০৯:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
ইরান যুদ্ধের বিরতি কি সাময়িক? সামনে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা জেডি ভ্যান্সের বার্তা: ‘অসাধারণ’ ব্রিটেনকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যর্থ করেছে নেতৃত্ব খুলনায় গলাকাটা অবস্থায় ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার রহস্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ নেতার শেষ বিদায়ে তেহরানে লাখো মানুষের ঢল, খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিকে ঘিরে শোক-রাজনীতির নতুন অধ্যায় মরক্কোর দাপটে বিদায় স্বাগতিক কানাডা, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধিরা বর্ষাতেও রংপুরে তাপপ্রবাহের দাপট, বিদ্যুৎ সংকটে বাড়ছে জনদুর্ভোগ আমেরিকান স্বপ্ন: উজ্জ্বল প্রতিশ্রুতি থেকে কঠিন বাস্তবতার দীর্ঘ যাত্রা ভারতের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সংকট কি এখন ভোটের আগেই নির্ধারিত হচ্ছে? মেক্সিকো: যেখানে ইতিহাসের পরাজয় ভেঙে নতুন গল্প লিখতে চায় ইংল্যান্ড বিচ্ছিন্নতাবাদী-সন্ত্রাসীদের হামলায় পাপুয়ায় মার্কিন পাইলট নিহত, তদন্তে ইন্দোনেশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সমন্বয়

জেডি ভ্যান্সের বার্তা: ‘অসাধারণ’ ব্রিটেনকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যর্থ করেছে নেতৃত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ব্রিটেনের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত টান ও শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে তাঁর মতে, দেশটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগাতে পারেনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের একটি হলেও দেশটির রাজনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

ব্রিটেনের প্রতি ব্যক্তিগত টান

ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সাংস্কৃতিকভাবে ব্রিটেনকেই তিনি নিজের সবচেয়ে কাছের দেশ বলে মনে করেন। তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্স কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। স্ত্রীকে জানার আগে তিনি কখনও ব্রিটেনে যাননি। পরবর্তী সময়ে ওয়েলসের ঐতিহাসিক কেয়ারনারফন দুর্গসহ বিভিন্ন স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তাঁর নতুন বই Communion: Finding My Way Back to Faith-এ উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ব্রিটেনের দীর্ঘ ইতিহাস ও সভ্যতার ঐতিহ্য তাঁকে মুগ্ধ করেছে। তবে একই সঙ্গে তাঁর বিশ্বাস, আধুনিক পশ্চিমা সমাজ সেই নির্মাণশীল মনোভাব অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে।

ব্রিটিশ রাজনীতির সমালোচনা

সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, অল্প কয়েক বছরের মধ্যে ব্রিটেনে একাধিক প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি প্রমাণ করে যে ব্রিটিশ রাজনীতির ভেতরে গভীর সমস্যা রয়েছে এবং জনগণ বড় ধরনের পরিবর্তন চায়।

সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্পর্কে তিনি বলেন, তাঁর বিষয়ে খুব বেশি জানেন না। তবে যিনিই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হন না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্ব দেশটিকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারবে।

অভিবাসন ও পশ্চিমা মূল্যবোধ

ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়ে নিজের আগের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন ভ্যান্স। তাঁর মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত নিজেদের মূল্যবোধ রক্ষা করা এবং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের ঝুঁকি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা শত্রুতা থেকে নয়, বরং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গা থেকেই আসে। কখনও কখনও সেই বক্তব্য কঠোর শোনালেও উদ্দেশ্য হলো মিত্রদের আরও শক্তিশালী হতে উৎসাহিত করা।

বিশ্বাস, রাজনীতি ও নতুন বই

ভ্যান্সের নতুন বই মূলত তাঁর ধর্মীয় জীবনের পরিবর্তনের গল্প। শৈশবের ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান পরিবেশ থেকে একসময় নাস্তিকতায় ঝুঁকে পড়া এবং পরে ২০১৯ সালে ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণের অভিজ্ঞতা তিনি এতে তুলে ধরেছেন।

তিনি জানান, বইটি রাজনৈতিক ইশতেহার নয়; বরং একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, আত্মঅনুসন্ধান এবং খ্রিস্টধর্মের প্রতি ফিরে আসার কাহিনি। যদিও বইটিতে তাঁর অর্থনীতি, পরিবার ও সমাজ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দর্শনেরও প্রতিফলন রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ভ্যান্স। তাঁর মতে, ইউক্রেনের জন্য প্রতিরক্ষামূলক কৌশল আক্রমণাত্মক অভিযানের চেয়ে বেশি কার্যকর হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই কৌশল রাশিয়ার অগ্রযাত্রাকে ধীর করেছে এবং ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ভ্যান্সের ভাষায়, রাশিয়া প্রতিটি নতুন এলাকা দখলের জন্য বড় মূল্য দিচ্ছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি যুদ্ধের সমাপ্তির পথ তৈরি করতে পারে।

বিতর্কিত মন্তব্য ও আত্মসমালোচনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতীতে দেওয়া কিছু মন্তব্য নিয়েও কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট। বিশেষ করে নারীদের নিয়ে তাঁর পুরোনো একটি মন্তব্যকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম ‘সবচেয়ে বোকামিপূর্ণ’ মন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস তাঁকে আরও আত্মসমালোচনামূলক হতে শিখিয়েছে। জনজীবনে অযথা বিতর্ক তৈরি করার চেয়ে প্রয়োজনীয় বিতর্কের মাধ্যমে মানুষকে ভাবতে বাধ্য করাই তাঁর লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ভ্যান্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ইউরোপ—সব ক্ষেত্রেই পুরোনো রাজনৈতিক ধারণাগুলো নতুন বাস্তবতার মুখে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে মতপার্থক্য থাকলেও পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়াই তাঁর প্রত্যাশা।

