১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
অজেয়তার মিথ ভাঙছে: ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির সামনে নতুন বাস্তবতা জুলাই নিয়ে মন্তব্যে অভিযোগের পর বিতর্ক: বাকস্বাধীনতার সীমারেখা কোথায়? ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা, দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত অন্তত ৪০ জিম্বাবুয়ের কাছে ২৫ রানে হার, নাহিদ রানার রেকর্ড বোলিংও বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ নতুন টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজমের বার্তা: শৃঙ্খলা, ফিটনেস ও পারফরম্যান্সে কোনো আপস নয় ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে, না হলে ‘কাজ শেষ করবে’ যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন, আগেই জানানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে মুম্বাইয়ে ভবনধসে ৬ জন নিহত, বর্ষায় বিপর্যস্ত শহর ইন্দোনেশিয়ায় প্রতারণা চক্রে ৯২ চীনা নাগরিক বহিষ্কার, আজীবন নিষেধাজ্ঞা আপস নয়, আস্থার পুনর্গঠনই সার্ক পুনরুজ্জীবনের চাবিকাঠি: তারিক করিম

ইন্দোনেশিয়ায় প্রতারণা চক্রে ৯২ চীনা নাগরিক বহিষ্কার, আজীবন নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন জুয়া ও বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯২ জন চীনা নাগরিককে ইন্দোনেশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাঁদের ওপর আজীবন প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই প্রতারণা চক্র বহিষ্কার অভিযান সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ গণ-বহিষ্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মে মাসে ছুটির দ্বীপ বাটামের একটি আবাসিক ভবন থেকে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জাকার্তা গ্লোবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের নাগরিকও ছিলেন।

সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিবাসন বিভাগের প্রধান গালিহ কার্তিকা পেরদানা জানিয়েছেন, বাটামের এই চক্রটি মূলত অনলাইন জুয়া ও বিনিয়োগ প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে গত কয়েক বছরে এই ধরনের প্রতারণা চক্রের বিস্তার দ্রুত বেড়েছে, যেখানে মূলত চীনা অপরাধী চক্র মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে ঘাঁটি গেড়ে বিশ্বজুড়ে মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, বরং আজীবন প্রবেশ নিষেধাজ্ঞাসহ প্রতারণা চক্র বহিষ্কার করার এই কঠোর সিদ্ধান্ত ইন্দোনেশিয়ার নীতিতে একটি স্পষ্ট বাঁক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

৫ চীনা নাগরিকসহ অনলাইন প্রতারক চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, ৫১ হাজার সিম জব্দ  | The Daily Star

এই অঞ্চলে প্রতারণা চক্র দমনে আঞ্চলিক সহযোগিতা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় একই ধরনের চক্র ভেঙে দিতে চীন, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছে, যেখানে হাজারো মানুষকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা হচ্ছিল। ইন্দোনেশিয়ার এই প্রতারণা চক্র বহিষ্কার সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতারই অংশ, যেখানে দেশগুলো এখন শুধু গ্রেপ্তার নয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে একই অপরাধী নতুন পরিচয়ে ফিরে না আসতে পারে। এর আগেও মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তে একটি যৌথ অভিযানে আটশর বেশি সন্দেহভাজন প্রতারককে আটক করে সাড়ে তিন শতাধিক চীনা নাগরিককে সরাসরি চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা দেখিয়ে দেয় এই অপরাধ নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং বহুজাতিক।

দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের জন্যও এই প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। অনলাইন প্রতারণা চক্রগুলো প্রায়ই আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কে কাজ করে, আর বাংলাদেশি নাগরিকদের একাংশও বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভনে এই ধরনের চক্রে টার্গেট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। আঞ্চলিক পর্যায়ে তথ্য বিনিময় ও যৌথ অভিযানের এই মডেল, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক প্রতারণা চক্র বহিষ্কার নীতি, বাংলাদেশের জন্যও প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত হতে পারে। বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে পাচার করে জোরপূর্বক প্রতারণা কেন্দ্রে কাজ করানোর ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকও অতীতে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফলে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক মিশনগুলোর মাধ্যমে আগাম সতর্কতা এখন সময়ের দাবি।

