০৩:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করলো ঢাকা আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন মানচিত্র সীমান্তে ফের পুশইনের চেষ্টা, চারজনকে ঠেকিয়ে দিল বিজিবি ইউরোপের পোশাকবাজারে ধাক্কা, প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি কমল ১৬ শতাংশ স্বাধীনতার ৭৯ বছরে পাকিস্তানকে ঐক্য ও শৃঙ্খলার বার্তা সশস্ত্র বাহিনীর মাস্তাংয়ে বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বহরে হামলা, আহত ৬ নিরাপত্তাকর্মী পাহালগাম হামলার পর মোদির প্রথম প্রশ্ন—‘কারা করেছে?’ অজিত দোভালের মুখে অপারেশন সিঁদুরের নেপথ্যকথা রাজনীতির ময়দানে ফের বিতর্ক: বিজয়ের মাকে নিয়ে নাইনর নাগেন্দ্রনের মন্তব্যে তীব্র সমালোচনা ইন্দোনেশিয়ায় আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ৬.৯ মাত্রার কম্পনে কাঁপল উত্তর সুমাত্রা পাকিস্তানের হিন্দুরা ভারত নয়, পাকিস্তানেই থাকতে চান—জারদারির দাবি

শিশুদের কার্টুন ঘিরে কেন এত রাজনীতি? ‘পাপ প্যাট্রোল’ বিতর্কের নেপথ্যে বড় প্রশ্ন

একদল কথা বলা কুকুরছানা, তাদের অভিযান, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আর বারবার শোনা যায়—কোনো কাজই খুব বড় নয়, কোনো কুকুরছানাই খুব ছোট নয়। বাইরে থেকে দেখলে এটি নিছকই শিশুদের বিনোদনের গল্প। কিন্তু জনপ্রিয় কার্টুন ‘পাপ প্যাট্রোল’ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক দেখাচ্ছে, শিশুদের জন্য তৈরি বিনোদনও কীভাবে ক্ষমতা, রাষ্ট্র, পুলিশ, পুঁজিবাদ, লিঙ্গভূমিকা এবং সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্নে পরিণত হতে পারে।

২০১৩ সালে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করার পর থেকে এই কার্টুন বিশ্বজুড়ে শিশুদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। এক ডজনেরও বেশি মৌসুম, বিপুল খেলনা-বাণিজ্য এবং ইতিমধ্যে তিনটি প্রেক্ষাগৃহের চলচ্চিত্র—সব মিলিয়ে এটি আর সাধারণ কোনো শিশুতোষ অনুষ্ঠান নয়; বরং একটি বিশাল বিনোদন-সাম্রাজ্য।

গল্পের কেন্দ্র অ্যাডভেঞ্চার বে নামের এক শান্ত, সুন্দর অথচ খানিকটা অদ্ভুত শহর। সেখানে দশ বছরের এক কিশোরের নেতৃত্বে কয়েকটি প্রশিক্ষিত কুকুরছানা নানা বিপদ মোকাবিলায় ছুটে যায়। কখনো উদ্ধার অভিযান, কখনো পরিবেশ রক্ষা, কখনো দুর্যোগ সামলানো—প্রতিটি পর্বেই একই ধরনের কাঠামো ফিরে আসে।

এই সরল বিনোদনের মধ্যেই সমালোচকেরা খুঁজে পেয়েছেন নানা রাজনৈতিক বার্তা।

কার্টুনে কি লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক মতাদর্শ?