জেডি ভ্যান্সের ভাষায় ব্রিটেনের নেতৃত্বের সমালোচনা, পশ্চিমা মূল্যবোধ ও নতুন বই নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য।

#জেডিভ্যান্স #ব্রিটেন #যুক্তরাষ্ট্র #রাজনীতি #যুক্তরাজ্য #DonaldTrump #UKPolitics #WorldNews

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের বিরতি কি সাময়িক? সামনে আরও বড় সংঘাতের আশঙ্কা

জেডি ভ্যান্সের বার্তা: ‘অসাধারণ’ ব্রিটেনকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যর্থ করেছে নেতৃত্ব

০৭:১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ব্রিটেনের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত টান ও শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে তাঁর মতে, দেশটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণে সম্ভাবনার পুরোটা কাজে লাগাতে পারেনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের একটি হলেও দেশটির রাজনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

ব্রিটেনের প্রতি ব্যক্তিগত টান

ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে সাংস্কৃতিকভাবে ব্রিটেনকেই তিনি নিজের সবচেয়ে কাছের দেশ বলে মনে করেন। তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্স কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। স্ত্রীকে জানার আগে তিনি কখনও ব্রিটেনে যাননি। পরবর্তী সময়ে ওয়েলসের ঐতিহাসিক কেয়ারনারফন দুর্গসহ বিভিন্ন স্থান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তাঁর নতুন বই Communion: Finding My Way Back to Faith-এ উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, ব্রিটেনের দীর্ঘ ইতিহাস ও সভ্যতার ঐতিহ্য তাঁকে মুগ্ধ করেছে। তবে একই সঙ্গে তাঁর বিশ্বাস, আধুনিক পশ্চিমা সমাজ সেই নির্মাণশীল মনোভাব অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে।

ব্রিটিশ রাজনীতির সমালোচনা

সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, অল্প কয়েক বছরের মধ্যে ব্রিটেনে একাধিক প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি প্রমাণ করে যে ব্রিটিশ রাজনীতির ভেতরে গভীর সমস্যা রয়েছে এবং জনগণ বড় ধরনের পরিবর্তন চায়।

সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সম্পর্কে তিনি বলেন, তাঁর বিষয়ে খুব বেশি জানেন না। তবে যিনিই ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হন না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্ব দেশটিকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারবে।

অভিবাসন ও পশ্চিমা মূল্যবোধ

ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়ে নিজের আগের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন ভ্যান্স। তাঁর মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত নিজেদের মূল্যবোধ রক্ষা করা এবং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের ঝুঁকি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা শত্রুতা থেকে নয়, বরং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার জায়গা থেকেই আসে। কখনও কখনও সেই বক্তব্য কঠোর শোনালেও উদ্দেশ্য হলো মিত্রদের আরও শক্তিশালী হতে উৎসাহিত করা।

বিশ্বাস, রাজনীতি ও নতুন বই

ভ্যান্সের নতুন বই মূলত তাঁর ধর্মীয় জীবনের পরিবর্তনের গল্প। শৈশবের ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান পরিবেশ থেকে একসময় নাস্তিকতায় ঝুঁকে পড়া এবং পরে ২০১৯ সালে ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণের অভিজ্ঞতা তিনি এতে তুলে ধরেছেন।

তিনি জানান, বইটি রাজনৈতিক ইশতেহার নয়; বরং একজন মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, আত্মঅনুসন্ধান এবং খ্রিস্টধর্মের প্রতি ফিরে আসার কাহিনি। যদিও বইটিতে তাঁর অর্থনীতি, পরিবার ও সমাজ নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দর্শনেরও প্রতিফলন রয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ভ্যান্স। তাঁর মতে, ইউক্রেনের জন্য প্রতিরক্ষামূলক কৌশল আক্রমণাত্মক অভিযানের চেয়ে বেশি কার্যকর হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই কৌশল রাশিয়ার অগ্রযাত্রাকে ধীর করেছে এবং ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ভ্যান্সের ভাষায়, রাশিয়া প্রতিটি নতুন এলাকা দখলের জন্য বড় মূল্য দিচ্ছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি যুদ্ধের সমাপ্তির পথ তৈরি করতে পারে।

বিতর্কিত মন্তব্য ও আত্মসমালোচনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতীতে দেওয়া কিছু মন্তব্য নিয়েও কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট। বিশেষ করে নারীদের নিয়ে তাঁর পুরোনো একটি মন্তব্যকে তিনি নিজের জীবনের অন্যতম ‘সবচেয়ে বোকামিপূর্ণ’ মন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস তাঁকে আরও আত্মসমালোচনামূলক হতে শিখিয়েছে। জনজীবনে অযথা বিতর্ক তৈরি করার চেয়ে প্রয়োজনীয় বিতর্কের মাধ্যমে মানুষকে ভাবতে বাধ্য করাই তাঁর লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ভ্যান্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন এবং ইউরোপ—সব ক্ষেত্রেই পুরোনো রাজনৈতিক ধারণাগুলো নতুন বাস্তবতার মুখে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে মতপার্থক্য থাকলেও পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়াই তাঁর প্রত্যাশা।

জেডি ভ্যান্সের ভাষায় ব্রিটেনের নেতৃত্বের সমালোচনা, পশ্চিমা মূল্যবোধ ও নতুন বই নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য।

#জেডিভ্যান্স #ব্রিটেন #যুক্তরাষ্ট্র #রাজনীতি #যুক্তরাজ্য #DonaldTrump #UKPolitics #WorldNews