৯২ জনকে একসঙ্গে বহিষ্কার করে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ইন্দোনেশিয়ার কঠোরতর অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেও, যতদিন এই চক্রের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে, ততদিন নতুন মুখ দিয়ে একই ব্যবসা আবার মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা, আর এই আশঙ্কাই আঞ্চলিক নজরদারিকে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে, যাতে একবার বহিষ্কৃত ব্যক্তি অন্য কোনো দেশ থেকে আবার সক্রিয় হতে না পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অজেয়তার মিথ ভাঙছে: ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির সামনে নতুন বাস্তবতা

ইন্দোনেশিয়ায় প্রতারণা চক্রে ৯২ চীনা নাগরিক বহিষ্কার, আজীবন নিষেধাজ্ঞা

০৯:২১:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

অনলাইন জুয়া ও বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯২ জন চীনা নাগরিককে ইন্দোনেশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং তাঁদের ওপর আজীবন প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এই প্রতারণা চক্র বহিষ্কার অভিযান সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম বৃহৎ গণ-বহিষ্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মে মাসে ছুটির দ্বীপ বাটামের একটি আবাসিক ভবন থেকে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জাকার্তা গ্লোবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের নাগরিকও ছিলেন।

সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভিবাসন বিভাগের প্রধান গালিহ কার্তিকা পেরদানা জানিয়েছেন, বাটামের এই চক্রটি মূলত অনলাইন জুয়া ও বিনিয়োগ প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে গত কয়েক বছরে এই ধরনের প্রতারণা চক্রের বিস্তার দ্রুত বেড়েছে, যেখানে মূলত চীনা অপরাধী চক্র মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে ঘাঁটি গেড়ে বিশ্বজুড়ে মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে। শুধু গ্রেপ্তার নয়, বরং আজীবন প্রবেশ নিষেধাজ্ঞাসহ প্রতারণা চক্র বহিষ্কার করার এই কঠোর সিদ্ধান্ত ইন্দোনেশিয়ার নীতিতে একটি স্পষ্ট বাঁক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

৫ চীনা নাগরিকসহ অনলাইন প্রতারক চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, ৫১ হাজার সিম জব্দ  | The Daily Star

এই অঞ্চলে প্রতারণা চক্র দমনে আঞ্চলিক সহযোগিতা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী এলাকায় একই ধরনের চক্র ভেঙে দিতে চীন, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছে, যেখানে হাজারো মানুষকে জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করা হচ্ছিল। ইন্দোনেশিয়ার এই প্রতারণা চক্র বহিষ্কার সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রবণতারই অংশ, যেখানে দেশগুলো এখন শুধু গ্রেপ্তার নয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে একই অপরাধী নতুন পরিচয়ে ফিরে না আসতে পারে। এর আগেও মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তে একটি যৌথ অভিযানে আটশর বেশি সন্দেহভাজন প্রতারককে আটক করে সাড়ে তিন শতাধিক চীনা নাগরিককে সরাসরি চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা দেখিয়ে দেয় এই অপরাধ নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত এবং বহুজাতিক।

দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের জন্যও এই প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। অনলাইন প্রতারণা চক্রগুলো প্রায়ই আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কে কাজ করে, আর বাংলাদেশি নাগরিকদের একাংশও বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভনে এই ধরনের চক্রে টার্গেট হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। আঞ্চলিক পর্যায়ে তথ্য বিনিময় ও যৌথ অভিযানের এই মডেল, বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক প্রতারণা চক্র বহিষ্কার নীতি, বাংলাদেশের জন্যও প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত হতে পারে। বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে পাচার করে জোরপূর্বক প্রতারণা কেন্দ্রে কাজ করানোর ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকও অতীতে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ফলে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক মিশনগুলোর মাধ্যমে আগাম সতর্কতা এখন সময়ের দাবি।

৯২ জনকে একসঙ্গে বহিষ্কার করে আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত ইন্দোনেশিয়ার কঠোরতর অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেও, যতদিন এই চক্রের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে, ততদিন নতুন মুখ দিয়ে একই ব্যবসা আবার মাথাচাড়া দেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা, আর এই আশঙ্কাই আঞ্চলিক নজরদারিকে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত প্রকল্প হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে, যাতে একবার বহিষ্কৃত ব্যক্তি অন্য কোনো দেশ থেকে আবার সক্রিয় হতে না পারে।