দক্ষিণ ফ্রান্সে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় অন্তত ১০ হাজার মানুষকে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে। স্পেন সীমান্তসংলগ্ন প্রায় দুই ডজন ছোট শহর ও গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আগুন নেভাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা
দাবানল মোকাবিলায় ফ্রান্সকে সহায়তা দিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এগিয়ে এসেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আকাশপথে পানি ছিটানোর বিশেষ উড়োজাহাজ এবং শতাধিক অতিরিক্ত দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এতে জরুরি উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে।
হাজার হাজার একর বনভূমি পুড়ে ছাই
এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন দমকলকর্মীও রয়েছেন। আগুনে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর বন ও পাহাড়ি এলাকা পুড়ে গেছে। দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাপপ্রবাহে বেড়েছে ঝুঁকি
চলতি বছরের শুরুতেই ফ্রান্সসহ পশ্চিম ইউরোপজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ দেখা দেয়। মে ও জুন মাসের অতিরিক্ত গরমে বিস্তীর্ণ এলাকা শুকিয়ে যাওয়ায় বনভূমিগুলো দাবানলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে আবারও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে। একই ধরনের তাপপ্রবাহ স্পেন ও পর্তুগালেও অব্যাহত রয়েছে।
ক্রীড়া আয়োজনেও প্রভাব
দাবানলের কারণে একটি আন্তর্জাতিক সাইকেল প্রতিযোগিতার নির্ধারিত পথের আশপাশের এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে দমকল বাহিনীর যানবাহন ও উদ্ধারকর্মীদের চলাচল সহজ হয়েছে। প্রতিযোগিতার সঙ্গে থাকা গাড়ির সংখ্যাও সীমিত রাখা হয়েছে যাতে জরুরি কার্যক্রমে কোনো বাধা না সৃষ্টি হয়।
স্পেনেও দাবানলের ক্ষয়ক্ষতি
ফ্রান্সের সীমান্তের ওপারে স্পেনেও দাবানলে প্রায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর অধিকাংশই সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বনাঞ্চল। যদিও সেখানে আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং চলতি সপ্তাহেই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার আশা করা হচ্ছে।
এদিকে স্পেনে একটি সড়কের পাশে বৈদ্যুতিক কাটার যন্ত্র ব্যবহারের সময় অসাবধানতাবশত আগুন লাগার সন্দেহে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
পর্তুগালেও আগুনের বিস্তার
পর্তুগালেও গত কয়েক দিনে শত শত দাবানলের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বড় আগুন ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমি পুড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান চালানো হলেও শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে গড় বৈশ্বিক হারের তুলনায় অনেক দ্রুত উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ এবং দাবানলের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
ফ্রান্সে দাবানলে ১০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া, হাজার হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়েছে। তাপপ্রবাহের মধ্যে ইউরোপজুড়ে বাড়ছে নতুন উদ্বেগ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















