ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াকে ঘিরে রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের সমাগম হয়েছে। শনিবার ভোর থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদ প্রাঙ্গণে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। আগামী ছয় দিন ধরে চলবে এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান, যার অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ ইরানের বিভিন্ন শহর ও প্রতিবেশী ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ শিয়া ধর্মীয় স্থানে নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে তাঁর জন্মশহর মাশহাদে দাফন করা হবে।
খামেনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের শুরুতেই নিহত হন। তাঁর সঙ্গে পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। রাষ্ট্রীয় আয়োজনে কাচে আবদ্ধ ও ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনগুলো মঞ্চে রাখা হয়। সেখানে উপস্থিত বহু মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শোক প্রকাশ করেন।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক বাস্তবতায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া
খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরান সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের ধাক্কা সামাল দিচ্ছে। সরকার এই আয়োজনকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। তবে একই সঙ্গে অনেক ইরানি এই দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল অনুষ্ঠান নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করছেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ শাসনামলে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং দুর্নীতি দেশের সংকটকে আরও গভীর করেছে।
নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে ঘিরে জল্পনা
খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে আসেননি। শুরুতে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত থাকা নিয়ে জল্পনা থাকলেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান, কোম কিংবা মাশহাদের কোনো অনুষ্ঠানেই তিনি জানাজা পরিচালনা করবেন না। পরিবর্তে তিনজন জ্যেষ্ঠ আয়াতুল্লাহ সেই দায়িত্ব পালন করবেন।
শোকের মাঝেও মতভেদ
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ভিড়ের মধ্যেও রাজনৈতিক মতভেদের ইঙ্গিত দেখা গেছে। কিছু কট্টরপন্থী সমর্থক ব্যানারে প্রশ্ন তুলেছেন, খামেনির হত্যার প্রতিশোধের কী হলো। তাঁদের একাংশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতির উদ্যোগকে দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন। একই সময়ে সরকার বিদেশি অতিথি, আঞ্চলিক মিত্র এবং বিভিন্ন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকও করছে।
শান্তি আলোচনা এখনও অচলাবস্থায়
খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাও কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। কাতার ও পাকিস্তরের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও নতুন সংঘর্ষ পুরোপুরি থামানো সম্ভব হয়নি। হরমুজ প্রণালীর নৌ চলাচলও এখনও স্বাভাবিক হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আবারও নতুন দফার আলোচনা শুরু হতে পারে।
ঐতিহাসিক আয়োজন
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরানের পর খামেনির মরদেহ কোম, এরপর ইরাকের কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। সবশেষে মাশহাদের ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে তাঁকে দাফন করা হবে। এই দীর্ঘ শোকযাত্রায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশটি শোক, রাজনীতি ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ, নতুন নেতৃত্ব ও শান্তি আলোচনা ঘিরে সর্বশেষ পরিস্থিতি।
#ইরান #আলিখামেনি #তেহরান #মধ্যপ্রাচ্য #রাষ্ট্রীয়অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া #মোজতবাখামেনি #হরমুজপ্রণালী #আন্তর্জাতিকসংবাদ
Sarakhon Report 


















