০৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
ভারতের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সংকট কি এখন ভোটের আগেই নির্ধারিত হচ্ছে? মেক্সিকো: যেখানে ইতিহাসের পরাজয় ভেঙে নতুন গল্প লিখতে চায় ইংল্যান্ড বিচ্ছিন্নতাবাদী-সন্ত্রাসীদের হামলায় পাপুয়ায় মার্কিন পাইলট নিহত, তদন্তে ইন্দোনেশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সমন্বয় এল নিনোর তীব্র প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায় খরা বাড়ছে, পানির সংকটে হাজারো পরিবার, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা নতুন অর্থনীতিকে দেখতে হলে শুধু তথ্য নয়, মানুষের কাছেও পৌঁছাতে হবে দেশে ‘বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের’ আভাস দিলেন জিএম কাদের আশ্রয়ের আদর্শ: অভিবাসীদের মাধ্যমেই আমেরিকার শক্তি শততম ম্যাচে স্কালোনির নতুন মাইলফলক, আর্জেন্টিনা ফুটবলে সোনালি অধ্যায়ের নায়ক বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় বার্তা, আবারও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা পেল শ্রীলঙ্কা পাসকি প্রযুক্তি চালু করল ভিসা, অনলাইন লেনদেনে নিরাপত্তা ও গতি বাড়ানোর নতুন উদ্যোগ

নতুন অর্থনীতিকে দেখতে হলে শুধু তথ্য নয়, মানুষের কাছেও পৌঁছাতে হবে

ফুটবলে কয়েক সেন্টিমিটারের ব্যবধানে বাতিল হয়ে যাওয়া একটি গোল যেমন ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তেমনি একটি দেশের অর্থনীতির বাস্তবতাও বদলে যেতে পারে যদি বিপুল সংখ্যক মানুষের কাজ সরকারি পরিসংখ্যানে ধরা না পড়ে। আধুনিক প্রযুক্তি আজ খেলোয়াড়ের অবস্থান অবিশ্বাস্য নির্ভুলতায় নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু সেই খেলোয়াড় সত্যিই খেলায় প্রভাব ফেলেছেন কি না, সেটি এখনো মানুষের বিচারেই নির্ভর করে। এই বাস্তবতা শুধু খেলাধুলার নয়; রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের ফলে কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় ব্যবসা বলতে বোঝানো হতো দোকান, কারখানা কিংবা দৃশ্যমান কোনো প্রতিষ্ঠান। এখন একই বাড়ির একটি ঘরে বসে কেউ ভিডিও সম্পাদনা করছেন, অন্য কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পণ্য বিক্রি করছেন, আবার আরেকজন আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সেবা দিচ্ছেন। বাইরে থেকে সেই বাড়িটি সাধারণ আবাসিক ভবন বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু তার ভেতরেই হয়তো চলছে একাধিক আয়ের উৎস।

এই পরিবর্তন পরিসংখ্যান ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ প্রচলিত উপায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করার যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তার বড় অংশই দৃশ্যমান ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু ডিজিটাল যুগে বিপুল পরিমাণ কাজ এমন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছে, যেখানে কোনো সাইনবোর্ড নেই, নেই কারখানার চিমনি কিংবা অফিসের কাচঘেরা ভবন। অর্থনীতি এখন অনেক ক্ষেত্রেই একটি ল্যাপটপ, একটি স্মার্টফোন এবং একটি ইন্টারনেট সংযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এ কারণেই একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক শুমারির গুরুত্ব কখনোই কমে না। নমুনাভিত্তিক জরিপ সমাজের একটি অংশ দেখে পুরো দেশের চিত্র অনুমান করে। কিন্তু শুমারি চেষ্টা করে প্রতিটি ব্যক্তি, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করতে। কারণ অনুমানের সীমাবদ্ধতা আছে; কিন্তু অন্তর্ভুক্তির বিকল্প নেই।

