জাপানের বিভিন্ন অঞ্চলে শনিবার প্রবল বৃষ্টিপাত নিয়ে আঘাত হেনেছে দুটি উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড়—হিগোস ও মেখখালা। এর ফলে শিজুওকা, কানাগাওয়া এবং চিবা প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি করা হয়। মাত্র একদিন আগে ইয়ামানাশি প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর এই আবহাওয়া পরিস্থিতি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
দিনের শুরুতে জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) চিবা প্রদেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূমিধসের জন্য লেভেল-৪ সতর্কতা জারি করে। এই সতর্কতা জাপানের সতর্কতা ব্যবস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর, যা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
ঝড়ের গতিপথ ও পরিস্থিতি
মেখখালা চিবা উপকূল ঘেঁষে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে চলে যায়। পরে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শনিবার রাতের দিকে বেশিরভাগ সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে একই দিনে হিগোসও চিবা প্রদেশের দক্ষিণের সমুদ্রসীমা অতিক্রম করে প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে চলে যায়। যদিও দুটি ঝড় সরাসরি স্থলভাগে আঘাত করেনি, তবুও তারা বিপুল পরিমাণ আর্দ্রতা বহন করে এনে বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ঘটায়।
রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিপাত
দুই ঝড়ের প্রভাবে চিবা প্রদেশের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক এলাকায় জুন মাসের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভেঙে গেছে। শনিবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চোশি শহরে ২৩২ মিলিমিটার, কিমিৎসু শহরে ১৯৫ মিলিমিটার, কিয়োনান শহরে ১৮৩ মিলিমিটার, মোবারা শহরে ১৭০ মিলিমিটার এবং কামোগাওয়া শহরে ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
এত অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি, নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়া এবং ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। জেএমএ জনগণকে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানায়।

ভূমিকম্পের পর নতুন উদ্বেগ
এই আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে কারণ শুক্রবার রাতে ইয়ামানাশি প্রদেশে ৫ দশমিক ৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটি রাত ১০টা ২৯ মিনিটে ভূপৃষ্ঠের ২০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়।
ইয়ামানাশির ফুজিকাওয়াগুচিকো শহরে জাপানের সাত ধাপের শিন্দো স্কেলে কম মাত্রার ৬ তীব্রতা রেকর্ড করা হয়। এছাড়া ওৎসুকি শহরে উপরের মাত্রার ৫ এবং শিজুওকা ও কানাগাওয়ার কিছু এলাকায় নিচের মাত্রার ৫ কম্পন অনুভূত হয়।
জেএমএর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নিচের মাত্রার ৬ তীব্রতার ভূমিকম্পে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে এবং অরক্ষিত আসবাবপত্র উল্টে যেতে পারে। ভূমিকম্পে কিছু স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাত যুক্ত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ঢালু এলাকাগুলোতে ভূমিধসের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
জাপানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
জাপানে দুই উষ্ণমণ্ডলীয় ঝড়ের প্রভাবে রেকর্ড বৃষ্টি, ভূমিধস সতর্কতা এবং ভূমিকম্প-পরবর্তী ঝুঁকি বেড়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















