বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনও অটুট। অর্থনীতি, সামরিক সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে দেশটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। তবে একই সঙ্গে বৈশ্বিক পরিসরে তার একচ্ছত্র আধিপত্য ধীরে ধীরে কমছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে এমনই একটি চিত্র উঠে এসেছে।
অর্থনৈতিক শক্তির দীর্ঘ যাত্রা
উনিশ শতকের শুরুতে বিশ্বের অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ছিল তুলনামূলক ছোট একটি দেশ। কিন্তু শিল্পবিপ্লব, প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার, কৃষি উৎপাদনের বিস্তার এবং দ্রুত শিল্পায়নের ফলে দেশটি ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। বিংশ শতকের শুরুতে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে যুক্তরাষ্ট্র তার সর্বোচ্চ বৈশ্বিক প্রভাব প্রতিষ্ঠা করে। সে সময় বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে।
এখনও অর্থনীতিতে শীর্ষে

বর্তমানেও বিনিময় হার অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনে দেশটি অগ্রগামী। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনেও ডলারের প্রভাব এখনও সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে অভিবাসন, উদ্যোক্তা সংস্কৃতি এবং আইনের শাসন দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অর্থনৈতিক শক্তিকে এগিয়ে নিয়েছে।
সামরিক শক্তিতে এখনও শীর্ষস্থান
সামরিক ব্যয়, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক উপস্থিতির দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে শক্তিশালী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখনও প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংঘাত দেখিয়েছে, শুধু সামরিক শক্তি থাকলেই সব ধরনের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয় না।
কেন কমছে আধিপত্য?
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শক্তি এবং আধিপত্য এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী হলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে অন্যান্য দেশের উত্থানের কারণে তার আপেক্ষিক প্রভাব কমেছে। বিশেষ করে উৎপাদনশিল্পে চীনের দ্রুত অগ্রগতি বৈশ্বিক ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ডলারের অংশও ধীরে ধীরে কমছে। একই সময়ে বিশ্বের অন্যান্য অর্থনীতিও দ্রুত বিকশিত হয়েছে।

নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে গবেষণা ও উদ্ভাবন
গবেষণা, বিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র এখনও এগিয়ে থাকলেও প্রতিযোগিতা বেড়েছে। গবেষণায় বিনিয়োগ এবং বৈজ্ঞানিক প্রকাশনায় চীনের অগ্রগতি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে অভিবাসন কমে যাওয়া, গবেষণা অনুদান হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির পরিবর্তন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবনী সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিবর্তনের পথে যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্লেষণে শেষ পর্যন্ত বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর রাষ্ট্র। তবে আগের মতো একক আধিপত্য আর নেই। বিশ্ব দ্রুত বহুমুখী হয়ে উঠছে এবং নতুন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তির উত্থান বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে। তবুও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা এবং নতুন উদ্ভাবনের শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সম্পদ হিসেবেই রয়ে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