পরিসংখ্যানের জগতে একটি ভুল তথ্য পরে সংশোধন করা সম্ভব। কিন্তু যে তথ্য কখনো সংগ্রহই করা হয়নি, সেটি সংশোধনের কোনো সুযোগ থাকে না। সেই অনুপস্থিত তথ্যের ওপর দাঁড়িয়েই পরে নেওয়া হয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো বিনিয়োগ, ঋণনীতি, দক্ষতা উন্নয়ন কিংবা সামাজিক সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ফলে যারা পরিসংখ্যানে নেই, তারা বাস্তবেও নীতিনির্ধারণের আলোচনার বাইরে থেকে যায়।

ডিজিটাল অর্থনীতির কর্মীরা এই ঝুঁকির সবচেয়ে বড় উদাহরণ। কনটেন্ট নির্মাতা, ভিডিও সম্পাদক, অনলাইন বিক্রেতা, লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে ব্যবসায়ী কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সেবাদাতা—তাদের অনেকের কাজ কয়েক বছর আগেও সরকারি শ্রেণিবিন্যাসে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত ছিল না। বাস্তবতা আগে বদলেছে, কিন্তু প্রশাসনিক ভাষা এবং পরিসংখ্যানের কাঠামো পরে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েছে।

7 Sparks to Light a New Economy - Friends of the Earth Europe

এই কারণেই আধুনিক শুমারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্তকরণ, ডিজিটাল মানচিত্র, স্থাপনার ছবি কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস তথ্য সংগ্রহকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করে তুলছে। প্রযুক্তি দেখাতে পারে কোথায় একটি ভবন রয়েছে, সেটি কী ধরনের স্থাপনা, এমনকি প্রাথমিকভাবে সেটিকে কোন অর্থনৈতিক শ্রেণিতে ফেলা যেতে পারে।

কিন্তু এখানেই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কোনো অ্যাপ বলতে পারে না একটি ঘরের ভেতরে কী ধরনের কাজ হচ্ছে। একটি বাড়ির অবস্থান জানা যায়, কিন্তু সেই বাড়ির একজন তরুণী সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে প্রসাধনী বিক্রি করে পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হয়ে উঠেছেন—এই তথ্য কোনো স্যাটেলাইট দেখতে পায় না। আবার একই ভবনে দীর্ঘদিনের একটি ছোট দোকান যেমন সহজেই শনাক্ত করা যায়, তার পাশের কক্ষে পরিচালিত সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবসা ততটাই অদৃশ্য থেকে যেতে পারে।

এই ব্যবধান পূরণ করেন মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রাহকেরা। তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুধু প্রশ্ন করা নয়; বরং এমনভাবে কথা বলা, যাতে মানুষ নিজের প্রকৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাখ্যা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অনেক সময় একটি অতিরিক্ত প্রশ্নই লুকিয়ে থাকা একটি পেশাকে পরিসংখ্যানের আওতায় নিয়ে আসে। এরপর প্রযুক্তি সহায়ক হিসেবে সম্ভাব্য শ্রেণিবিন্যাস প্রস্তাব করতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয় মানুষকেই।

এই অভিজ্ঞতা একটি বড় শিক্ষা দেয়। উন্নত প্রযুক্তি রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর করতে পারে, কিন্তু তা মানুষের বিকল্প নয়। তথ্যের মান নির্ভর করে কেবল যন্ত্রের ক্ষমতার ওপর নয়; নির্ভর করে প্রশ্ন করার দক্ষতা, বাস্তবতা বোঝার অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক তৈরির ওপরও।

ডিজিটাল অর্থনীতি যত বিস্তৃত হবে, ততই রাষ্ট্রকে তার পরিমাপের পদ্ধতিও বদলাতে হবে। কারণ অর্থনীতি এখন আর শুধু দৃশ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর সমষ্টি নয়; বরং অগণিত ক্ষুদ্র, বিচ্ছিন্ন এবং অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি জটিল বাস্তবতা।

একটি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা তখনই কার্যকর হতে পারে, যখন সেই দেশের প্রতিটি শ্রম, প্রতিটি উদ্যোগ এবং প্রতিটি আয়ের উৎস যথাসম্ভব সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয়। প্রযুক্তি সেই কাজকে সহজ করতে পারে, কিন্তু মানুষের জীবিকার প্রকৃত চিত্র আবিষ্কার করতে হলে এখনো দরজায় কড়া নাড়তে হয়, কথা বলতে হয় এবং মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়। কারণ বাস্তবতাকে দেখা আর বাস্তবতাকে বোঝা—এই দুইয়ের মধ্যে এখনো মানুষের বিচারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সংকট কি এখন ভোটের আগেই নির্ধারিত হচ্ছে?

