পাকিস্তানের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির সামরিক নেতৃত্ব।
শুক্রবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের এক বিবৃতিতে এ বার্তা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে যৌথভাবে এই শুভেচ্ছা ও অঙ্গীকার জানানো হয়।
জিন্নাহ ও স্বাধীনতার সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা
স্বাধীনতা দিবসের বার্তায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, দেশটির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত নেতৃবৃন্দ এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব বলেছে, তাদের দূরদর্শিতা, সাহস ও দৃঢ় সংকল্প এখনো পাকিস্তানের জনগণের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে। দেশের মূল আদর্শ ও নীতিগুলো অনুসরণে এসব মূল্যবোধ জনগণকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

শহীদ ও প্রবীণ সেনাদের স্মরণ
স্বাধীনতা দিবসে পাকিস্তানের শহীদ, সাবেক সেনাসদস্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং দেশের জন্য দায়িত্ব পালনকারী সব নাগরিকের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সাহস ও নিঃস্বার্থ সেবা পাকিস্তানের প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং দেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সামরিক নেতৃত্ব জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তারা দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত। একই সঙ্গে সংবিধান সমুন্নত রাখা এবং জনগণের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজের আহ্বান
বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জাতীয় অগ্রগতির জন্য সশস্ত্র বাহিনী জনগণের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাবে। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরিতেও সামরিক বাহিনী নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।
সামরিক নেতৃত্বের মতে, পাকিস্তানের প্রকৃত শক্তি নিহিত রয়েছে জনগণের ঐক্য ও সম্মিলিত সংকল্পের মধ্যে। তাই স্বাধীনতা দিবসে জনগণের প্রতি পারস্পরিক সহনশীলতা বাড়ানো এবং জাতীয় সংহতি আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্বাস, ঐক্য ও শৃঙ্খলার বার্তা
স্বাধীনতার আদর্শকে সামনে রেখে জনগণকে বিশ্বাস, ঐক্য ও শৃঙ্খলার নীতিতে নতুন করে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।
তাদের বার্তায় নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ পাকিস্তান গড়তে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার অর্জন ধরে রাখতে জাতীয় ঐক্য ও পারস্পরিক সহনশীলতাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসের বার্তার শেষাংশে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও দেশের দীর্ঘস্থায়ী কল্যাণ কামনা করা হয়।



















