পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে চলমান ‘অপারেশন শাবান’-এ আরও ৯ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দেশটির নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে। শনিবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৫ জুলাই থেকে বিভিন্ন অভিযানে মোট ৮৮ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে।
জিয়ারাত জেলার মাঙ্গি ড্যাম পুলিশ স্টেশনে হামলার পর এই যৌথ অভিযান শুরু করা হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী, ফ্রন্টিয়ার কর্পস (এফসি) এবং বেলুচিস্তান পুলিশ একসঙ্গে এই অভিযান পরিচালনা করছে।
সমন্বিত বিমান ও স্থল অভিযান
নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, সর্বশেষ অভিযানে সমন্বিত বিমান ও স্থল হামলার মাধ্যমে আরও ৯ জন জঙ্গিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয় এবং তারা নিহত হয়।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘অপারেশন শাবান’-এর আওতায় এখন পর্যন্ত ৫২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে ৫ জুলাই থেকে বেলুচিস্তানের বিভিন্ন অভিযানে মোট নিহত জঙ্গির সংখ্যা বেড়ে ৮৮-এ পৌঁছেছে।
অভিযান চলবে
নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, চলমান অভিযানে জঙ্গিগোষ্ঠী উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে সাম্প্রতিক তিনটি সন্ত্রাসী হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৪২ জন নিহত হয়েছেন।
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বেলুচিস্তানে শেষ জঙ্গিকে নির্মূল না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জিয়ারাত হামলা নিয়ে সেনাবাহিনীর বক্তব্য
এর আগে জিয়ারাতে হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, ভারত-সমর্থিত জঙ্গিরা ওই পুলিশ চৌকিতে হামলা চালায়। তার দাবি, প্রাথমিক সংঘর্ষেই পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে ১৫ জন জঙ্গিকে হত্যা করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক সংঘর্ষে ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে হামলাকারীরা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে জিম্মিও করেছিল।
সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি
পাকিস্তানের দাবি, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ নামে সীমান্তপারের কথিত জঙ্গি আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে আফগান তালেবান-সংশ্লিষ্ট ও মিত্র জঙ্গিদের বহু সদস্য নিহত ও আহত হয়।
এছাড়া ২০২৫ সালের অক্টোবরে আফগান তালেবান ও তাদের মিত্রদের সীমান্ত চৌকিতে হামলার পর দুই দেশের সীমান্তে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে ২০০-এর বেশি তালেবান যোদ্ধা ও মিত্র জঙ্গি নিহত এবং ২৩ জন পাকিস্তানি সেনাসদস্য নিহত হন।
পাকিস্তানের বক্তব্য অনুযায়ী, একাধিক দফা আলোচনা হলেও জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে মতপার্থক্যের কারণে দুই দেশের মধ্যে এখনো সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