নতুন অর্থনীতিকে দেখতে হলে শুধু তথ্য নয়, মানুষের কাছেও পৌঁছাতে হবে

০৭:১১:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

ফুটবলে কয়েক সেন্টিমিটারের ব্যবধানে বাতিল হয়ে যাওয়া একটি গোল যেমন ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তেমনি একটি দেশের অর্থনীতির বাস্তবতাও বদলে যেতে পারে যদি বিপুল সংখ্যক মানুষের কাজ সরকারি পরিসংখ্যানে ধরা না পড়ে। আধুনিক প্রযুক্তি আজ খেলোয়াড়ের অবস্থান অবিশ্বাস্য নির্ভুলতায় নির্ধারণ করতে পারে, কিন্তু সেই খেলোয়াড় সত্যিই খেলায় প্রভাব ফেলেছেন কি না, সেটি এখনো মানুষের বিচারেই নির্ভর করে। এই বাস্তবতা শুধু খেলাধুলার নয়; রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের ফলে কর্মসংস্থানের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় ব্যবসা বলতে বোঝানো হতো দোকান, কারখানা কিংবা দৃশ্যমান কোনো প্রতিষ্ঠান। এখন একই বাড়ির একটি ঘরে বসে কেউ ভিডিও সম্পাদনা করছেন, অন্য কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পণ্য বিক্রি করছেন, আবার আরেকজন আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সেবা দিচ্ছেন। বাইরে থেকে সেই বাড়িটি সাধারণ আবাসিক ভবন বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু তার ভেতরেই হয়তো চলছে একাধিক আয়ের উৎস।

এই পরিবর্তন পরিসংখ্যান ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ প্রচলিত উপায়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করার যে কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তার বড় অংশই দৃশ্যমান ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু ডিজিটাল যুগে বিপুল পরিমাণ কাজ এমন জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছে, যেখানে কোনো সাইনবোর্ড নেই, নেই কারখানার চিমনি কিংবা অফিসের কাচঘেরা ভবন। অর্থনীতি এখন অনেক ক্ষেত্রেই একটি ল্যাপটপ, একটি স্মার্টফোন এবং একটি ইন্টারনেট সংযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

এ কারণেই একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক শুমারির গুরুত্ব কখনোই কমে না। নমুনাভিত্তিক জরিপ সমাজের একটি অংশ দেখে পুরো দেশের চিত্র অনুমান করে। কিন্তু শুমারি চেষ্টা করে প্রতিটি ব্যক্তি, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করতে। কারণ অনুমানের সীমাবদ্ধতা আছে; কিন্তু অন্তর্ভুক্তির বিকল্প নেই।

পরিসংখ্যানের জগতে একটি ভুল তথ্য পরে সংশোধন করা সম্ভব। কিন্তু যে তথ্য কখনো সংগ্রহই করা হয়নি, সেটি সংশোধনের কোনো সুযোগ থাকে না। সেই অনুপস্থিত তথ্যের ওপর দাঁড়িয়েই পরে নেওয়া হয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, অবকাঠামো বিনিয়োগ, ঋণনীতি, দক্ষতা উন্নয়ন কিংবা সামাজিক সহায়তার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। ফলে যারা পরিসংখ্যানে নেই, তারা বাস্তবেও নীতিনির্ধারণের আলোচনার বাইরে থেকে যায়।

