০২:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, আগস্টেই আক্রান্ত ১২০২ হিমালয়ের হিমবাহে দূষণের কালো আস্তরণ, বাড়ছে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রাশিয়ার কারাগার থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে তিউনিসীয় তরুণরা, নিয়োগের নেপথ্যে কী? নেপালে ভয়াবহ বন্যায় টেলিযোগাযোগ বিপর্যয়, জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের পুরোনো কৌশলই কি ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি? নেপালের বন্যা শুধু দুর্যোগ নয়, জলবায়ু ন্যায়ের কঠিন পরীক্ষা আশির কোঠাতেও মানুষের পাশে, সেবাকেই তারুণ্যের রহস্য বলছেন দুই স্বেচ্ছাসেবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কাজ বাড়ছে, কিন্তু বেতন নয়—এশিয়ার তরুণ কর্মীদের নতুন দুশ্চিন্তা গুদামে সার, মাঠে সংকট: বাংলাদেশের বোরো কি বৈশ্বিক সার-যুদ্ধের নতুন ঝুঁকিতে? প্রচলিত পুরুষত্বের ধারণায় বদল, তরুণদের মধ্যে বাড়ছে রক্ষণশীল মানসিকতা

ইসরায়েল-লেবানন সমঝোতার পথে নতুন উদ্যোগ, দক্ষিণ লেবাননে ‘হিজবুল্লাহমুক্ত অঞ্চল’ নিয়ে আলোচনা

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রভাব কমিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগে এগোচ্ছে ইসরায়েল ও লেবানন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে এমন কিছু বিশেষ অঞ্চল গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে লেবাননের সরকার প্রমাণ করতে পারবে যে তারা হিজবুল্লাহকে ওই এলাকাগুলো থেকে দূরে রাখতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো নতুন গতি পেয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতার পর এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ লেবাননের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ

আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্ভাব্য অঞ্চলগুলোর অবস্থান। লেবানন চায় সীমান্তঘেঁষা প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর একটি বাফার অঞ্চলের ভেতরে অন্তত কিছু পরীক্ষামূলক এলাকা রাখা হোক। বর্তমানে ওই এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর টহলে রয়েছে এবং সেখানে সাধারণ মানুষের বসবাস কার্যত বন্ধ রয়েছে।

তবে ইসরায়েল এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মতে, লেবাননের সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের অন্য এলাকাগুলোতে মোতায়েন হয়ে নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম চালাতে পারে। বিশেষ করে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলকে তারা এ ধরনের উদ্যোগের জন্য উপযুক্ত মনে করছে।

Hezbollah says Israel-Lebanon agreement 'null and void'; Israel said  bracing for attack | The Times of Israel

হিজবুল্লাহকে ফেরার সুযোগ না দেওয়ার পরিকল্পনা

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরীক্ষামূলক অঞ্চলগুলোতে লেবাননের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও তদারকির সহায়তা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এর লক্ষ্য হবে, দক্ষিণ লেবাননের যেসব এলাকা থেকে হিজবুল্লাহকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে তাদের পুনরায় প্রবেশ ঠেকানো।

ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট—তাদের দাবি, হিজবুল্লাহ এখনো নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সীমান্তবর্তী বাফার অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার কিংবা বাস্তুচ্যুত লেবাননিদের ফেরার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

সমঝোতার আশায় ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং একই সঙ্গে লেবাননের সঙ্গে সমান্তরাল শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

Israel Keeps Grip on Lebanon as Beirut Eyes Hezbollah-Free Zone - Bloomberg

ওয়াশিংটনের আশা, খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। আলোচনায় অংশ নেওয়া পক্ষগুলোও এখন এমন একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে, যা সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান

যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহল এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

এই অবস্থান ভবিষ্যৎ আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে নতুন একটি পথ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Israel Keeps Grip on Lebanon as Beirut Eyes Hezbollah-Free Zone - Bloomberg

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, আগস্টেই আক্রান্ত ১২০২

ইসরায়েল-লেবানন সমঝোতার পথে নতুন উদ্যোগ, দক্ষিণ লেবাননে ‘হিজবুল্লাহমুক্ত অঞ্চল’ নিয়ে আলোচনা

১১:৩১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রভাব কমিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগে এগোচ্ছে ইসরায়েল ও লেবানন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে এমন কিছু বিশেষ অঞ্চল গঠনের বিষয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে লেবাননের সরকার প্রমাণ করতে পারবে যে তারা হিজবুল্লাহকে ওই এলাকাগুলো থেকে দূরে রাখতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলো নতুন গতি পেয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি সমঝোতার পর এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ লেবাননের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মতবিরোধ

আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সম্ভাব্য অঞ্চলগুলোর অবস্থান। লেবানন চায় সীমান্তঘেঁষা প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীর একটি বাফার অঞ্চলের ভেতরে অন্তত কিছু পরীক্ষামূলক এলাকা রাখা হোক। বর্তমানে ওই এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর টহলে রয়েছে এবং সেখানে সাধারণ মানুষের বসবাস কার্যত বন্ধ রয়েছে।

তবে ইসরায়েল এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের মতে, লেবাননের সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের অন্য এলাকাগুলোতে মোতায়েন হয়ে নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম চালাতে পারে। বিশেষ করে লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলকে তারা এ ধরনের উদ্যোগের জন্য উপযুক্ত মনে করছে।

Hezbollah says Israel-Lebanon agreement 'null and void'; Israel said  bracing for attack | The Times of Israel

হিজবুল্লাহকে ফেরার সুযোগ না দেওয়ার পরিকল্পনা

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরীক্ষামূলক অঞ্চলগুলোতে লেবাননের সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও তদারকির সহায়তা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এর লক্ষ্য হবে, দক্ষিণ লেবাননের যেসব এলাকা থেকে হিজবুল্লাহকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে তাদের পুনরায় প্রবেশ ঠেকানো।

ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট—তাদের দাবি, হিজবুল্লাহ এখনো নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সীমান্তবর্তী বাফার অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার কিংবা বাস্তুচ্যুত লেবাননিদের ফেরার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

সমঝোতার আশায় ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং একই সঙ্গে লেবাননের সঙ্গে সমান্তরাল শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

Israel Keeps Grip on Lebanon as Beirut Eyes Hezbollah-Free Zone - Bloomberg

ওয়াশিংটনের আশা, খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। আলোচনায় অংশ নেওয়া পক্ষগুলোও এখন এমন একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে, যা সীমান্তে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।

ইসরায়েলের কঠোর অবস্থান

যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহল এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। দেশটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় থাকবে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

এই অবস্থান ভবিষ্যৎ আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে নতুন একটি পথ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Israel Keeps Grip on Lebanon as Beirut Eyes Hezbollah-Free Zone - Bloomberg