কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে এবারও মিলেছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। শনিবার দানবাক্স খোলার পর এখন পর্যন্ত গণনায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। তবে এখনও ছোট নোট গণনার কাজ চলমান থাকায় চূড়ান্ত হিসাব আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত গণনা করা অর্থ রূপালী ব্যাংকের হিসাবে জমা দেওয়া হয়েছে। এরপরও অবশিষ্ট টাকার হিসাব করা হচ্ছে। গণনা শেষ হলে মোট অর্থের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
দানবাক্স খোলার পর শুরু হয় গণনা
শনিবার সকাল ৭টায় জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন নিজ হাতে মসজিদের ১৩টি দানবাক্সের সিলগালা খুলে দেন। পরে দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থ ৪৩টি বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়।
সেখানে চার শতাধিক জনবল একযোগে টাকা গণনার কাজে অংশ নেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম রাত পর্যন্ত চলবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ভেঙে গেল আগের সব রেকর্ড
এবারের সংগ্রহ ইতোমধ্যেই পাগলা মসজিদের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে। গণনা চলমান অবস্থাতেই প্রাপ্ত অর্থ অতীতের সব হিসাবকে ছাড়িয়ে গেছে।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় ৩৫ বস্তা টাকা গণনা করে পাওয়া যায় ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা। এবার সেই অঙ্ক অনেকটাই অতিক্রম করেছে।
ব্যাংকে জমা আছে শতকোটি টাকার বেশি
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানিয়েছেন, সর্বশেষ প্রাপ্ত অর্থের বাইরে পাগলা মসজিদের নামে ব্যাংকে ইতোমধ্যে ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ পাগলা মসজিদে এসে দান করে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে এই মসজিদের দানবাক্সে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে আসছে। এবারও সেই ধারাবাহিকতায় নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহাসিক মসজিদে পাওয়া অর্থ ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার পাওয়া অর্থের পরিমাণ চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ না হলেও এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসাবই অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা
কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে গণনায় এখন পর্যন্ত ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এখনও গণনা চলছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















