১২:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬
এখন ফুটবলে মাতছে যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বকাপের সাফল্যে বাড়ছে উন্মাদনা প্রথম রেসে মোয়ানা, দ্বিতীয় রেসে হোয়াট আ ওয়ারিয়র—আজকের ঘোড়দৌড়ে কারা এগিয়ে চিরযৌবনের নয়, মর্যাদাপূর্ণ বার্ধক্যের সমাজ গড়তে প্রজন্মের মধ্যে বোঝাপড়া জরুরি নতুন প্রজন্মকে উগ্রবাদ থেকে রক্ষায় কাঠামোবদ্ধ ধর্মশিক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে আপনার গাড়ি নয়, সবার নিরাপদ যাত্রাই হোক সড়কের আসল লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও প্রাথমিক স্তরের দক্ষতা নেই! উচ্চশিক্ষা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা চীনের গ্রীষ্মকালীন দাভোসে ভবিষ্যতের প্রযুক্তির জয়জয়কার, ভূরাজনীতি ছিল দ্বিতীয় আলোচ্য ত্বকের দাগ শুধু বাহ্যিক নয়, শিশু-কিশোরের মানসিক স্বাস্থ্যেরও বড় হুমকি বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন বার্তা, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াকে স্বাগত জানাল সিপিটিপিপি যকৃত গবেষণায় পথিকৃৎ চিকিৎসকের নামে নতুন অধ্যাপক পদ, ভবিষ্যৎ গবেষণায় নতুন দিগন্তের আশা

অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও কঠোর আইন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জরিমানা দ্বিগুণ

শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে লাগাম টানতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির সরকার ঘোষণা করেছে, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য চালু থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জরিমানা দ্বিগুণ করা হবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও শক্তিশালী ক্ষমতা দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সরাসরি তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারে।

সরকারের এই পদক্ষেপ এমন সময় এলো, যখন বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কয়েক মাস পরও বিপুলসংখ্যক কিশোর-কিশোরী আগের মতোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে।

নিয়ম ভাঙলে বাড়বে আর্থিক শাস্তি

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে আইন মানতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা।

Australia Moves To Double Fines For Social Media Platforms Over Under-16  Ban - The CSR Journal

সরকার জানিয়েছে, অনলাইন নিরাপত্তা তদারকি সংস্থা বর্তমানে কয়েকটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইন মেনে চলার বিষয়টি তদন্ত করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা বাড়ছে

নতুন আইনের আওতায় অনলাইন নিরাপত্তা কমিশনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য চাইতে পারবেন। তারা কীভাবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের নতুন হিসাব খোলা ঠেকাচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণও দিতে হবে।

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নয়, বয়স যাচাই প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অ্যাপ বিতরণসংশ্লিষ্ট সেবাদাতাদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহের সুযোগ রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা সহজ হবে।

সরকারের দাবি, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট করছে না

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিশুদের নিরাপদ রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ন্যূনতম বয়সসীমা চালুর পর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে অনেক শিশু এখনো সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আইন কার্যকর হওয়ার পর ১৬ বছরের কম বয়সীদের ৫০ লাখের বেশি হিসাব বন্ধ অথবা সীমিত করা হয়েছে।

Australia Tightens Social Media Ban for Children, Doubles Penalties for Tech  Platforms - CSR NEWS

গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর চালু করা বয়স যাচাই ব্যবস্থা সহজেই ফাঁকি দেওয়া সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের প্রকৃত বয়স যাচাইয়ের কোনো কার্যকর প্রমাণই চাওয়া হয়নি।

একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার তিন মাস পরও ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয়দের বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজের বয়স ১৬ বছরের বেশি দেখিয়ে অথবা নিজের ছবি ব্যবহার করে যাচাই প্রক্রিয়া পার হয়ে গেছে।

আইন আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতি

সরকারের যোগাযোগবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বদলে ন্যূনতম পদক্ষেপ নিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। এ কারণে আইনের কার্যকারিতা বাড়াতে আরও সংশোধনী আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, সংশোধিত আইন কবে সংসদে উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।

