বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল নিয়ে উৎসাহ বাড়ছে প্রতিদিন। তবে এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা ব্যক্তি কোনো ফুটবলার নন। বরং তিনি একজন আমেরিকান ফুটবল তারকা। নিজের সরলতা, রসবোধ এবং খেলাটির প্রতি শিশুসুলভ কৌতূহল দিয়ে সবার মন জয় করে নিয়েছেন জেমিস উইনস্টন।
বিশ্বকাপ নিয়ে টেলিভিশন আলোচনায় শুরুতে ধারণা ছিল, সাবেক বিশ্বকাপ খেলোয়াড় অ্যালেক্সি লালাস দর্শকদের ফুটবলের জটিলতা সহজভাবে তুলে ধরবেন। কিন্তু বাস্তবে আলো কেড়ে নিয়েছেন তার পাশেই বসা নিউইয়র্ক জায়ান্টসের কোয়ার্টারব্যাক জেমিস উইনস্টন। ফুটবল সম্পর্কে নিজেই শিখতে এসেও তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন, কোনো খেলাকে ভালোবাসতে বিশেষজ্ঞ হওয়া জরুরি নয়।
সরলতায় জয় করলেন দর্শকদের
বিশ্বকাপজুড়ে উইনস্টনের নানা কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দর্শকদের আলোচনায় উঠে এসেছে। একটি ম্যাচ শেষে তিনি জাপানি সমর্থকদের সঙ্গে গ্যালারি পরিষ্কার করতে অংশ নেন। আবার এক অচেনা সমর্থককে নিজের জার্সি উপহার দিয়ে চমকে দেন।

আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচের আগে কানসাস সিটিতে তিনি হাজির হন একটি জীবন্ত ছাগল নিয়ে, যার গায়ে ছিল লিওনেল মেসির জার্সি। সম্প্রচারের সময় মজা করে নিজেকে ‘ছাগলের রাখাল’ বলে পরিচয় দেন। তার এই রসবোধও দর্শকদের বেশ আনন্দ দিয়েছে।
সমালোচনার জবাব দিলেন সতীর্থ
গ্যালারি পরিষ্কারের ঘটনাকে কেউ কেউ প্রচারণার কৌশল বলে মন্তব্য করেন। তবে উইনস্টনের সাবেক সতীর্থ অ্যালভিন কামারা ভিন্ন কথা বলেন। তার মতে, জেমিস উইনস্টন বাস্তব জীবনেও আন্তরিক ও উদার মানুষ। ক্যামেরা থাকুক বা না থাকুক, মানুষের পাশে দাঁড়ানো তার স্বভাবেরই অংশ।
একটি মন্তব্যেই সাড়া
যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে উত্তেজনা বাড়ার সময় উইনস্টনের একটি মন্তব্য মুহূর্তেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তিনি রসিকতার ভঙ্গিতে বলেন, অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা যুক্তরাষ্ট্রকে সামলাতে না পেরে আগ্রাসী হয়ে উঠছে, ঠিক যেমন ছোট ভাইয়েরা না পারলে রাগ দেখায়। তার এই মন্তব্য দর্শকদের মধ্যে হাসির খোরাক জোগায় এবং দ্রুত আলোচনায় চলে আসে।
বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগের নতুন বার্তা
বিশ্লেষকেরা যখন কৌশল, পরিসংখ্যান ও ফলাফল নিয়ে ব্যস্ত, তখন জেমিস উইনস্টন অন্য এক শিক্ষা দিচ্ছেন। তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন, কোনো খেলাকে ভালোবাসার জন্য তার প্রতিটি নিয়ম জানা জরুরি নয়। কৌতূহল, উদারতা এবং আনন্দ নিয়ে খেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়াই সবচেয়ে বড় বিষয়।
বিশ্বকাপের এই গ্রীষ্মে তাই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত মুখ হয়ে উঠেছেন এমন একজন, যিনি মাঠে খেলছেন না, কিন্তু নিজের আচরণ দিয়ে বিশ্বকাপের উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















