মাত্র তিন বছর আগে যে দেশ তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে ছিল, সেই শ্রীলঙ্কাই আবারও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা ফিরে পেয়েছে। অর্থনীতিতে ধারাবাহিক পুনরুদ্ধার, পর্যটন খাতের শক্তিশালী ঘুরে দাঁড়ানো এবং আর্থিক খাতের উন্নতির ফলে দেশটির এই সাফল্য এসেছে।
বিশ্বব্যাপী দেশগুলোর আয়ভিত্তিক সর্বশেষ শ্রেণিবিন্যাসে শ্রীলঙ্কাকে আবারও উচ্চ-মধ্যম আয়ের অর্থনীতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২২ সালের নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের পর দেশটির এই প্রত্যাবর্তনকে পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পুনরুদ্ধারের পথ
সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে শ্রীলঙ্কার প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ৫ শতাংশ বেড়েছে। শিল্প, আর্থিক সেবা এবং পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে প্রবৃদ্ধির ফলে অর্থনীতি নতুন গতি পেয়েছে।
বিশেষ করে পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ শক্তিশালী হওয়া, বৈদেশিক খাতের উন্নতি এবং টানা দুই বছরের সংকোচনের পর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসা এই পুনরুদ্ধারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়ানো
২০২২ সালে বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট, ঋণ খেলাপি পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতায় শ্রীলঙ্কা ইতিহাসের অন্যতম বড় সংকটের মুখোমুখি হয়। তার আগে ২০১৯ সালের ইস্টার সানডের হামলা, এরপর করোনাভাইরাস মহামারি এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্য সংকট দেশটির অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করে তোলে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটি ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করে। আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন, বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠন এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার নানা উদ্যোগ ধীরে ধীরে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করে।
সতর্ক আশাবাদের বার্তা
যদিও শ্রীলঙ্কা উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের সীমা অল্প ব্যবধানে অতিক্রম করেছে, তবুও এই অর্জন দেশটির অর্থনৈতিক সহনশীলতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংকট কাটিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে আসার সক্ষমতাই এই নতুন স্বীকৃতির ভিত্তি তৈরি করেছে।
আয়ভিত্তিক বৈশ্বিক শ্রেণিবিন্যাসে দেশগুলোকে উচ্চ আয়, উচ্চ-মধ্যম আয়, নিম্ন-মধ্যম আয় এবং নিম্ন আয়ের চারটি ভাগে ভাগ করা হয়। চলতি বছরের মূল্যায়নে বিশ্বের ২১৮টি দেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং এই শ্রেণিবিন্যাস আগামী বছরের জুনের শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শ্রীলঙ্কা ২০১৯ সালেও উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করেছিল। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং আয় হ্রাসের কারণে পরে আবার নিম্ন-মধ্যম আয়ের তালিকায় নেমে যায়। সর্বশেষ এই স্বীকৃতি দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের নতুন অধ্যায়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