সমালোচকদের একাংশের মতে, কার্টুনটির বাহ্যিকভাবে কোমল ও মানবিক বার্তার আড়ালে রয়েছে কর্তৃত্ববাদী পুঁজিবাদের এক ধরনের প্রচার। তাদের যুক্তি, বিপদের সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা নির্বাচিত প্রশাসনের বদলে কয়েকটি বেসরকারি কুকুরছানাই কার্যত সব সমস্যার সমাধান করে।

What a total loser. No wonder no one is on the byline. Paw Patrol is on a  roll!🐶

দলের প্রধান চরিত্রদের মধ্যে পুলিশ কুকুর চেজ বিশেষভাবে সমালোচিত হয়েছে। তার উপস্থিতিকে কেউ কেউ পুলিশের প্রতি অতিরিক্ত ইতিবাচক মনোভাব তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। আবার অন্যদের মতে, পুরো ব্যবস্থাটিই এমন এক বেসরকারিকৃত রাষ্ট্রের ধারণা তুলে ধরে, যেখানে জনগণের কাছে জবাবদিহি না থাকা একটি দলই গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা পরিচালনা করে।

কার্টুনের মেয়র চরিত্রটিও অনেক সময় এমনভাবে উপস্থাপিত হন যে, বাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কুকুরছানাদের ওপরই তার নির্ভরতা বেশি।

অন্যদিকে কার্টুনটির রাজনৈতিক অবস্থানকে একেবারে ডানপন্থী বলা কঠিন। এর খলনায়ক হাম্পডিঙ্গারকে দেখানো হয় আত্মমুগ্ধ, ক্ষমতালোভী এবং নির্বাচনী ন্যায্যতা ও আইনের প্রতি অবজ্ঞাশীল এক চরিত্র হিসেবে। পরিবেশ রক্ষা, পুনর্ব্যবহার, দলগত সহযোগিতা, ভয়কে জয় করা এবং বিপদে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মতো মূল্যবোধও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অর্থাৎ একদিকে পুলিশ ও বেসরকারি ব্যবস্থার প্রশংসা, অন্যদিকে পরিবেশবাদ ও সামাজিক সহযোগিতার বার্তা—দুই ধরনের উপাদানই এখানে পাশাপাশি রয়েছে।

শুধু সংস্কৃতি-যুদ্ধ বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে?

এ ধরনের বিতর্ককে অনেকেই শিশুদের কার্টুন নিয়ে অতি-বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা বলে মনে করতে পারেন। চার বছরের একটি শিশু কোনো সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব না বুঝেই কুকুরছানাদের অভিযান উপভোগ করে। সে পুঁজিবাদ কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ে চিন্তা করে না; বরং কুকুরছানারা কীভাবে বিপদ থেকে কাউকে উদ্ধার করছে, সেটিই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তবু শিশুদের গল্পের প্রভাবকে একেবারে তুচ্ছ করাও ঠিক নয়।

Paw patrol golden retriever | Paw patrol tail, Paw patrol pipeline, Paw  patrol adventure bay

শিশুরা বই, চলচ্চিত্র, কার্টুন ও খেলনার মাধ্যমে পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে। কে নায়ক, কে খলনায়ক, কোন আচরণ ভালো, কোনটি খারাপ, সমস্যার সমাধান কীভাবে করতে হয়—এসব ধারণা তাদের কল্পনাজগতে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয়।

এই কারণেই ছোটদের গল্প নিয়েও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক পৃথিবীর ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। যে সমাজ তরুণ প্রজন্মের মূল্যবোধকে প্রভাবিত করতে চায়, সে সমাজ শিশুদের গল্পকেও গুরুত্ব দেয়।

আসল রহস্য হয়তো রাজনীতিতে নয়, শিশুমনে

‘পাপ প্যাট্রোল’-এর জনপ্রিয়তা বোঝার জন্য রাজনৈতিক তত্ত্বের চেয়ে শিশুমনের দিকে তাকানো বেশি কার্যকর হতে পারে।

শিশুরা অনেক সময় নিজেদের বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা, ভয় ও অসহায়ত্ব খুব কাছ থেকে অনুভব করে। তারা হয়তো রাজনৈতিক সংকট বোঝে না, কিন্তু বাবা-মায়ের উৎকণ্ঠা বুঝতে পারে। যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি, মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়দের উদ্বেগ—এসবের আবহ শিশুরাও প্রত্যক্ষ করে।

