শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে বন্দিদের মধ্যে সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন কারারক্ষীও রয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
কারাগারে উত্তেজনার সূচনা
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রোববার থেকেই বন্দিদের কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে দুজন নিহত হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে কারাগারের চারপাশে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়। রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের নেগোম্বো কারাগারে তখন থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
সোমবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। একদল বন্দি কারাগারের ছাদে উঠে তাদের দ্রুত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। একই সময়ে কয়েকজন বন্দি মূল ফটকের দিকে এগিয়ে পালানোর চেষ্টা চালায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটকে দেয়।
গুলির শব্দে আতঙ্ক
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষ চলাকালে কারাগারের বাইরে থেকেও গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু বন্দি কারারক্ষীদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র দখল করে থাকতে পারে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, নিহতরা বন্দি হোক বা অন্য যেকোনো পরিচয়ের মানুষ—এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রাণহানি। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষে জড়িত বলে সন্দেহ করা প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোকে আলাদা করার কাজ চলছে। পাশাপাশি নেগোম্বো কারাগারের কিছু বন্দিকে অন্য কারাগারে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন করে সহিংসতা না ছড়ায়।
বিশেষ তদন্ত শুরু
ঘটনার কারণ, সংঘর্ষের প্রকৃতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা খতিয়ে দেখতে বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে কীভাবে পরিস্থিতি এত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
পুরোনো সংকট আবার সামনে
এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা আবারও শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোর দীর্ঘদিনের সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। কয়েক বছর আগেও একটি বড় কারাগারে সংঘর্ষে বহু বন্দির মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর কারাগারগুলোর অতিরিক্ত ভিড়, সীমিত অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, অনেক কারাগারে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি বন্দি রাখা হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত ভিড়, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব দীর্ঘদিন ধরেই বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। সর্বশেষ এই প্রাণঘাতী সংঘর্ষ সেই সংকটকে আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















