০৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
চীনের বিরল আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাড়ছে উদ্বেগ স্টারমারের বিদায়ের পর ব্রিটিশ রাজনীতি নিয়ে চীনে হাস্যরস, বিতর্কের কেন্দ্র গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা টেক্সাসে ‘ইসলামিফিকেশন’ বিতর্ক, নতুন পরিচয় রাজনীতিতে বদলে যাচ্ছে আমেরিকার রাজনৈতিক লড়াই বাংলাদেশে হামে আরও ৩ সন্দেহজনক মৃত্যু, মোট প্রাণহানি বেড়ে ৭৫৩ মানব উন্নয়নে বিনিয়োগ ছাড়া জনসংখ্যা চ্যালেঞ্জের সমাধান অসম্ভব পাঁচ বছরের শিশুকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ, জীবিত উদ্ধার মা-মেয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তায় পিছিয়ে যাচ্ছে বিয়ে-সন্তানের সিদ্ধান্ত, জানালো ইউএনএফপিএ কর্ণফুলীর ঝোপে উদ্ধার ব্রাজিলের ৯ এমএম পিস্তল, ব্যালিস্টিক পরীক্ষায় মিলবে উৎসের তথ্য পাকিস্তান এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সৌর প্যানেল আমদানিকারক, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় লক্ষ্য বেলুচিস্তানে ‘অপারেশন শাবান’ জোরদার, আরও ৯ জঙ্গি নিহত; ৫ জুলাই থেকে নিহতের সংখ্যা ৮৮

পাকিস্তান এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সৌর প্যানেল আমদানিকারক, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় লক্ষ্য

পাকিস্তান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সৌর প্যানেল আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যৌথভাবে প্রণীত ‘পাকিস্তানস ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান (সিপিপি)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ বিদ্যুৎ শুল্ক, সৌর প্যানেলের দাম কমে আসা এবং সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আমদানি দ্রুত বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাকিস্তান ১৭ গিগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। এর ফলে সৌর প্যানেল আমদানিতে দেশটি বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।

জ্বালানি খাতের সংকট কাটাতে বহুমুখী পরিকল্পনা

প্রতিবেদন বলছে, পাকিস্তানের বিদ্যুৎ খাতের ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং উচ্চ উৎপাদন ব্যয় মোকাবিলায় শুধু সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়। এজন্য ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) পুনর্গঠন বা পুনরায় আলোচনার উদ্যোগ, বাস্তব ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিদ্যুৎ শুল্ক এবং ধাপে ধাপে পুরোনো ও অদক্ষ জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

How Pakistan pulled off one of the fastest solar revolutions in the world |  CNN

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং মুদ্রা বিনিময় ঝুঁকির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাতে সার্কুলার ঋণের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হলেও সেই সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

২০৪০ সালের মধ্যে ৯৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য

প্রতিবেদনে উচ্চাভিলাষী কয়েকটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানির ৬০ শতাংশ পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে নিশ্চিত করা, ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন এবং ২০৪০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৯৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর করা।

এছাড়া ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৪ হাজার মেগাওয়াট জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ বা রূপান্তর, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ক্ষতি ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশে আনা, শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ২০ কোটি টন কার্বন নির্গমন সমপরিমাণ কার্বন ক্রেডিট তৈরি করে আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।

Pakistan's Solar Boom: Third-Largest Importer Faces Grid Strain, Fraud, And  Waste Challenges

বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়নের ওপর জোর

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ ও স্থানীয় বায়োমাসের মতো দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ালে ব্যয়বহুল জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে বৃহৎ সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং পরিবহন খাতের বিদ্যুতায়নের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে সুপারিশ

প্রতিবেদনটি নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য স্বচ্ছ নিলাম পদ্ধতি চালু এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে ঋণ গ্যারান্টি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রিড উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক বিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা তৈরি হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের বিরল আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাড়ছে উদ্বেগ

পাকিস্তান এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সৌর প্যানেল আমদানিকারক, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় লক্ষ্য

০৩:১৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সৌর প্যানেল আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যৌথভাবে প্রণীত ‘পাকিস্তানস ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান (সিপিপি)’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ বিদ্যুৎ শুল্ক, সৌর প্যানেলের দাম কমে আসা এবং সাশ্রয়ী জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আমদানি দ্রুত বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পাকিস্তান ১৭ গিগাওয়াট ক্ষমতার সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। এর ফলে সৌর প্যানেল আমদানিতে দেশটি বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে।

জ্বালানি খাতের সংকট কাটাতে বহুমুখী পরিকল্পনা

প্রতিবেদন বলছে, পাকিস্তানের বিদ্যুৎ খাতের ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং উচ্চ উৎপাদন ব্যয় মোকাবিলায় শুধু সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ যথেষ্ট নয়। এজন্য ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) পুনর্গঠন বা পুনরায় আলোচনার উদ্যোগ, বাস্তব ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিদ্যুৎ শুল্ক এবং ধাপে ধাপে পুরোনো ও অদক্ষ জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

How Pakistan pulled off one of the fastest solar revolutions in the world |  CNN

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং মুদ্রা বিনিময় ঝুঁকির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ খাতে সার্কুলার ঋণের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হলেও সেই সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

২০৪০ সালের মধ্যে ৯৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য

প্রতিবেদনে উচ্চাভিলাষী কয়েকটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানির ৬০ শতাংশ পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে নিশ্চিত করা, ২০৩৫ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন এবং ২০৪০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৯৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর করা।

এছাড়া ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৪ হাজার মেগাওয়াট জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ বা রূপান্তর, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ক্ষতি ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশে আনা, শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ২০ কোটি টন কার্বন নির্গমন সমপরিমাণ কার্বন ক্রেডিট তৈরি করে আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।

Pakistan's Solar Boom: Third-Largest Importer Faces Grid Strain, Fraud, And  Waste Challenges

বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়নের ওপর জোর

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ ও স্থানীয় বায়োমাসের মতো দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ালে ব্যয়বহুল জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে বৃহৎ সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প, বিদ্যুৎ সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকায়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং পরিবহন খাতের বিদ্যুতায়নের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে সুপারিশ

প্রতিবেদনটি নতুন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য স্বচ্ছ নিলাম পদ্ধতি চালু এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে ঋণ গ্যারান্টি জোরদারের পরামর্শ দিয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ গ্রিড উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক বিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা তৈরি হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।