পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মীর জিয়াউল্লাহ লাঙ্গাউয়ের নিরাপত্তাবহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার মাস্তাং এলাকায় কালাত থেকে কোয়েটার দিকে যাওয়ার সময় তাঁর বহর লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলার সময় মন্ত্রী নিরাপদে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গোলাগুলিতে আহত ছয় নিরাপত্তাকর্মী
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময় হয়। এতে নিরাপত্তা দলের অন্তত ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য কোয়েটার নবাব গাউস বখশ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মাস্তাংয়ের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার জানিয়েছেন, কোয়েটার দিকে যাওয়ার সময়ই মন্ত্রীর বহরটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। তবে হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলাকারীদের ধরতে নিরাপত্তা বাহিনী তৎপরতা শুরু করেছে।
‘এসব আতশবাজিতে ভয় পাই না’

হামলার পর কোয়েটায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মীর জিয়াউল্লাহ লাঙ্গাউ বলেন, এ ধরনের হামলা তাঁদের মনোবল বা সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকে দুর্বল করতে পারবে না। দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এসব আতশবাজিতে আমি ভয় পাই না।’
তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে হামলার পরও নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগেই বিচারকদের ওপর হামলা
মাস্তাংয়ে সাম্প্রতিক সময়েও বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের গুলিতে এক দায়রা জজ ও তাঁর এক নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও একজন অতিরিক্ত দায়রা জজসহ আরেক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন।
২৩ জুলাইয়ের ওই হামলার সময় বিচারকেরা কোয়েটা থেকে মাস্তাংয়ের দায়রা আদালতের দিকে যাচ্ছিলেন। ওয়ালি খান এলাকায় তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় বাড়ছে সহিংসতা
২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া সহিংসতার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের সহিংসতার চিত্রে এই দুই প্রদেশের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। ওই সময়ে পাকিস্তানে সহিংসতাজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় ৯৬ শতাংশই ঘটেছে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে।
এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়ায় ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মোট প্রাণহানির ৬১ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে বেলুচিস্তানে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬৫ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৩৪ শতাংশ।
সহিংস ঘটনার সংখ্যাতেও খাইবার পাখতুনখোয়া ছিল সবচেয়ে এগিয়ে। সেখানে ১৫১টি সহিংস ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যা দেশজুড়ে মোট ঘটনার প্রায় ৫৭ শতাংশ। বেলুচিস্তানে ঘটেছে ৯৪টি ঘটনা, অর্থাৎ জাতীয় মোটের প্রায় ৩৫ শতাংশ।
মাস্তাংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তাবহরে সর্বশেষ হামলা তাই বেলুচিস্তানে চলমান নিরাপত্তা সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। মন্ত্রীর বহর নিরাপদে থাকলেও ছয় নিরাপত্তাকর্মীর আহত হওয়ার ঘটনায় প্রদেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















