বিশ্বকাপের মাঠে প্রিয় দলের খেলা দেখার স্বপ্ন অনেক ফুটবলপ্রেমীরই থাকে। তবে এবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভ্রমণ ব্যয়। ম্যাচের টিকিট, হোটেল, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপকে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসরগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর সেই কারণেই হাজারো সমর্থক খরচ কমাতে বেছে নিচ্ছেন অভিনব সব উপায়।
ভ্রমণ ব্যয় বাড়লেও স্বপ্নে ছাড় নয়
এবারের বিশ্বকাপে জনপ্রিয় ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম কয়েকশ ডলার থেকে প্রায় ৯০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে। কিছু স্টেডিয়ামে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হচ্ছে। জনপ্রিয় ম্যাচের সময় ভালো মানের হোটেলের এক রাতের ভাড়াও কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ফলে অনেক দর্শক প্রচলিত উপায়ের বাইরে গিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছেন।
কেউ ক্রেডিট কার্ডের পুরস্কার পয়েন্ট ব্যবহার করছেন, কেউ দীর্ঘ সড়ক ভ্রমণ বেছে নিচ্ছেন, আবার কেউ নিজেদের বাড়িতে অন্য ভ্রমণকারীদের থাকার সুযোগ দিয়ে বিনিময়ে অন্য শহরে বিনা খরচে থাকার ব্যবস্থা করছেন।
পয়েন্ট ব্যবহারেই বিশাল সাশ্রয়
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ এলা স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সাতটি ম্যাচ দেখার পরিকল্পনা করেছেন। ম্যাচের টিকিটে তাদের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হলেও বিমান ও হোটেল বুকিংয়ে জমে থাকা পুরস্কার পয়েন্ট ব্যবহার করে প্রায় ২৪ হাজার ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করেছেন বলে জানান।
তারা নির্দিষ্ট কোনো দলের সূচি নয়, বরং তুলনামূলক কম খরচের বিমান ও হোটেল পাওয়া যায়—এমন পরিকল্পনা ধরে সফর সাজিয়েছেন। ফলে ভ্রমণ ব্যয় কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে অন্য দর্শনীয় স্থানও ঘুরে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

দ্রুত সিদ্ধান্তে মিলেছে লাভ
কানাডায় বসবাসকারী কলম্বিয়ান সমর্থক আন্দ্রেস গোমেজ বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশের পরপরই টিকিট ও হোটেল বুকিং সম্পন্ন করেন। তার ভাষায়, অপেক্ষা করলে হয়তো টিকিট কিছুটা কম দামে পাওয়া যেত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকিট না পাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাননি।
এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত লাভজনক হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই হোটেলের ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।
বাড়ি বদলে থাকার নতুন কৌশল
লন্ডনে বসবাসকারী ব্রাজিলিয়ান সমর্থক এপিতাসিও মিরান্ডা ব্যয় কমাতে বাড়ি বিনিময়ের একটি সেবা ব্যবহার করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অন্য সদস্যদের বাড়িতে থেকেছেন, আর সেই সময় অন্য ভ্রমণকারীরা থেকেছেন তার লন্ডনের বাড়িতে।
তার মতে, পরিবারের অনেক সদস্য একসঙ্গে থাকার সুযোগ পাওয়ায় বিপুল অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। পাশাপাশি রান্নাঘর ব্যবহারের সুবিধা থাকায় বাইরের খাবারের খরচও কমেছে।
বন্ধুত্বই হয়ে উঠেছে সাশ্রয়ের উপায়
মার্কিন ফুটবল সমর্থকদের একটি সংগঠনের মাধ্যমে পরিচিত আরেকটি পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসা ভাগাভাগি করে থেকেছেন ইভান সিপ্রিয়ানো। দীর্ঘ সময়ের জন্য একসঙ্গে বাড়ি বুকিং করায় তারা উল্লেখযোগ্য ছাড় পেয়েছেন।
যদিও একটি ভাড়া বাড়ির বুকিং বিশ্বকাপ শুরুর অল্প আগে বাতিল হয়ে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছিল, পরে তারা আরও কম ভাড়ায় নতুন আবাসন খুঁজে পান।
আকাশপথ নয়, সড়কপথে বিশ্বকাপ সফর
নেদারল্যান্ডসের ম্যাক্স ফান রেগতেরেন বিমান ভ্রমণের পরিবর্তে বন্ধুদের সঙ্গে গাড়ি ভাড়া করে বিভিন্ন ম্যাচ দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। দুই সপ্তাহের এই সফরে তারা একাধিক শহর ঘুরে দেখবেন এবং পথের ধারের মোটেলে রাত কাটাবেন।
তাদের ধারণা, পুরো সফরের ব্যয় নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই থাকবে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সড়ক ভ্রমণ তাদের জন্য বিশ্বকাপের পাশাপাশি নতুন নতুন স্থান দেখার সুযোগও তৈরি করেছে।
স্বপ্ন পূরণে বদলে যাচ্ছে ভ্রমণের ধরণ
বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়তি ব্যয় ফুটবলপ্রেমীদের নিরুৎসাহিত করতে পারেনি। বরং তারা আগেভাগে পরিকল্পনা, পুরস্কার পয়েন্টের ব্যবহার, বাড়ি বিনিময়, বন্ধুদের সঙ্গে খরচ ভাগাভাগি এবং সড়কপথে ভ্রমণের মতো নানা উপায়ে ব্যয় কমিয়ে বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। এতে প্রমাণ হচ্ছে, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সীমিত বাজেটেও বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া উৎসব উপভোগ করা সম্ভব।
বিশ্বকাপ দেখতে বাড়তি খরচ এড়াতে সমর্থকদের অভিনব ভ্রমণ কৌশল ও সাশ্রয়ের নানা উদ্যোগ নিয়ে এই প্রতিবেদন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















