১০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬
অজেয়তার মিথ ভাঙছে: ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির সামনে নতুন বাস্তবতা জুলাই নিয়ে মন্তব্যে অভিযোগের পর বিতর্ক: বাকস্বাধীনতার সীমারেখা কোথায়? ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের মাইকে ঘোষণা, দুই গ্রামের সংঘর্ষে আহত অন্তত ৪০ জিম্বাবুয়ের কাছে ২৫ রানে হার, নাহিদ রানার রেকর্ড বোলিংও বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশ নতুন টেস্ট অধিনায়ক বাবর আজমের বার্তা: শৃঙ্খলা, ফিটনেস ও পারফরম্যান্সে কোনো আপস নয় ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: ইরানের সঙ্গে চুক্তি হবে, না হলে ‘কাজ শেষ করবে’ যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল চীন, আগেই জানানো হয়েছিল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে মুম্বাইয়ে ভবনধসে ৬ জন নিহত, বর্ষায় বিপর্যস্ত শহর ইন্দোনেশিয়ায় প্রতারণা চক্রে ৯২ চীনা নাগরিক বহিষ্কার, আজীবন নিষেধাজ্ঞা আপস নয়, আস্থার পুনর্গঠনই সার্ক পুনরুজ্জীবনের চাবিকাঠি: তারিক করিম

মুম্বাইয়ে ভবনধসে ৬ জন নিহত, বর্ষায় বিপর্যস্ত শহর

ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ে একটি জরাজীর্ণ আবাসিক ভবন ধসে পড়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনই শিশু। রোববার শহরের পূর্বাঞ্চলে ভবনটি ধসে পড়লে বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বলে জানিয়েছেন মুম্বাইয়ের মেয়র রিতু তাওড়ে। একই সময়ে মৌসুমি বৃষ্টি শহরের রাস্তাঘাট প্লাবিত করে দেয়, বন্ধ হয়ে যায় স্কুলও। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের হিসাবে ওই দিন দুইশ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে, যা মুম্বাইয়ে ভবনধসের এই দুর্ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে মনে করছেন উদ্ধারকারী দল।

মুম্বাইয়ে প্রতি বর্ষায় পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবন ধসে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ পূর্বাঞ্চলে বহু দশক পুরোনো ভবন এখনো মানুষে ঠাসা, কারণ নতুন আবাসনের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বছরের পর বছর মেরামত না হওয়া এসব ভবন বৃষ্টির পানিতে ভিত দুর্বল হয়ে ধসে পড়ে, আর প্রতিবারই মুম্বাইয়ে ভবনধসের একই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। পৌর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব হিসাবেই শহরে হাজারের বেশি ভবন এখন বিপজ্জনক শ্রেণিতে চিহ্নিত। এসব ভবনের বড় অংশ ব্রিটিশ আমলে তৈরি এবং দশকের পর দশক ধরে ভাড়া-নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় থাকায় মালিকপক্ষের মেরামতে আগ্রহ কম, আবার ভাড়াটেদেরও পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা আইনিভাবে জটিল।

শহর কর্তৃপক্ষ বারবার জরাজীর্ণ ভবন চিহ্নিত করে খালি করার নির্দেশ দিলেও বাস্তবায়ন সীমিত থেকে যায়, কারণ বিকল্প আবাসনের সংকট বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই থেকে যেতে বাধ্য করে। মৌসুমি বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুম্বাইয়ে ভবনধসের এই ঝুঁকি প্রতিবছর নতুন করে সামনে আসছে, অথচ দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সংস্কার পরিকল্পনা এখনো কার্যকর রূপ পায়নি। স্থানীয় প্রকৌশলীদের একাংশ বলছেন, ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত পুরোনো ভবনের মালিকানা জটিলতাই মেরামত ও পুনর্নির্মাণের প্রধান বাধা।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এই দুর্ঘটনা তুলনামূলক গুরুত্ব বহন করে। ঢাকাসহ বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতেও পুরোনো ভবন ও ঘনবসতির একই সমস্যা রয়েছে, আর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও ভবনধসের ঝুঁকি নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদেরা একই ধরনের সতর্কতা দিয়ে আসছেন। মুম্বাইয়ে ভবনধসের এই অভিজ্ঞতা তাই শুধু ভারতের নয়, গোটা অঞ্চলের নগর ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সতর্কবার্তা। রাজধানী ঢাকায় ও পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও শতাধিক বছরের পুরোনো ভবন এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে, আর নিয়মিত জরিপ ও কাঠামোগত পরীক্ষা ছাড়াই এসব ভবনে মানুষ বসবাস চালিয়ে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