এখানেই কার্টুনটির কল্পজগৎ বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।

গল্পে ছোট ছোট কুকুরছানারাই বড় বড় সমস্যার সমাধান করে। তাদের হাতে থাকে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে, নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা করে এবং শেষ পর্যন্ত বিপদ কাটিয়ে ওঠে। শিশুর চোখে এটি নিছক দুঃসাহসিক অভিযান নয়; বরং এমন এক পৃথিবী, যেখানে ছোট হয়েও বড়দের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

এক অর্থে, শিশুর কল্পনার সবচেয়ে শক্তিশালী ইচ্ছাটিই এখানে পূরণ হয়—“আমি ছোট হলেও কিছু একটা করতে পারি।”

Happy National Tug-of-War day! | Fandom

জনপ্রিয়তার শক্তি এখানেই

কার্টুনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়তো কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়। বরং এর গভীরে রয়েছে সক্ষমতার অনুভূতি। ছোট কুকুরছানারা বারবার দেখিয়ে দেয়, আকারে ছোট হওয়া মানেই অসহায় হওয়া নয়।

এ কারণেই হয়তো অভিভাবকরা যেখানে অতিরিক্ত মিষ্টি সংলাপ, পুনরাবৃত্ত গল্প আর কানে লেগে থাকা গান নিয়ে বিরক্ত হতে পারেন, শিশুরা সেখানে নিজেদেরই এক ধরনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পায়।

‘পাপ প্যাট্রোল’ তাই একই সঙ্গে একটি বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য, শিশুদের বিনোদনের জনপ্রিয় মাধ্যম এবং মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনার একটি আকর্ষণীয় উদাহরণ। এর মধ্যে সত্যিই কোনো রাজনৈতিক বার্তা আছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—শিশুরা কেন এই জগৎকে এত আপন করে নেয়?

সম্ভবত উত্তরটি খুব সহজ। পৃথিবী যখন বড়দের কাছে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে, তখন শিশুরা এমন একটি গল্প চায় যেখানে ভয়কে জয় করা যায়, সমস্যার সমাধান করা যায় এবং সবচেয়ে ছোট সদস্যটিও প্রয়োজনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সেই অর্থে, ‘পাপ প্যাট্রোল’-এর আসল শক্তি হয়তো রাজনীতি নয়—ছোটদের হাতে বড় পৃথিবীটাকে একটু ঠিক করে দেওয়ার স্বপ্ন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা আপাতত বাতিল করলো ঢাকা

শিশুদের কার্টুন ঘিরে কেন এত রাজনীতি? ‘পাপ প্যাট্রোল’ বিতর্কের নেপথ্যে বড় প্রশ্ন

০২:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

একদল কথা বলা কুকুরছানা, তাদের অভিযান, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আর বারবার শোনা যায়—কোনো কাজই খুব বড় নয়, কোনো কুকুরছানাই খুব ছোট নয়। বাইরে থেকে দেখলে এটি নিছকই শিশুদের বিনোদনের গল্প। কিন্তু জনপ্রিয় কার্টুন ‘পাপ প্যাট্রোল’ নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক দেখাচ্ছে, শিশুদের জন্য তৈরি বিনোদনও কীভাবে ক্ষমতা, রাষ্ট্র, পুলিশ, পুঁজিবাদ, লিঙ্গভূমিকা এবং সামাজিক মূল্যবোধের প্রশ্নে পরিণত হতে পারে।

২০১৩ সালে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করার পর থেকে এই কার্টুন বিশ্বজুড়ে শিশুদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। এক ডজনেরও বেশি মৌসুম, বিপুল খেলনা-বাণিজ্য এবং ইতিমধ্যে তিনটি প্রেক্ষাগৃহের চলচ্চিত্র—সব মিলিয়ে এটি আর সাধারণ কোনো শিশুতোষ অনুষ্ঠান নয়; বরং একটি বিশাল বিনোদন-সাম্রাজ্য।

