১০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাদ্রাসায় ৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা আরও ২০ জনের ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৭ হাজার ৫০০ প্রতিরক্ষায় বেশি ব্যয় করলেই কি ইউরোপের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে? ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির একমাত্র বাস্তব পথ তেল শোধনাগারের বাড়তি লাভের শেষ কোথায়? বাংলাদেশে হামে আরও ৩ শিশুর সন্দেহজনক মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৭৪৫ রাশিয়ার জ্বালানি দুর্বলতা, শেয়ারবাজারের বাস্তবতা এবং ইউরোপের আত্মবিশ্বাসের সংকট ব্রেক্সিটের এক দশক পরে: ব্রিটেন কি আবার ইউরোপের পথে? চাপে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক: ইরান ইস্যুতে মেলোনিকে ‘ভুল’ বললেন ট্রাম্প সংঘাতের গল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নায়িকা, পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় আসছে টিলি নরউড

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে চট্টগ্রাম, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন

টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের সম্মিলিত প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবারও বন্দরনগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে থাকায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, বিমানবন্দরমুখী যাত্রী, পথচারী এবং দিনমজুরদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।

সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কগুলো পানিতে ডুবে থাকায় অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে বা প্যান্ট গুটিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। পানিতে ডুবে বহু মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হয়ে পড়েছে, যার ফলে প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

জলাবদ্ধতায় স্থবির নগরজীবন

দুই দিনের থেমে থেমে বৃষ্টির পর সোমবার রাত থেকে চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এর ফলে আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোড, বাদামতলী, কাটালগঞ্জ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, চকবাজার, মোহরা ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়।

অনেক এলাকায় সড়ক ও ড্রেনের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক বাসিন্দা নিজ নিজ বাড়িতে আটকা পড়েছেন।

তবে জিইসি মোড়, ২ নম্বর গেট, ষোলশহর, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট এলাকায় উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া যায়নি।

পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া

জলাবদ্ধতার কারণে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, বহদ্দারহাট থেকে নিউমার্কেটগামী ২ নম্বর রুটের কিছু বাসে প্রতিবাদ সত্ত্বেও ওঠানামার সময় জনপ্রতি অতিরিক্ত ১০ টাকা আদায় করা হয়েছে।

টানা বৃষ্টি-জোয়ারে পানির নিচে চট্টগ্রাম

বাসিন্দাদের দুর্ভোগ

পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারি গেট এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, বন্যার পানি দোকান ও বাড়িতে ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ হালিশহরের আকবর হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, সোমবার থেকে এলাকায় কোমরসমান পানি জমে রয়েছে এবং আবাসিক ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে গেছে।

চকবাজার ও বাকলিয়ার নিম্নাঞ্চলেও ড্রেন উপচে পড়া নোংরা পানি ও জোয়ারের পানি একসঙ্গে সড়ক ও অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হাজারো মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং অনেক কর্মজীবী মানুষ কর্মস্থলে যেতে পারেননি।

চট্টগ্রাম কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তিনি ক্লাসে যেতে না পেরে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন।

বৃষ্টিপাত, সতর্কতা ও ভূমিধসের আশঙ্কা

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আমবাগান এলাকায় ২৫৯ মিলিমিটার এবং পতেঙ্গায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যেই পতেঙ্গায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে অতিভারী বৃষ্টির কারণে নতুন করে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানান, সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার হওয়ায় নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের তৎপরতা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মঙ্গলবার সকালে জলাবদ্ধ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীদের মাঠে থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দেন।

মেয়র জানান, গত তিন দিন ধরে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। বৃষ্টিপাত কমে এলে দ্রুত পানি নেমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে। জনজীবন ও পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস: মাদ্রাসায় ৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা আরও ২০ জনের

টানা বৃষ্টিতে পানির নিচে চট্টগ্রাম, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জনজীবন

০৬:৩৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের সম্মিলিত প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবারও বন্দরনগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে থাকায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, বিমানবন্দরমুখী যাত্রী, পথচারী এবং দিনমজুরদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।

সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কগুলো পানিতে ডুবে থাকায় অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে বা প্যান্ট গুটিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। পানিতে ডুবে বহু মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হয়ে পড়েছে, যার ফলে প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

জলাবদ্ধতায় স্থবির নগরজীবন

দুই দিনের থেমে থেমে বৃষ্টির পর সোমবার রাত থেকে চট্টগ্রামে টানা ভারী বর্ষণ শুরু হয়। এর ফলে আগ্রাবাদ অ্যাকসেস রোড, বাদামতলী, কাটালগঞ্জ, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, চকবাজার, মোহরা ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়।

অনেক এলাকায় সড়ক ও ড্রেনের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক বাসিন্দা নিজ নিজ বাড়িতে আটকা পড়েছেন।

তবে জিইসি মোড়, ২ নম্বর গেট, ষোলশহর, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট এলাকায় উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া যায়নি।

পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া

জলাবদ্ধতার কারণে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় বাসের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত ভাড়াও গুনতে হয়েছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, বহদ্দারহাট থেকে নিউমার্কেটগামী ২ নম্বর রুটের কিছু বাসে প্রতিবাদ সত্ত্বেও ওঠানামার সময় জনপ্রতি অতিরিক্ত ১০ টাকা আদায় করা হয়েছে।

টানা বৃষ্টি-জোয়ারে পানির নিচে চট্টগ্রাম

বাসিন্দাদের দুর্ভোগ

পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারি গেট এলাকার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, বন্যার পানি দোকান ও বাড়িতে ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণ হালিশহরের আকবর হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, সোমবার থেকে এলাকায় কোমরসমান পানি জমে রয়েছে এবং আবাসিক ভবনের নিচতলায় পানি ঢুকে গেছে।

চকবাজার ও বাকলিয়ার নিম্নাঞ্চলেও ড্রেন উপচে পড়া নোংরা পানি ও জোয়ারের পানি একসঙ্গে সড়ক ও অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হাজারো মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং অনেক কর্মজীবী মানুষ কর্মস্থলে যেতে পারেননি।

চট্টগ্রাম কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তিনি ক্লাসে যেতে না পেরে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন।

বৃষ্টিপাত, সতর্কতা ও ভূমিধসের আশঙ্কা

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আমবাগান এলাকায় ২৫৯ মিলিমিটার এবং পতেঙ্গায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যেই পতেঙ্গায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

সমুদ্রবন্দরগুলোর জন্য ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে অতিভারী বৃষ্টির কারণে নতুন করে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানান, সকাল প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিটে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার হওয়ায় নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের তৎপরতা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন মঙ্গলবার সকালে জলাবদ্ধ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীদের মাঠে থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দেন।

মেয়র জানান, গত তিন দিন ধরে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। বৃষ্টিপাত কমে এলে দ্রুত পানি নেমে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে। জনজীবন ও পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।