ডিজিটাল অর্থনীতির কর্মীরা এই ঝুঁকির সবচেয়ে বড় উদাহরণ। কনটেন্ট নির্মাতা, ভিডিও সম্পাদক, অনলাইন বিক্রেতা, লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে ব্যবসায়ী কিংবা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সেবাদাতা—তাদের অনেকের কাজ কয়েক বছর আগেও সরকারি শ্রেণিবিন্যাসে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত ছিল না। বাস্তবতা আগে বদলেছে, কিন্তু প্রশাসনিক ভাষা এবং পরিসংখ্যানের কাঠামো পরে সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েছে।

7 Sparks to Light a New Economy - Friends of the Earth Europe

এই কারণেই আধুনিক শুমারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ভৌগোলিক অবস্থান শনাক্তকরণ, ডিজিটাল মানচিত্র, স্থাপনার ছবি কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস তথ্য সংগ্রহকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করে তুলছে। প্রযুক্তি দেখাতে পারে কোথায় একটি ভবন রয়েছে, সেটি কী ধরনের স্থাপনা, এমনকি প্রাথমিকভাবে সেটিকে কোন অর্থনৈতিক শ্রেণিতে ফেলা যেতে পারে।

কিন্তু এখানেই প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কোনো অ্যাপ বলতে পারে না একটি ঘরের ভেতরে কী ধরনের কাজ হচ্ছে। একটি বাড়ির অবস্থান জানা যায়, কিন্তু সেই বাড়ির একজন তরুণী সপ্তাহে তিন দিন অনলাইনে প্রসাধনী বিক্রি করে পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস হয়ে উঠেছেন—এই তথ্য কোনো স্যাটেলাইট দেখতে পায় না। আবার একই ভবনে দীর্ঘদিনের একটি ছোট দোকান যেমন সহজেই শনাক্ত করা যায়, তার পাশের কক্ষে পরিচালিত সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবসা ততটাই অদৃশ্য থেকে যেতে পারে।

এই ব্যবধান পূরণ করেন মাঠপর্যায়ের তথ্যসংগ্রাহকেরা। তাঁদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুধু প্রশ্ন করা নয়; বরং এমনভাবে কথা বলা, যাতে মানুষ নিজের প্রকৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাখ্যা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অনেক সময় একটি অতিরিক্ত প্রশ্নই লুকিয়ে থাকা একটি পেশাকে পরিসংখ্যানের আওতায় নিয়ে আসে। এরপর প্রযুক্তি সহায়ক হিসেবে সম্ভাব্য শ্রেণিবিন্যাস প্রস্তাব করতে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয় মানুষকেই।

এই অভিজ্ঞতা একটি বড় শিক্ষা দেয়। উন্নত প্রযুক্তি রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর করতে পারে, কিন্তু তা মানুষের বিকল্প নয়। তথ্যের মান নির্ভর করে কেবল যন্ত্রের ক্ষমতার ওপর নয়; নির্ভর করে প্রশ্ন করার দক্ষতা, বাস্তবতা বোঝার অভিজ্ঞতা এবং মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক তৈরির ওপরও।

ডিজিটাল অর্থনীতি যত বিস্তৃত হবে, ততই রাষ্ট্রকে তার পরিমাপের পদ্ধতিও বদলাতে হবে। কারণ অর্থনীতি এখন আর শুধু দৃশ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর সমষ্টি নয়; বরং অগণিত ক্ষুদ্র, বিচ্ছিন্ন এবং অনলাইনভিত্তিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি জটিল বাস্তবতা।

একটি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা তখনই কার্যকর হতে পারে, যখন সেই দেশের প্রতিটি শ্রম, প্রতিটি উদ্যোগ এবং প্রতিটি আয়ের উৎস যথাসম্ভব সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয়। প্রযুক্তি সেই কাজকে সহজ করতে পারে, কিন্তু মানুষের জীবিকার প্রকৃত চিত্র আবিষ্কার করতে হলে এখনো দরজায় কড়া নাড়তে হয়, কথা বলতে হয় এবং মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়। কারণ বাস্তবতাকে দেখা আর বাস্তবতাকে বোঝা—এই দুইয়ের মধ্যে এখনো মানুষের বিচারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন।