১০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
নতুন বিতর্কে রাবি রাকসু নেতা: জাহানারা ইমামকে কটাক্ষ, পদ স্থগিতের দাবি ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান, কম্পন অনুভূত দিল্লি-কাশ্মীর-পাকিস্তানেও নতুন রহস্যময় পোস্টে মাহফুজ আলমের সতর্কবার্তা: ‘আমি প্রথম বলির পাঁঠা হতে পারি, কিন্তু শেষ নই’ নানা অঞ্চলে রেকর্ড বৃষ্টি, ভূমিকম্পের পর জাপানে দুই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বাড়ল ভূমিধসের শঙ্কা নদীতে সাত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর লাশ ভাসার গুজব, তথ্য ভিত্তিহীন বলছে পুলিশ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড: ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা গণনা, ছাড়িয়ে গেল আগের সব হিসাব ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আবারও তীব্র, ড্রোন হামলার অভিযোগে উদ্বেগে উপসাগরীয় অঞ্চল নড়াইলে ঐচ্ছিক অনুদান বিতর্ক: তালিকায় দুইবার এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম, ব্যাখ্যায় পিএসকে দায়ী করলেন সংসদ সদস্য সরকারি তথ্য এবার বিভিন্ন ভাষায়, এআই অনুবাদ চালু করল সিঙ্গাপুর দেশীয় টায়ার শিল্প সুরক্ষায় ২০% শুল্ক বহাল রাখার দাবি, আমদানিকারকদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান

নড়াইলে ঐচ্ছিক অনুদান বিতর্ক: তালিকায় দুইবার এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম, ব্যাখ্যায় পিএসকে দায়ী করলেন সংসদ সদস্য

নড়াইল-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান (বাচ্চু) বরাদ্দপ্রাপ্ত ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান তালিকায় তার মেয়ের নাম দুইবার থাকার অভিযোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তালিকাকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হলে শনিবার বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ভাইরাল হওয়া চিঠিতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান হিসেবে বিতরণের জন্য ২১ জনের একটি তালিকা অনুমোদনের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। সেখানে নাম, পিতার নাম, ঠিকানা এবং অনুদানের পরিমাণ উল্লেখ ছিল।

তালিকায় একই নাম দুইবার

তালিকার ১ ও ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নামটি রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি ক্ষেত্রে পিতার নাম লেখা হয়েছে ‘মো. বাচ্চু’ এবং অন্যটিতে ‘মো. আতাউর’। সামাজিকমাধ্যমে দাবি করা হয়, ফাইজা সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের মেয়ের নাম।

এ ছাড়া তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই সংসদ সদস্যের নিজ ইউনিয়ন হবখালীর বাসিন্দা এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা লাহুড়িয়ায় বলে অভিযোগ ওঠে।

তালিকা সঠিক, তবে প্রস্তুত করেছেন পিএস

শনিবার বিকেলে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান তালিকাটি সঠিক বলে নিশ্চিত করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তালিকা প্রস্তুতের কাজটি করেছেন তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস)।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য বছরে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য ৫ লাখ টাকার ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল পান। তিনি শপথ নেওয়ার পর চলতি অর্থবছরের হিসাবে নড়াইল-২ আসনের জন্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের জন্য আগে থেকেই একটি নামের তালিকা সংসদ সচিবালয়ে জমা দিতে হয়। ওই সময় তিনি এলাকায় ব্যস্ত ছিলেন। তার দাবি, পিএস তাকে জানায় যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামের তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। তখন তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সংসদ সদস্যের দাবি, পরে পিএস তাকে জানান যে আপাতত পরিচিত কিছু নাম দিয়ে তালিকা জমা দেওয়া যেতে পারে এবং পরবর্তীতে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করা হবে। সেই প্রেক্ষাপটে তার স্বাক্ষরিত প্যাড ব্যবহার করে পিএস তালিকা জমা দেন।