পাঁচ শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু দিয়ে আরেকটি বর্ষা মৌসুম শুরু হলো মুম্বাইয়ে, যেখানে পুরোনো ভবনের তালিকা প্রতিবছর দীর্ঘ হয় কিন্তু বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা সেই তুলনায় এগোয় না। বর্ষা এখনো কয়েক মাস বাকি, আর ততদিনে একই ধরনের আরও কতগুলো জরাজীর্ণ ভবন একই পরিণতির মুখোমুখি হবে, তা নিয়ে শহরবাসীর উদ্বেগ কমছে না। পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দ্রুত জরিপ চালিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালি করার, তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সময় লাগে অনেক, আর ততদিনে আরও একটি বর্ষা পার হয়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

অজেয়তার মিথ ভাঙছে: ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতির সামনে নতুন বাস্তবতা

মুম্বাইয়ে ভবনধসে ৬ জন নিহত, বর্ষায় বিপর্যস্ত শহর

০৯:২৪:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ে একটি জরাজীর্ণ আবাসিক ভবন ধসে পড়ে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনই শিশু। রোববার শহরের পূর্বাঞ্চলে ভবনটি ধসে পড়লে বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বলে জানিয়েছেন মুম্বাইয়ের মেয়র রিতু তাওড়ে। একই সময়ে মৌসুমি বৃষ্টি শহরের রাস্তাঘাট প্লাবিত করে দেয়, বন্ধ হয়ে যায় স্কুলও। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের হিসাবে ওই দিন দুইশ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে, যা মুম্বাইয়ে ভবনধসের এই দুর্ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে মনে করছেন উদ্ধারকারী দল।

মুম্বাইয়ে প্রতি বর্ষায় পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবন ধসে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ পূর্বাঞ্চলে বহু দশক পুরোনো ভবন এখনো মানুষে ঠাসা, কারণ নতুন আবাসনের ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বছরের পর বছর মেরামত না হওয়া এসব ভবন বৃষ্টির পানিতে ভিত দুর্বল হয়ে ধসে পড়ে, আর প্রতিবারই মুম্বাইয়ে ভবনধসের একই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। পৌর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব হিসাবেই শহরে হাজারের বেশি ভবন এখন বিপজ্জনক শ্রেণিতে চিহ্নিত। এসব ভবনের বড় অংশ ব্রিটিশ আমলে তৈরি এবং দশকের পর দশক ধরে ভাড়া-নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় থাকায় মালিকপক্ষের মেরামতে আগ্রহ কম, আবার ভাড়াটেদেরও পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা আইনিভাবে জটিল।

শহর কর্তৃপক্ষ বারবার জরাজীর্ণ ভবন চিহ্নিত করে খালি করার নির্দেশ দিলেও বাস্তবায়ন সীমিত থেকে যায়, কারণ বিকল্প আবাসনের সংকট বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই থেকে যেতে বাধ্য করে। মৌসুমি বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুম্বাইয়ে ভবনধসের এই ঝুঁকি প্রতিবছর নতুন করে সামনে আসছে, অথচ দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সংস্কার পরিকল্পনা এখনো কার্যকর রূপ পায়নি। স্থানীয় প্রকৌশলীদের একাংশ বলছেন, ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত পুরোনো ভবনের মালিকানা জটিলতাই মেরামত ও পুনর্নির্মাণের প্রধান বাধা।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এই দুর্ঘটনা তুলনামূলক গুরুত্ব বহন করে। ঢাকাসহ বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতেও পুরোনো ভবন ও ঘনবসতির একই সমস্যা রয়েছে, আর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও ভবনধসের ঝুঁকি নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদেরা একই ধরনের সতর্কতা দিয়ে আসছেন। মুম্বাইয়ে ভবনধসের এই অভিজ্ঞতা তাই শুধু ভারতের নয়, গোটা অঞ্চলের নগর ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সতর্কবার্তা। রাজধানী ঢাকায় ও পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়ও শতাধিক বছরের পুরোনো ভবন এখনো ব্যবহৃত হচ্ছে, আর নিয়মিত জরিপ ও কাঠামোগত পরীক্ষা ছাড়াই এসব ভবনে মানুষ বসবাস চালিয়ে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।

পাঁচ শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যু দিয়ে আরেকটি বর্ষা মৌসুম শুরু হলো মুম্বাইয়ে, যেখানে পুরোনো ভবনের তালিকা প্রতিবছর দীর্ঘ হয় কিন্তু বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা সেই তুলনায় এগোয় না। বর্ষা এখনো কয়েক মাস বাকি, আর ততদিনে একই ধরনের আরও কতগুলো জরাজীর্ণ ভবন একই পরিণতির মুখোমুখি হবে, তা নিয়ে শহরবাসীর উদ্বেগ কমছে না। পৌর কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দ্রুত জরিপ চালিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালি করার, তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সময় লাগে অনেক, আর ততদিনে আরও একটি বর্ষা পার হয়ে যেতে পারে।