তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়কে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর মাকে নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি নাইনর নাগেন্দ্রন। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
কী বলেছিলেন নাগেন্দ্রন
শনিবার বিজেপির রাজ্য দপ্তর কমলালয়ামে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিজয়ের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে নাগেন্দ্রন বলেন, বিধানসভায় কেউ যদি বাবাকে খুঁজে না পান, তাহলে বাড়িতে গিয়ে মাকে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে বাবা কে।
নাগেন্দ্রনের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি রাজনৈতিক শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নাগেন্দ্রনের বিরুদ্ধে পুলিশের মহাপরিচালকের দপ্তরেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজয়ের বিধানসভা বক্তব্য থেকেই পাল্টা আক্রমণ

নাগেন্দ্রনের মন্তব্যের পেছনে ছিল বিধানসভায় বিজয়ের সাম্প্রতিক একটি ছোট গল্প। এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কষগমের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে বিজয় ওই গল্পের মাধ্যমে দলটির সভাপতি এম কে স্ট্যালিনকে কটাক্ষ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
স্ট্যালিনের নির্বাচনী পরাজয়ের পর তাঁর দলের এক নেতার ‘বাবা’ কোথায়—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছিলেন বিজয়। সেই বক্তব্য নিয়েও এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমালোচনা করেছিল।
বিজেপির ভেতর থেকেও সমালোচনা
নাগেন্দ্রনের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন সাবেক তামিলনাড়ু বিজেপি সভাপতি কে আন্নামালাইও। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বক্তৃতায় অশালীনতা বাড়িয়ে তোলা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
আন্নামালাইয়ের মতে, সরকারের নীতি নিয়ে সমালোচনা করা বা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধ থাকা গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু কোনো নেতার পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে তাঁর মাকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি নাগেন্দ্রনের বক্তব্যকে নিম্নমানের রাজনীতির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তরুণ প্রজন্মের সামনে রাজনৈতিক নেতাদের এমন আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত নয়।

‘অসভ্য ও অনুপযুক্ত’ মন্তব্য
তামিলনাড়ুর মন্ত্রী এ রাজমোহনও বিজেপি নেতার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর ভাষায়, এমন মন্তব্য একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতার জন্য অসভ্য ও অনুপযুক্ত।
রাজমোহন বলেন, উসকানি বা ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখেও রাজনৈতিক নেতাদের শালীনতা বজায় রাখা উচিত—এমন বার্তাই বিজয় তাঁর সহকর্মীদের দিয়েছিলেন।
ফলে বিজয়কে ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ এখন ব্যক্তিগত আক্রমণ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে নতুন বিতর্কে রূপ নিয়েছে।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনার মধ্যেই এই মন্তব্য নতুন করে দুই পক্ষের সংঘাত আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা।
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আক্রমণ বনাম রাজনৈতিক শালীনতার বিতর্ক এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