প্রকৃত তালিকা পরে প্রকাশের দাবি

আতাউর রহমান বলেন, তালিকায় তার পরিচিতজন বা পরিবারের সদস্যদের নাম বেশি চলে আসায় এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে অর্থবছর শেষে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং নড়াইল-২ আসনের মানুষ তা জানতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের অর্থ থেকে তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোনো সুবিধা নেবেন না। একই সঙ্গে তিনি জানান, নতুন করে একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে এবং সেই তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করা হবে।

ঐচ্ছিক অনুদান তালিকায় এমপি আতাউর রহমানের মেয়ের নাম দুইবার থাকার অভিযোগ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন বিতর্কে রাবি রাকসু নেতা: জাহানারা ইমামকে কটাক্ষ, পদ স্থগিতের দাবি

নড়াইলে ঐচ্ছিক অনুদান বিতর্ক: তালিকায় দুইবার এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম, ব্যাখ্যায় পিএসকে দায়ী করলেন সংসদ সদস্য

০৮:৫৬:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

নড়াইল-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান (বাচ্চু) বরাদ্দপ্রাপ্ত ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদান তালিকায় তার মেয়ের নাম দুইবার থাকার অভিযোগ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি তালিকাকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হলে শনিবার বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ভাইরাল হওয়া চিঠিতে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান হিসেবে বিতরণের জন্য ২১ জনের একটি তালিকা অনুমোদনের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে। সেখানে নাম, পিতার নাম, ঠিকানা এবং অনুদানের পরিমাণ উল্লেখ ছিল।

তালিকায় একই নাম দুইবার

তালিকার ১ ও ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নামটি রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই ১০ হাজার টাকা করে অনুদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একটি ক্ষেত্রে পিতার নাম লেখা হয়েছে ‘মো. বাচ্চু’ এবং অন্যটিতে ‘মো. আতাউর’। সামাজিকমাধ্যমে দাবি করা হয়, ফাইজা সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের মেয়ের নাম।

এ ছাড়া তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই সংসদ সদস্যের নিজ ইউনিয়ন হবখালীর বাসিন্দা এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি তার শ্বশুরবাড়ির এলাকা লাহুড়িয়ায় বলে অভিযোগ ওঠে।

তালিকা সঠিক, তবে প্রস্তুত করেছেন পিএস

শনিবার বিকেলে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান তালিকাটি সঠিক বলে নিশ্চিত করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তালিকা প্রস্তুতের কাজটি করেছেন তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস)।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য বছরে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য ৫ লাখ টাকার ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল পান। তিনি শপথ নেওয়ার পর চলতি অর্থবছরের হিসাবে নড়াইল-২ আসনের জন্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের জন্য আগে থেকেই একটি নামের তালিকা সংসদ সচিবালয়ে জমা দিতে হয়। ওই সময় তিনি এলাকায় ব্যস্ত ছিলেন। তার দাবি, পিএস তাকে জানায় যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নামের তালিকাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। তখন তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নাম সংগ্রহ করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সংসদ সদস্যের দাবি, পরে পিএস তাকে জানান যে আপাতত পরিচিত কিছু নাম দিয়ে তালিকা জমা দেওয়া যেতে পারে এবং পরবর্তীতে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করা হবে। সেই প্রেক্ষাপটে তার স্বাক্ষরিত প্যাড ব্যবহার করে পিএস তালিকা জমা দেন।

প্রকৃত তালিকা পরে প্রকাশের দাবি

আতাউর রহমান বলেন, তালিকায় তার পরিচিতজন বা পরিবারের সদস্যদের নাম বেশি চলে আসায় এখন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে অর্থবছর শেষে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং নড়াইল-২ আসনের মানুষ তা জানতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, জনগণের অর্থ থেকে তিনি বা তার পরিবারের কেউ কোনো সুবিধা নেবেন না। একই সঙ্গে তিনি জানান, নতুন করে একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে এবং সেই তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণ করা হবে।

ঐচ্ছিক অনুদান তালিকায় এমপি আতাউর রহমানের মেয়ের নাম দুইবার থাকার অভিযোগ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।