভুগছিল, অন্যদিকে শুল্কের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ফলে সুদের হার কমানো হবে, নাকি মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে হার আরও কিছুদিন উঁচু রাখা হবে—এই দ্বিধায় পড়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এক বছর পরও সেই দ্বন্দ্ব কাটেনি। জুলাইয়ের ভোক্তা মূল্যসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে পণ্যের দামও মাসিক হিসাবে বেড়েছে। এতে ধারণা জোরালো হয়েছে, আমদানির ওপর আরোপিত শুল্কের বাড়তি ব্যয় আবারও ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

মূল্যস্ফীতি ও নতুন মুদ্রানীতি

তবে সামগ্রিক মূল মূল্যস্ফীতি, যেখানে সেবার দামও অন্তর্ভুক্ত, তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। সেটি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশে। তারপরও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশ ওপরে থাকায় নীতিনির্ধারকদের একাংশ সুদের হার আরও বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

ফলে সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও এখন পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

চাকরির বাজারে উল্টো সংকেত

মূল্যস্ফীতির চাপ যেখানে সুদের হার বাড়ানোর যুক্তি দিচ্ছে, সেখানে কর্মসংস্থানের চিত্র ঠিক বিপরীত বার্তা দিচ্ছে।

জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ হাজার চাকরি কমেছে। এর পাশাপাশি আগের কয়েক মাসের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হিসাবও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। অর্থাৎ শ্রমবাজারের শক্তি নিয়ে যে আশাবাদ ছিল, সেটি এখন দুর্বল হয়ে পড়ছে।

এ পরিস্থিতি অর্থনীতিকে আরেকটি কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে। মূল্যস্ফীতি ঠেকাতে সুদের হার বেশি রাখলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার অর্থনীতিকে চাঙা করতে দ্রুত সুদের হার কমালে মূল্যস্ফীতি নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলকভাবে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ওয়ার্শের জন্য তাই এই পরিস্থিতি বিশেষভাবে কঠিন। তবে শ্রমবাজারের দুর্বলতা তাঁর জন্য সুদের হার কমানোর পক্ষে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক যুক্তিও তৈরি করছে।

ট্রাম্পের চাপ আরও বাড়ছে

ইরানে সর্বোচ্চ মাত্রার কঠিন আঘাত চলবেই : ট্রাম্প

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক চাপ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রায় প্রতিটি সুযোগেই সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁর যুক্তি, কম সুদের হার অর্থনীতিকে আরও গতি দেবে এবং ঋণের ব্যয় কমাবে।

কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বিষয়টি এত সরল নয়। মূল্যস্ফীতি যখন এখনো লক্ষ্যমাত্রার ওপরে, তখন রাজনৈতিক চাপে পড়ে দ্রুত সুদের হার কমানো হলে ফেডের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিয়ে।

লিসা কুককে ঘিরে নতুন সংঘাত

ফেডের গভর্নর লিসা কুককে তাঁর পদ থেকে সরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। কুকের বিরুদ্ধে বন্ধকী ঋণের কাগজপত্রে অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কুক অবশ্য এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পের কুককে সরানোর প্রচেষ্টা আটকে দেয় এবং ফেডের সাংবিধানিকভাবে বিশেষ অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তাঁকে সুরক্ষা দেয়। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা রক্ষার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি নজির তৈরি হয়।

কিন্তু সেখানেই বিরোধ থামেনি।

Judge Blocks Trump From Removing Lisa Cook, for Now - The New York Times

আগস্টের শুরুতে হোয়াইট হাউস আবার কুককে চিঠি দিয়ে জানায়, তাঁকে বরখাস্ত করার বিষয়টি প্রেসিডেন্ট বিবেচনা করছেন। তাঁকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য তিন সপ্তাহ সময়ও দেওয়া হয়েছে। কুকের আইনজীবীরা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সর্বোচ্চ আদালতের আগের সিদ্ধান্তকে স্পষ্ট বলে উল্লেখ করেছেন।

নতুন অধ্যায় কি সত্যিই শুরু হবে?

ওয়ার্শ যতই নতুন অধ্যায়ের কথা বলুন, তাঁর সামনে এখন এমন এক বাস্তবতা দাঁড়িয়ে আছে যেখানে পুরোনো সমস্যাগুলোই নতুন রূপে ফিরে এসেছে।

একদিকে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে। অন্যদিকে কর্মসংস্থান দুর্বল হচ্ছে। এর ওপর রয়েছে প্রেসিডেন্টের সুদের হার কমানোর প্রবল রাজনৈতিক চাপ এবং ফেডের স্বাধীনতা নিয়ে চলমান সাংবিধানিক বিতর্ক।

এই পরিস্থিতিতে ওয়ার্শের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা শুধু সুদের হার নির্ধারণ নয়। তাঁকে একই সঙ্গে প্রমাণ করতে হবে যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাজনৈতিক চাপের ঊর্ধ্বে থেকে অর্থনৈতিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তাই তাঁর কাঙ্ক্ষিত ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু হতে হয়তো আরও সময় লাগবে। আপাতত তাঁর টেবিলে পড়ে আছে পুরোনো সংকটেরই নতুন সংস্করণ।