Australia Ups the Ante in Under-16 Social Media Ban as Kids Find Workarounds

এদিকে, একটি জনপ্রিয় অনলাইন আলোচনা প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে এই নিষেধাজ্ঞার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছে। সরকার জানিয়েছে, তারা আদালতে আইনটির পক্ষে অবস্থান নেবে।

অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগ বিশ্বের অনেক দেশের নজর কেড়েছে। শিশু-কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিভিন্ন দেশ একই ধরনের আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এখন ফুটবলে মাতছে যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বকাপের সাফল্যে বাড়ছে উন্মাদনা

অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও কঠোর আইন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জরিমানা দ্বিগুণ

১০:৫৯:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে লাগাম টানতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির সরকার ঘোষণা করেছে, ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য চালু থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ব্যর্থ হলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ জরিমানা দ্বিগুণ করা হবে। একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও শক্তিশালী ক্ষমতা দেওয়া হবে, যাতে তারা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সরাসরি তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারে।

সরকারের এই পদক্ষেপ এমন সময় এলো, যখন বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কয়েক মাস পরও বিপুলসংখ্যক কিশোর-কিশোরী আগের মতোই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে।

নিয়ম ভাঙলে বাড়বে আর্থিক শাস্তি

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে আইন মানতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ জরিমানার পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা।

Australia Moves To Double Fines For Social Media Platforms Over Under-16  Ban - The CSR Journal

সরকার জানিয়েছে, অনলাইন নিরাপত্তা তদারকি সংস্থা বর্তমানে কয়েকটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইন মেনে চলার বিষয়টি তদন্ত করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা বাড়ছে

নতুন আইনের আওতায় অনলাইন নিরাপত্তা কমিশনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য চাইতে পারবেন। তারা কীভাবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের নতুন হিসাব খোলা ঠেকাচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও প্রমাণও দিতে হবে।

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নয়, বয়স যাচাই প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অ্যাপ বিতরণসংশ্লিষ্ট সেবাদাতাদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহের সুযোগ রাখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি বাস্তবে কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা সহজ হবে।

সরকারের দাবি, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যথেষ্ট করছে না

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিশুদের নিরাপদ রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ন্যূনতম বয়সসীমা চালুর পর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না। ফলে অনেক শিশু এখনো সহজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারছে।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, আইন কার্যকর হওয়ার পর ১৬ বছরের কম বয়সীদের ৫০ লাখের বেশি হিসাব বন্ধ অথবা সীমিত করা হয়েছে।

Australia Tightens Social Media Ban for Children, Doubles Penalties for Tech  Platforms - CSR NEWS

গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর চালু করা বয়স যাচাই ব্যবস্থা সহজেই ফাঁকি দেওয়া সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের প্রকৃত বয়স যাচাইয়ের কোনো কার্যকর প্রমাণই চাওয়া হয়নি।

একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার তিন মাস পরও ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয়দের বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। তাদের মধ্যে অনেকেই নিজের বয়স ১৬ বছরের বেশি দেখিয়ে অথবা নিজের ছবি ব্যবহার করে যাচাই প্রক্রিয়া পার হয়ে গেছে।

আইন আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতি

সরকারের যোগাযোগবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইনের প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বদলে ন্যূনতম পদক্ষেপ নিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। এ কারণে আইনের কার্যকারিতা বাড়াতে আরও সংশোধনী আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সরকার জানিয়েছে, সংশোধিত আইন কবে সংসদে উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।

Australia Ups the Ante in Under-16 Social Media Ban as Kids Find Workarounds

এদিকে, একটি জনপ্রিয় অনলাইন আলোচনা প্ল্যাটফর্ম ইতোমধ্যে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে এই নিষেধাজ্ঞার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছে। সরকার জানিয়েছে, তারা আদালতে আইনটির পক্ষে অবস্থান নেবে।

অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগ বিশ্বের অনেক দেশের নজর কেড়েছে। শিশু-কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিভিন্ন দেশ একই ধরনের আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করছে।