গল্পের কেন্দ্র অ্যাডভেঞ্চার বে নামের এক শান্ত, সুন্দর অথচ খানিকটা অদ্ভুত শহর। সেখানে দশ বছরের এক কিশোরের নেতৃত্বে কয়েকটি প্রশিক্ষিত কুকুরছানা নানা বিপদ মোকাবিলায় ছুটে যায়। কখনো উদ্ধার অভিযান, কখনো পরিবেশ রক্ষা, কখনো দুর্যোগ সামলানো—প্রতিটি পর্বেই একই ধরনের কাঠামো ফিরে আসে।

এই সরল বিনোদনের মধ্যেই সমালোচকেরা খুঁজে পেয়েছেন নানা রাজনৈতিক বার্তা।

কার্টুনে কি লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক মতাদর্শ?

সমালোচকদের একাংশের মতে, কার্টুনটির বাহ্যিকভাবে কোমল ও মানবিক বার্তার আড়ালে রয়েছে কর্তৃত্ববাদী পুঁজিবাদের এক ধরনের প্রচার। তাদের যুক্তি, বিপদের সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বা নির্বাচিত প্রশাসনের বদলে কয়েকটি বেসরকারি কুকুরছানাই কার্যত সব সমস্যার সমাধান করে।

What a total loser. No wonder no one is on the byline. Paw Patrol is on a  roll!🐶

দলের প্রধান চরিত্রদের মধ্যে পুলিশ কুকুর চেজ বিশেষভাবে সমালোচিত হয়েছে। তার উপস্থিতিকে কেউ কেউ পুলিশের প্রতি অতিরিক্ত ইতিবাচক মনোভাব তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। আবার অন্যদের মতে, পুরো ব্যবস্থাটিই এমন এক বেসরকারিকৃত রাষ্ট্রের ধারণা তুলে ধরে, যেখানে জনগণের কাছে জবাবদিহি না থাকা একটি দলই গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা পরিচালনা করে।

কার্টুনের মেয়র চরিত্রটিও অনেক সময় এমনভাবে উপস্থাপিত হন যে, বাস্তব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কুকুরছানাদের ওপরই তার নির্ভরতা বেশি।

অন্যদিকে কার্টুনটির রাজনৈতিক অবস্থানকে একেবারে ডানপন্থী বলা কঠিন। এর খলনায়ক হাম্পডিঙ্গারকে দেখানো হয় আত্মমুগ্ধ, ক্ষমতালোভী এবং নির্বাচনী ন্যায্যতা ও আইনের প্রতি অবজ্ঞাশীল এক চরিত্র হিসেবে। পরিবেশ রক্ষা, পুনর্ব্যবহার, দলগত সহযোগিতা, ভয়কে জয় করা এবং বিপদে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর মতো মূল্যবোধও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অর্থাৎ একদিকে পুলিশ ও বেসরকারি ব্যবস্থার প্রশংসা, অন্যদিকে পরিবেশবাদ ও সামাজিক সহযোগিতার বার্তা—দুই ধরনের উপাদানই এখানে পাশাপাশি রয়েছে।

শুধু সংস্কৃতি-যুদ্ধ বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে?

এ ধরনের বিতর্ককে অনেকেই শিশুদের কার্টুন নিয়ে অতি-বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা বলে মনে করতে পারেন। চার বছরের একটি শিশু কোনো সমাজতাত্ত্বিক তত্ত্ব না বুঝেই কুকুরছানাদের অভিযান উপভোগ করে। সে পুঁজিবাদ কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিয়ে চিন্তা করে না; বরং কুকুরছানারা কীভাবে বিপদ থেকে কাউকে উদ্ধার করছে, সেটিই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তবু শিশুদের গল্পের প্রভাবকে একেবারে তুচ্ছ করাও ঠিক নয়।

Paw patrol golden retriever | Paw patrol tail, Paw patrol pipeline, Paw  patrol adventure bay

