দীর্ঘ অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সংযোগকারী গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতু আগামী ২৭ জুলাই চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুল্ক থেকে পাওয়া আয়ের ভাগ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া মতবিরোধের অবসানের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেতু চালুর পথে নতুন সমঝোতা
ডেট্রয়েট ও উইন্ডসরকে যুক্ত করা এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি এর আগে জুন মাসে চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে শুল্ক আয়ের অংশ নিয়ে নতুন আলোচনার দাবি ওঠায় উদ্বোধন পিছিয়ে যায়। পরে দুই দেশের কর্মকর্তাদের কয়েক দফা আলোচনার পর নতুন সমঝোতা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, সেতুর পরিচালন খরচ বাদ দেওয়ার পর পাওয়া আয়ের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত আঞ্চলিক উন্নয়ন তহবিলে দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বড় প্রকল্পে দুই দেশের স্বার্থ
ডেট্রয়েট নদীর ওপর নির্মিত এই সেতু নির্মাণে কানাডা প্রায় ৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ব্যয় করেছে। দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো একটি সেতুর মালিকপক্ষ নতুন সেতু নির্মাণের বিরোধিতা করে আসছিল।
নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, মূল মালিকানা কাঠামো পরিবর্তন হচ্ছে না। কানাডা ও মিশিগান সেতুর মালিকানায় থাকবে এবং আগের চুক্তির শর্ত বহাল থাকবে।
শুল্ক পরিবর্তনেও থাকবে সমন্বয়
কানাডার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেতুর শুল্ক নির্ধারণে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

সেতু পরিচালনা থেকে আসা আয়ের ভিত্তিতে আগামী ১৫ বছরের জন্য একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এই তহবিল থেকে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হবে।
দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতুর উদ্বোধন শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্কের মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার বার্তা দিচ্ছে। নতুন সেতু চালু হলে দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন ও যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গর্ডি হাও আন্তর্জাতিক সেতু চালুর সিদ্ধান্তের পর মিশিগানের নেতারাও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর এই প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















