০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
একজন ট্রিলিয়নিয়ার বনাম ৪৯% দরিদ্র মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ভারতীয় কর্মী, কারণ জানলে অবাক হবেন

উচ্চ বেতন, আন্তর্জাতিক কর্মজীবন এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ—এসব কারণে বহু পেশাজীবীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ একটি বড় স্বপ্ন। তবে এক ভারতীয় কর্মী সেই সুযোগ নিজেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ, সেখানে গিয়ে তাকে নিজের ঘরের কাজ নিজেকেই করতে হবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ সিদ্ধান্তটিকে বাস্তবসম্মত বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি দীর্ঘমেয়াদে বড় সুযোগ হারানোর শামিল।

ঘরের কাজই সিদ্ধান্ত বদলে দিল

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই ভারতীয় কর্মীকে একই প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্র শাখায় কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

তার যুক্তি ছিল, প্রস্তাবিত বেতনে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তাকে নিজের বাড়ি পরিষ্কার করা, রান্না করা এবং অন্যান্য দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজ নিজেকেই সামলাতে হবে। পাশাপাশি ভারতে যেসব দ্রুত সেবা সহজেই পাওয়া যায়, যেমন অল্প সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে যাওয়া বা বিভিন্ন ব্যক্তিগত সেবা, সেগুলোর সুবিধাও সেখানে থাকবে না।

বর্তমানে তিনি অবিবাহিত এবং ভারতে তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপন করছেন। তাই বিদেশে গিয়ে সেই জীবনযাত্রার মান বদলে ফেলতে তিনি আগ্রহী নন।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার পার্থক্য

ভারতে অনেক মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পেশাজীবী তুলনামূলক কম খরচে গৃহকর্মী, কাপড় ধোয়ার সেবা, খাবার সরবরাহ এবং অন্যান্য দৈনন্দিন সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমের মূল্য অনেক বেশি হওয়ায় এসব সেবা ব্যবহার করা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

ফলে অধিকাংশ মানুষকে রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাজার করা এবং অন্যান্য গৃহস্থালির কাজ নিজেরাই করতে হয়। এই বাস্তবতাই ওই কর্মীর সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

US company demands Indian employee keep camera on during work hours. His  response | Trending

সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

অনেকেই বলেছেন, বিদেশে কয়েক বছর কাজ করলে নতুন সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের ভালো সুযোগ তৈরি হতে পারত। তাদের মতে, সাময়িক কিছু অসুবিধার জন্য এমন সুযোগ ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।

অন্যদিকে অনেকের মত, শুধু বেতনের পরিমাণ নয়, জীবনযাত্রার মানও গুরুত্বপূর্ণ। যদি একজন ব্যক্তি নিজের বর্তমান জীবনেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন, তাহলে বিদেশে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রস্তাবিত বেতন কত ছিল। তাদের মতে, প্রকৃত বেতনের তথ্য জানা গেলে সিদ্ধান্তটি আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হতো।

কাজের চেয়ে জীবনযাত্রার মূল্য

এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি পেলেই সবাই সেটিকে জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত মনে করেন না। অনেকের কাছে পরিবার, পরিচিত পরিবেশ, দৈনন্দিন সুবিধা এবং ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করেই অনেকে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

একজন ট্রিলিয়নিয়ার বনাম ৪৯% দরিদ্র

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন ভারতীয় কর্মী, কারণ জানলে অবাক হবেন

০৭:১২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

উচ্চ বেতন, আন্তর্জাতিক কর্মজীবন এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ—এসব কারণে বহু পেশাজীবীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ একটি বড় স্বপ্ন। তবে এক ভারতীয় কর্মী সেই সুযোগ নিজেই ফিরিয়ে দিয়েছেন। কারণ, সেখানে গিয়ে তাকে নিজের ঘরের কাজ নিজেকেই করতে হবে।

এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ সিদ্ধান্তটিকে বাস্তবসম্মত বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি দীর্ঘমেয়াদে বড় সুযোগ হারানোর শামিল।

ঘরের কাজই সিদ্ধান্ত বদলে দিল

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই ভারতীয় কর্মীকে একই প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্র শাখায় কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

তার যুক্তি ছিল, প্রস্তাবিত বেতনে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তাকে নিজের বাড়ি পরিষ্কার করা, রান্না করা এবং অন্যান্য দৈনন্দিন গৃহস্থালির কাজ নিজেকেই সামলাতে হবে। পাশাপাশি ভারতে যেসব দ্রুত সেবা সহজেই পাওয়া যায়, যেমন অল্প সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে যাওয়া বা বিভিন্ন ব্যক্তিগত সেবা, সেগুলোর সুবিধাও সেখানে থাকবে না।

বর্তমানে তিনি অবিবাহিত এবং ভারতে তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপন করছেন। তাই বিদেশে গিয়ে সেই জীবনযাত্রার মান বদলে ফেলতে তিনি আগ্রহী নন।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার পার্থক্য

ভারতে অনেক মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পেশাজীবী তুলনামূলক কম খরচে গৃহকর্মী, কাপড় ধোয়ার সেবা, খাবার সরবরাহ এবং অন্যান্য দৈনন্দিন সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমের মূল্য অনেক বেশি হওয়ায় এসব সেবা ব্যবহার করা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

ফলে অধিকাংশ মানুষকে রান্না, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাজার করা এবং অন্যান্য গৃহস্থালির কাজ নিজেরাই করতে হয়। এই বাস্তবতাই ওই কর্মীর সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

US company demands Indian employee keep camera on during work hours. His  response | Trending

সামাজিক মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

অনেকেই বলেছেন, বিদেশে কয়েক বছর কাজ করলে নতুন সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের ভালো সুযোগ তৈরি হতে পারত। তাদের মতে, সাময়িক কিছু অসুবিধার জন্য এমন সুযোগ ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।

অন্যদিকে অনেকের মত, শুধু বেতনের পরিমাণ নয়, জীবনযাত্রার মানও গুরুত্বপূর্ণ। যদি একজন ব্যক্তি নিজের বর্তমান জীবনেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন, তাহলে বিদেশে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।

আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রস্তাবিত বেতন কত ছিল। তাদের মতে, প্রকৃত বেতনের তথ্য জানা গেলে সিদ্ধান্তটি আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হতো।

কাজের চেয়ে জীবনযাত্রার মূল্য

এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি পেলেই সবাই সেটিকে জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত মনে করেন না। অনেকের কাছে পরিবার, পরিচিত পরিবেশ, দৈনন্দিন সুবিধা এবং ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ক্যারিয়ারের পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান বিবেচনা করেই অনেকে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।