ভারতের মহারাষ্ট্রে টানা ভারী বৃষ্টির মধ্যে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের বহুল আলোচিত ‘মিসিং লিংক’ অংশে বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে সুড়ঙ্গসংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পুনে থেকে মুম্বাইমুখী সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে চালু হওয়া এই অবকাঠামো প্রকল্পের প্রথম বর্ষাতেই এমন ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত যোগাযোগ
সোমবার ভোরে পাহাড়ের ঢাল থেকে বড় বড় পাথর ও মাটি গড়িয়ে পড়ে একটি প্রতিরোধক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির কারণে এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন অংশে পানি জমে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এতে মুম্বাই ও পুনের মধ্যে অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কপথে দীর্ঘ সময় যানজট তৈরি হয়।
একই সময়ে পুরোনো মুম্বাই-পুনে মহাসড়কেও বৃষ্টিজনিত নানা সমস্যায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়। পরে পুনেমুখী যান চলাচল চালু হলেও মুম্বাইমুখী অংশ দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হয়। বিকল্প হিসেবে পুরোনো মহাসড়ক ও ঘাট এলাকার পথ ব্যবহার করতে হয় চালকদের।
রেকর্ড বৃষ্টিতে বাড়ে ঝুঁকি
গত ২৪ ঘণ্টায় লোনাভালা এলাকায় প্রায় ৬৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। একই সময়ে পুনেতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় মাটি নরম হয়ে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং তারই প্রভাব পড়ে এক্সপ্রেসওয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশে।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষতি মূলত সুড়ঙ্গের বাইরের প্রতিরোধক কাঠামো ও বাহ্যিক অংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। মূল সুড়ঙ্গের কাঠামো নিরাপদ আছে বলেও তারা দাবি করেন। তাদের মতে, এটি নির্মাণগত ত্রুটির কারণে নয়; বরং অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফল।
এছাড়া পাহাড়ের ঢালে আরও কোথাও আলগা পাথর বা মাটি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত পরিদর্শন চলছে। তবে টানা বৃষ্টি ও প্রবল বাতাসের কারণে এই কাজ প্রত্যাশার তুলনায় বেশি সময় নিচ্ছে।
মেরামত শেষে আংশিক চালুর পরিকল্পনা
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত এবং বৃষ্টির পানি নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রথমে সুড়ঙ্গের তিনটির মধ্যে দুটি লেন চালু করা হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একটি লেন বন্ধ রাখা হবে।
বিদ্রূপের বাস্তবতা
যে ‘মিসিং লিংক’ প্রকল্পটি বর্ষাকালে পুরোনো পাহাড়ি সড়কের যানজট ও দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হয়েছিল, সেটিই প্রথম বর্ষাতেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যানবাহনকে আবার সেই পুরোনো পথেই ফিরতে হয়েছে। এর সঙ্গে পুরোনো মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমা এবং বিদ্যুৎ লাইনের ওপর গাছ পড়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই ঘটনার পর বর্ষাকালে পাহাড়ি অঞ্চলের বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Sarakhon Report 



















