চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি ঝোপের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ব্রাজিলের তৈরি একটি ৯ এমএম পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রটি সম্প্রতি থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্রের অংশ কি না, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ ব্যালিস্টিক পরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযানে কোথায় মিলল অস্ত্র
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে কর্ণফুলী থানার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সৈন্যারটেক পুলসংলগ্ন চার রাস্তার মোড়ের পাশে একটি ঝোপের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটির বডি লোহার এবং বাঁট প্লাস্টিকের তৈরি। পিস্তলের এক পাশে ইংরেজিতে “TAURUS” এবং অন্য পাশে “MADE IN BRAZIL” লেখা খোদাই করা রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রটির ট্রিগার ও ফায়ারিং পিন অক্ষত থাকলেও এর সঙ্গে কোনো ম্যাগাজিন পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিকভাবে যা জানা গেছে
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি ব্রাজিলের অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টরাসের তৈরি ৯ এমএম ক্যালিবারের একটি সেমি-অটোমেটিক পিস্তল। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটি প্রতিষ্ঠানটির জি-৩ সিরিজের একটি মডেল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে এ ধরনের পিস্তল ব্যবহৃত হয়। এ কারণে অস্ত্রটি কোনো সরকারি সংস্থার নামে বরাদ্দ ছিল কি না অথবা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের তালিকায় রয়েছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করছে না পুলিশ।
চলছে ব্যালিস্টিক পরীক্ষা ও তদন্ত
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পিস্তলের প্রকৃত উৎস এবং এর ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য জানতে ব্যালিস্টিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তদন্ত করা হবে। এসব পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই অস্ত্রটির পরিচয় এবং এর সঙ্গে কোনো অপরাধ বা সরকারি অস্ত্র লুটের ঘটনার সংযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, উদ্ধার হওয়া পিস্তলটির উৎস শনাক্তে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। ব্যালিস্টিক পরীক্ষাসহ সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