শিশুরা বই, চলচ্চিত্র, কার্টুন ও খেলনার মাধ্যমে পৃথিবী সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে। কে নায়ক, কে খলনায়ক, কোন আচরণ ভালো, কোনটি খারাপ, সমস্যার সমাধান কীভাবে করতে হয়—এসব ধারণা তাদের কল্পনাজগতে ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয়।

এই কারণেই ছোটদের গল্প নিয়েও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্ক পৃথিবীর ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। যে সমাজ তরুণ প্রজন্মের মূল্যবোধকে প্রভাবিত করতে চায়, সে সমাজ শিশুদের গল্পকেও গুরুত্ব দেয়।

আসল রহস্য হয়তো রাজনীতিতে নয়, শিশুমনে

‘পাপ প্যাট্রোল’-এর জনপ্রিয়তা বোঝার জন্য রাজনৈতিক তত্ত্বের চেয়ে শিশুমনের দিকে তাকানো বেশি কার্যকর হতে পারে।

শিশুরা অনেক সময় নিজেদের বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তা, ভয় ও অসহায়ত্ব খুব কাছ থেকে অনুভব করে। তারা হয়তো রাজনৈতিক সংকট বোঝে না, কিন্তু বাবা-মায়ের উৎকণ্ঠা বুঝতে পারে। যুদ্ধ, মূল্যবৃদ্ধি, মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়দের উদ্বেগ—এসবের আবহ শিশুরাও প্রত্যক্ষ করে।

এখানেই কার্টুনটির কল্পজগৎ বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।

গল্পে ছোট ছোট কুকুরছানারাই বড় বড় সমস্যার সমাধান করে। তাদের হাতে থাকে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে, নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা করে এবং শেষ পর্যন্ত বিপদ কাটিয়ে ওঠে। শিশুর চোখে এটি নিছক দুঃসাহসিক অভিযান নয়; বরং এমন এক পৃথিবী, যেখানে ছোট হয়েও বড়দের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

এক অর্থে, শিশুর কল্পনার সবচেয়ে শক্তিশালী ইচ্ছাটিই এখানে পূরণ হয়—“আমি ছোট হলেও কিছু একটা করতে পারি।”

Happy National Tug-of-War day! | Fandom

জনপ্রিয়তার শক্তি এখানেই

কার্টুনটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়তো কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়। বরং এর গভীরে রয়েছে সক্ষমতার অনুভূতি। ছোট কুকুরছানারা বারবার দেখিয়ে দেয়, আকারে ছোট হওয়া মানেই অসহায় হওয়া নয়।

এ কারণেই হয়তো অভিভাবকরা যেখানে অতিরিক্ত মিষ্টি সংলাপ, পুনরাবৃত্ত গল্প আর কানে লেগে থাকা গান নিয়ে বিরক্ত হতে পারেন, শিশুরা সেখানে নিজেদেরই এক ধরনের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পায়।

‘পাপ প্যাট্রোল’ তাই একই সঙ্গে একটি বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য, শিশুদের বিনোদনের জনপ্রিয় মাধ্যম এবং মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনার একটি আকর্ষণীয় উদাহরণ। এর মধ্যে সত্যিই কোনো রাজনৈতিক বার্তা আছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—শিশুরা কেন এই জগৎকে এত আপন করে নেয়?

সম্ভবত উত্তরটি খুব সহজ। পৃথিবী যখন বড়দের কাছে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে, তখন শিশুরা এমন একটি গল্প চায় যেখানে ভয়কে জয় করা যায়, সমস্যার সমাধান করা যায় এবং সবচেয়ে ছোট সদস্যটিও প্রয়োজনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সেই অর্থে, ‘পাপ প্যাট্রোল’-এর আসল শক্তি হয়তো রাজনীতি নয়—ছোটদের হাতে বড় পৃথিবীটাকে একটু ঠিক করে দেওয়ার স্বপ্ন।