তীব্র তাপপ্রবাহ, জাঁকজমকপূর্ণ আতশবাজি, ঐতিহাসিক শোভাযাত্রা এবং রাজনৈতিক বক্তব্য—সবকিছুর মিশেলে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে। দেশজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ১৭৭৬ সালের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরের এই ঐতিহাসিক মাইলফলক স্মরণ করা হলেও উৎসবের আবহকে ছাপিয়ে আলোচনায় এসেছে রাজনৈতিক বিভাজন এবং চরম আবহাওয়ার প্রভাব।
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে বড় আকারের আতশবাজির আয়োজনকে কেন্দ্র করে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এর আগে দক্ষিণ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজমকে দেশের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
দেশজুড়ে নানা আয়োজন
শিকাগোর নেভি পিয়ার, নিউইয়র্কের আকাশরেখা এবং ওয়াশিংটনসহ বিভিন্ন শহরে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আতশবাজির আয়োজন করা হয়েছে। নিউইয়র্কে নববর্ষের আদলে মধ্যরাতে বিশেষ কাউন্টডাউন অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে স্ট্যাচু অব লিবার্টিকে ঘিরে ঐতিহ্যবাহী পালতোলা জাহাজের শোভাযাত্রা ১৯৭৬ সালের দ্বিশতবার্ষিকী উদযাপনের স্মৃতিকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।
ভার্জিনিয়ার মাউন্ট ভার্ননে নতুন নাগরিকদের আনুগত্যের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীতের সঙ্গে শত শত মানুষ দেশের প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেন। কেন্টাকির লুইসভিলে দর্শনার্থীরা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের প্রতিলিপিতে স্বাক্ষর করেন, আর ভারমন্টে শিশুদের অংশগ্রহণে প্যারেড উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

তাপপ্রবাহে ব্যাহত উদযাপন
যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়। ওয়াশিংটনে হিট ইনডেক্স ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছানোর সতর্কতা জারি করা হয়। অতিরিক্ত গরমের কারণে রাজধানীর প্রধান স্বাধীনতা দিবসের শোভাযাত্রা বাতিল করা হলেও ক্যাপিটল হিল এলাকায় ছোট পরিসরে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ফিলাডেলফিয়ায় শত শত মানুষ প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে ইন্ডিপেনডেন্স হলে জড়ো হন। একই দিনে সেখানে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচকে ঘিরেও ছিল বাড়তি উৎসাহ।
অন্যদিকে নিউইয়র্কের কোনি আইল্যান্ডে ঐতিহ্যবাহী হট ডগ খাওয়ার প্রতিযোগিতায় পুরুষ বিভাগে জোয়ি “জস” চেস্টনাট ১০ মিনিটে ৬৬টি হট ডগ ও বান খেয়ে ২১ আসরের মধ্যে ১৮তম শিরোপা জেতেন। নারী বিভাগে মিকি সুদো ৩৮ দশমিক ৭৫টি হট ডগ খেয়ে শিরোপা ধরে রাখেন। দুই চ্যাম্পিয়নই জানান, প্রচণ্ড গরম প্রতিযোগিতাকে অনেক বেশি কঠিন করে তুলেছিল।
রাজনৈতিক উত্তাপও সমান তীব্র
উদযাপনের পাশাপাশি নির্বাচনমুখী যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজনের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটনে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী সংগঠন প্যাট্রিয়ট ফ্রন্টের সদস্যরা মুখোশ পরে কনফেডারেট পতাকা নিয়ে মিছিল করে। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বক্তব্যে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানান। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ, গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও দেশের শক্তি এখনো টিকে আছে এবং সেই শক্তিই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, স্বাধীনতা দিবসে কেউ কেউ দেশের সীমাবদ্ধতার কথা বলবেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্য ও শক্তিকে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি তাই শুধু উৎসব নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস, বর্তমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতীয় আত্মসমালোচনা ও আত্মপর্যালোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা উদযাপনে তাপপ্রবাহ, আতশবাজি, ঐতিহাসিক আয়োজন এবং রাজনৈতিক বিভাজন একসঙ্গে আলোচনায় এসেছে।
#যুক্তরাষ্ট্র #স্বাধীনতা২৫০ #ডোনাল্ডট্রাম্প #ওয়াশিংটন #নিউইয়র্ক #তাপপ্রবাহ #আতশবাজি #বিশ্বরাজনীতি #সারাক্ষণ
Sarakhon Report 


















