০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ৩ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল দেড় শতকের পথে দানাং বন্দর, ১২৫ বছরে স্মার্ট সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপান্তর ইনফ্লুয়েন্সার বাছাইয়ে বদলে যাচ্ছে ব্র্যান্ডের কৌশল মুখের যত্নেও বিলাসী সৌন্দর্যের যুগ, ডাইসনের প্রথম টুথব্রাশে নতুন ইঙ্গিত মায়ের পেনশন পেতে ঘুষের দাবি, প্রতিবাদে কিশোরের ‘ঘুষ’ ওয়েবসাইট—৯ দিনে অভিযোগ প্রায় ১০ হাজার সিন্ধু পানি চুক্তির সালিশি রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের, আদালতকে বলল ‘অবৈধভাবে গঠিত’ যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ সংকট: কমতে থাকা শিক্ষার্থী ও বাড়তি খরচে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে শত শত প্রতিষ্ঠান শি–পুতিন বৈঠক: কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার চীন ও রাশিয়ার শি-ট্রাম্প বৈঠকের আগে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্তে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ চীনের চমক ‘ডিয়ার ইউ’, এবার কি জয় করবে যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিস?

স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে আদালতে মিথ্যা মামলার নজির, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে সতর্ক করলেন বিচারক

স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সুরক্ষা আদেশ চেয়ে করা এক ব্যক্তির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। মামলার নথিতে অস্তিত্বহীন একটি মামলার উল্লেখ করায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি তথ্য যাচাই ছাড়া ব্যবহার করায় ওই ব্যক্তিকে সতর্কও করা হয়েছে।

অভিযোগ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

ঘটনার সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল। ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিক ও আবেগগতভাবে নির্যাতন করেছেন। তার দাবি ছিল, স্ত্রীর আচরণের কারণে তিনি আর্থিক সংকটে পড়ে অসহায় অবস্থায় চলে গিয়েছিলেন।

তিনি আরও দাবি করেন, তাকে খাবার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল এবং এর ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এমনকি দাঁতের চিকিৎসার জন্য তাকে নিজ দেশে যেতে হয়েছিল বলেও তিনি আদালতে জানান।

তবে বিচারক তার বক্তব্যের কিছু অংশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিচারকের মতে, যদি ওই ব্যক্তি সত্যিই এতটা দুর্বল ও অসহায় অবস্থায় থাকতেন, তাহলে কয়েক কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ভারী আটার বস্তা বহন করা তার পক্ষে কঠিন হওয়ার কথা।

How To Heal From Emotional Abuse

ভিডিওতে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র

আদালতে জমা দেওয়া দুটি ভিডিও পর্যালোচনা করে বিচারক বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বাস্তব চিত্র অভিযোগের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে দেখা গেছে।

বিচারক মন্তব্য করেন, চাকরি হারানোর পর ওই ব্যক্তির জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তবে পরিস্থিতি সামলানোর স্বাস্থ্যকর উপায় খুঁজে না পাওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে নেতিবাচক অবস্থার দিকে চলে যান।

আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, ওই ব্যক্তির দুরবস্থার জন্য তার স্ত্রী নয়, বরং তার নিজের সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতি মোকাবিলার ধরনই বেশি দায়ী ছিল।

আবেদন বাতিল, খরচ দিতে নির্দেশ

সব তথ্য বিবেচনা করে আদালত ব্যক্তিগত সুরক্ষা আদেশের আবেদন বাতিল করেন। একই সঙ্গে স্ত্রীকে মামলার খরচ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

Lawyers could face 'severe' penalties for fake AI-generated citations, UK court  warns | TechCrunch

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে আদালতের সতর্কতা

মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আদালতে জমা দেওয়া নথি তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। ওই ব্যক্তি স্ত্রীর কিছু প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে এমন একটি মামলার উদাহরণ দেন, যার কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

পরে তিনি জানান, তিনি কেবল খসড়া তৈরি ও সাধারণ কাঠামো তৈরির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছিলেন এবং পরে নিজে তা সংশোধন করেছেন।

তবে বিচারক নথির ভাষা, গঠন এবং দ্রুত প্রস্তুতির ধরন দেখে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু এর মাধ্যমে তৈরি তথ্যের দায় ব্যবহারকারীকেই নিতে হবে।

আদালতে জমা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে প্রতিটি তথ্য নিজে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও বিচারক উল্লেখ করেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ৩ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল

স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে আদালতে মিথ্যা মামলার নজির, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে সতর্ক করলেন বিচারক

১১:৫১:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সুরক্ষা আদেশ চেয়ে করা এক ব্যক্তির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। মামলার নথিতে অস্তিত্বহীন একটি মামলার উল্লেখ করায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি তথ্য যাচাই ছাড়া ব্যবহার করায় ওই ব্যক্তিকে সতর্কও করা হয়েছে।

অভিযোগ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

ঘটনার সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল। ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিক ও আবেগগতভাবে নির্যাতন করেছেন। তার দাবি ছিল, স্ত্রীর আচরণের কারণে তিনি আর্থিক সংকটে পড়ে অসহায় অবস্থায় চলে গিয়েছিলেন।

তিনি আরও দাবি করেন, তাকে খাবার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল এবং এর ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এমনকি দাঁতের চিকিৎসার জন্য তাকে নিজ দেশে যেতে হয়েছিল বলেও তিনি আদালতে জানান।

তবে বিচারক তার বক্তব্যের কিছু অংশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিচারকের মতে, যদি ওই ব্যক্তি সত্যিই এতটা দুর্বল ও অসহায় অবস্থায় থাকতেন, তাহলে কয়েক কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ভারী আটার বস্তা বহন করা তার পক্ষে কঠিন হওয়ার কথা।

How To Heal From Emotional Abuse

ভিডিওতে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র

আদালতে জমা দেওয়া দুটি ভিডিও পর্যালোচনা করে বিচারক বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বাস্তব চিত্র অভিযোগের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে দেখা গেছে।

বিচারক মন্তব্য করেন, চাকরি হারানোর পর ওই ব্যক্তির জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তবে পরিস্থিতি সামলানোর স্বাস্থ্যকর উপায় খুঁজে না পাওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে নেতিবাচক অবস্থার দিকে চলে যান।

আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, ওই ব্যক্তির দুরবস্থার জন্য তার স্ত্রী নয়, বরং তার নিজের সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতি মোকাবিলার ধরনই বেশি দায়ী ছিল।

আবেদন বাতিল, খরচ দিতে নির্দেশ

সব তথ্য বিবেচনা করে আদালত ব্যক্তিগত সুরক্ষা আদেশের আবেদন বাতিল করেন। একই সঙ্গে স্ত্রীকে মামলার খরচ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

Lawyers could face 'severe' penalties for fake AI-generated citations, UK court  warns | TechCrunch

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে আদালতের সতর্কতা

মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আদালতে জমা দেওয়া নথি তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। ওই ব্যক্তি স্ত্রীর কিছু প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে এমন একটি মামলার উদাহরণ দেন, যার কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

পরে তিনি জানান, তিনি কেবল খসড়া তৈরি ও সাধারণ কাঠামো তৈরির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছিলেন এবং পরে নিজে তা সংশোধন করেছেন।

তবে বিচারক নথির ভাষা, গঠন এবং দ্রুত প্রস্তুতির ধরন দেখে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু এর মাধ্যমে তৈরি তথ্যের দায় ব্যবহারকারীকেই নিতে হবে।

আদালতে জমা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে প্রতিটি তথ্য নিজে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও বিচারক উল্লেখ করেন।