সৈকতে বেড়াতে গিয়ে যদি আগের তুলনায় বেশি প্লাস্টিক, বোতল কিংবা ভাসমান আবর্জনা চোখে পড়ে, তাহলে সেটি কেবল সাময়িক ঘটনা নয়। সরকারি তথ্য বলছে, বছরের এই সময়ে সাগরের স্রোত ও মৌসুমি বাতাসের প্রভাবে সিঙ্গাপুরের উপকূলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সামুদ্রিক আবর্জনা জমা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হলো ইস্ট কোস্ট পার্ক।
২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের সরকারি সামুদ্রিক আবর্জনার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি বছর জুলাই মাসেই উপকূলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ আবর্জনা জমা হয়। ফলে এই সময়টিকে কার্যত বছরের সবচেয়ে বেশি আবর্জনা জমার মৌসুম হিসেবে ধরা হচ্ছে।
কেন ইস্ট কোস্ট পার্কে বেশি আবর্জনা জমে
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি বায়ুর দিক পরিবর্তনের সঙ্গে সমুদ্রের স্রোতেরও পরিবর্তন ঘটে। জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমে দক্ষিণ উপকূলের সৈকতগুলোতে ভাসমান আবর্জনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই কারণেই ইস্ট কোস্ট পার্কে অন্য যেকোনো সৈকতের তুলনায় বেশি আবর্জনা এসে জমা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে গড়ে প্রায় ৩৩৩ দশমিক ৫৫ টন সামুদ্রিক আবর্জনা বিভিন্ন সৈকতে সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ইস্ট কোস্ট পার্ক থেকেই গড়ে ১৫৫ দশমিক ৯ টন আবর্জনা অপসারণ করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেশি।
অন্যদিকে ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব মৌসুমে উত্তর উপকূলের সৈকতগুলোতে আবর্জনার পরিমাণ বাড়তে দেখা যায়।
আবর্জনার বেশির ভাগই আসে সমুদ্রপথে
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সৈকতগুলোর প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই সমুদ্র থেকে আসে। এর মধ্যে জাহাজ থেকে ফেলা বর্জ্য এবং সমুদ্রস্রোতের মাধ্যমে অন্য এলাকা থেকে ভেসে আসা আবর্জনাই প্রধান উৎস।
এতে বোঝা যায়, সৈকতে জমে থাকা সব বর্জ্য স্থানীয়ভাবে তৈরি হয় না। সমুদ্রের স্রোত বহু দূরের অঞ্চল থেকেও প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য বহন করে নিয়ে আসে।
পরিষ্কার রাখতে বাড়ানো হয়েছে কার্যক্রম
বর্ষাকালে সৈকত পরিষ্কার রাখতে কর্তৃপক্ষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। আগে যেখানে সপ্তাহে চার দিন পরিষ্কার করা হতো, এখন অনেক এলাকায় দিনে দুইবার পর্যন্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যতই পরিষ্কার করা হোক না কেন, প্রতিটি জোয়ারের সঙ্গে নতুন করে সমুদ্র থেকে আবারও আবর্জনা ভেসে আসে। ফলে পুরোপুরি আবর্জনামুক্ত রাখা সম্ভব হয় না।
স্থলভাগের বর্জ্য যাতে নদী-খাল হয়ে সমুদ্রে না পৌঁছায়, সে জন্য বিভিন্ন স্থানে আবর্জনা আটকে রাখার বিশেষ অবকাঠামোও ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্জ্য ধরার ফাঁদ, ভাসমান প্রতিবন্ধক এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বিশেষ সুরক্ষা।
পরিচ্ছন্নতায় নাগরিকদের অংশগ্রহণ
পরিবেশ রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। যারা সৈকত পরিষ্কার অভিযানে অংশ নিতে চান, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও নির্দিষ্ট স্থান থেকে সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা এবং স্বেচ্ছাসেবী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে সামুদ্রিক দূষণ কমাতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে সমুদ্র ও উপকূলের পরিবেশ রক্ষায় নাগরিক সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















