একসময় সাশ্রয়ী খাবারের প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল বার্গার ও বারবিকিউ। কিন্তু এখন সেই চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। খাদ্যপণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মকালীন বারবিকিউ আয়োজন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফলে দৈনন্দিন বাজারের বাড়তি চাপ সাধারণ পরিবারের বাজেটকে আরও সংকুচিত করছে।
মূল্যবৃদ্ধির নতুন বাস্তবতা
সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, চারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য একটি সাধারণ বারবিকিউ আয়োজনের গড় খরচ এখন প্রায় ৮১ ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ, যা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি। মহামারির আগের সময়ের তুলনায় এই ধরনের আয়োজনের খরচ ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। যদিও একই সময়ে আয়ও কিছুটা বেড়েছে, তবু অনেক পরিবারের কাছে বাজার করা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে।
কোন পণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে
গরুর মাংস, স্টেক, কোমল পানীয় এবং আলুর চিপসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে গরুর মাংসের বাজারে সরবরাহ সংকটের কারণে মূল্যবৃদ্ধি আরও তীব্র হয়েছে। কয়েক বছর ধরে গবাদিপশুর সংখ্যা কমে যাওয়া, খামারের বাড়তি উৎপাদন ব্যয় এবং নতুন রোগের আশঙ্কা বাজারে চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে মাংসভিত্তিক খাবারের খরচ দ্রুত বেড়ে চলেছে।
কেন বাড়ছে খাদ্যের দাম
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। এর পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। গবাদিপশুর ঘাটতি, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদনের ব্যয় বৃদ্ধি, জৈব জ্বালানি নীতির প্রভাব এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ মিলিয়ে খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক মূল্য বেড়েছে। পাশাপাশি সার উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষিপণ্য উৎপাদনও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
শহরভেদে খরচের পার্থক্য
সব শহরে পরিস্থিতি এক নয়। পর্যটননির্ভর ও তুলনামূলক কম আয়ের শহরগুলোতে একটি বারবিকিউ আয়োজনের জন্য মানুষের বেশি সময় কাজ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে উচ্চ আয়ের শহরগুলোতে খাদ্যের দাম বেশি হলেও মানুষের আয়ের কারণে সেই ব্যয় তুলনামূলকভাবে সহজে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফলে একই ধরনের বাজারের বোঝা বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নভাবে অনুভূত হচ্ছে।
স্বস্তির সম্ভাবনা কম
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, খুব দ্রুত খাদ্যপণ্যের দামে স্বস্তি ফিরবে না। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, কৃষি উৎপাদনের ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ এখনো পুরোপুরি কমেনি। একই সঙ্গে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে পরিবর্তন এবং আয় বৃদ্ধির গতি ধীর হয়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। ফলে আগামী সময়েও বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মকালীন উৎসব ও পারিবারিক আয়োজনের ঐতিহ্য অটুট থাকলেও সেই আনন্দ ধরে রাখতে এখন মানুষকে আগের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বাজারের এই পরিবর্তন শুধু একটি উৎসবের খরচ নয়, বরং খাদ্য মূল্যস্ফীতির বৃহত্তর বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















