০১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল— কীভাবে পৌঁছালো এই চার দল, তাদের বিস্তারিত বিবরণ ও বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী হেফাজতে মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন, কারাবন্দিদের চিকিৎসায় ঘাটতিতে উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নতুন মোড়ে, উপসাগজজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা; হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে বৈশ্বিক উদ্বেগ ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন: নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা, নজরে দেশ-বিদেশ  ই২০ পেট্রোল বিতর্কে মুখ খুলল মার্সিডিজ-বেঞ্জ ইন্ডিয়া, সৌরভ যোশীর অভিযোগের পর জারি পরামর্শ ব্যাংককের পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ২৭, হাসপাতালে বহু আহত বর্ষায় বাড়ে দুর্ভোগ মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতির শোকবার্তা: বাংলাদেশের বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার অঙ্গীকার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চার সাবেক চ্যাম্পিয়নের লড়াই, উত্তেজনায় ফ্রান্স-স্পেন ও আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বিতর্কের কেন্দ্র নতুন নিয়ম, বদলে যাচ্ছে ম্যাচের ভাগ্য

স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে আদালতে মিথ্যা মামলার নজির, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে সতর্ক করলেন বিচারক

স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সুরক্ষা আদেশ চেয়ে করা এক ব্যক্তির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। মামলার নথিতে অস্তিত্বহীন একটি মামলার উল্লেখ করায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি তথ্য যাচাই ছাড়া ব্যবহার করায় ওই ব্যক্তিকে সতর্কও করা হয়েছে।

অভিযোগ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

ঘটনার সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল। ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিক ও আবেগগতভাবে নির্যাতন করেছেন। তার দাবি ছিল, স্ত্রীর আচরণের কারণে তিনি আর্থিক সংকটে পড়ে অসহায় অবস্থায় চলে গিয়েছিলেন।

তিনি আরও দাবি করেন, তাকে খাবার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল এবং এর ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এমনকি দাঁতের চিকিৎসার জন্য তাকে নিজ দেশে যেতে হয়েছিল বলেও তিনি আদালতে জানান।

তবে বিচারক তার বক্তব্যের কিছু অংশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিচারকের মতে, যদি ওই ব্যক্তি সত্যিই এতটা দুর্বল ও অসহায় অবস্থায় থাকতেন, তাহলে কয়েক কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ভারী আটার বস্তা বহন করা তার পক্ষে কঠিন হওয়ার কথা।

How To Heal From Emotional Abuse

ভিডিওতে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র

আদালতে জমা দেওয়া দুটি ভিডিও পর্যালোচনা করে বিচারক বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বাস্তব চিত্র অভিযোগের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে দেখা গেছে।

বিচারক মন্তব্য করেন, চাকরি হারানোর পর ওই ব্যক্তির জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তবে পরিস্থিতি সামলানোর স্বাস্থ্যকর উপায় খুঁজে না পাওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে নেতিবাচক অবস্থার দিকে চলে যান।

আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, ওই ব্যক্তির দুরবস্থার জন্য তার স্ত্রী নয়, বরং তার নিজের সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতি মোকাবিলার ধরনই বেশি দায়ী ছিল।

আবেদন বাতিল, খরচ দিতে নির্দেশ

সব তথ্য বিবেচনা করে আদালত ব্যক্তিগত সুরক্ষা আদেশের আবেদন বাতিল করেন। একই সঙ্গে স্ত্রীকে মামলার খরচ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

Lawyers could face 'severe' penalties for fake AI-generated citations, UK court  warns | TechCrunch

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে আদালতের সতর্কতা

মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আদালতে জমা দেওয়া নথি তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। ওই ব্যক্তি স্ত্রীর কিছু প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে এমন একটি মামলার উদাহরণ দেন, যার কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

পরে তিনি জানান, তিনি কেবল খসড়া তৈরি ও সাধারণ কাঠামো তৈরির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছিলেন এবং পরে নিজে তা সংশোধন করেছেন।

তবে বিচারক নথির ভাষা, গঠন এবং দ্রুত প্রস্তুতির ধরন দেখে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু এর মাধ্যমে তৈরি তথ্যের দায় ব্যবহারকারীকেই নিতে হবে।

আদালতে জমা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে প্রতিটি তথ্য নিজে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও বিচারক উল্লেখ করেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল— কীভাবে পৌঁছালো এই চার দল, তাদের বিস্তারিত বিবরণ ও বিশেষজ্ঞদের ভবিষ্যদ্বাণী

স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে আদালতে মিথ্যা মামলার নজির, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে সতর্ক করলেন বিচারক

১১:৫১:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সুরক্ষা আদেশ চেয়ে করা এক ব্যক্তির আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। মামলার নথিতে অস্তিত্বহীন একটি মামলার উল্লেখ করায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি তথ্য যাচাই ছাড়া ব্যবহার করায় ওই ব্যক্তিকে সতর্কও করা হয়েছে।

অভিযোগ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

ঘটনার সময় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল। ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে তাকে মানসিক ও আবেগগতভাবে নির্যাতন করেছেন। তার দাবি ছিল, স্ত্রীর আচরণের কারণে তিনি আর্থিক সংকটে পড়ে অসহায় অবস্থায় চলে গিয়েছিলেন।

তিনি আরও দাবি করেন, তাকে খাবার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল এবং এর ফলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এমনকি দাঁতের চিকিৎসার জন্য তাকে নিজ দেশে যেতে হয়েছিল বলেও তিনি আদালতে জানান।

তবে বিচারক তার বক্তব্যের কিছু অংশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিচারকের মতে, যদি ওই ব্যক্তি সত্যিই এতটা দুর্বল ও অসহায় অবস্থায় থাকতেন, তাহলে কয়েক কিলোমিটার পথ পেরিয়ে ভারী আটার বস্তা বহন করা তার পক্ষে কঠিন হওয়ার কথা।

How To Heal From Emotional Abuse

ভিডিওতে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র

আদালতে জমা দেওয়া দুটি ভিডিও পর্যালোচনা করে বিচারক বলেন, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বাস্তব চিত্র অভিযোগের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে দেখা গেছে।

বিচারক মন্তব্য করেন, চাকরি হারানোর পর ওই ব্যক্তির জীবনে বড় পরিবর্তন আসে। তবে পরিস্থিতি সামলানোর স্বাস্থ্যকর উপায় খুঁজে না পাওয়ায় তিনি ধীরে ধীরে নেতিবাচক অবস্থার দিকে চলে যান।

আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, ওই ব্যক্তির দুরবস্থার জন্য তার স্ত্রী নয়, বরং তার নিজের সিদ্ধান্ত ও পরিস্থিতি মোকাবিলার ধরনই বেশি দায়ী ছিল।

আবেদন বাতিল, খরচ দিতে নির্দেশ

সব তথ্য বিবেচনা করে আদালত ব্যক্তিগত সুরক্ষা আদেশের আবেদন বাতিল করেন। একই সঙ্গে স্ত্রীকে মামলার খরচ হিসেবে প্রায় ১০ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

Lawyers could face 'severe' penalties for fake AI-generated citations, UK court  warns | TechCrunch

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে আদালতের সতর্কতা

মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল আদালতে জমা দেওয়া নথি তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। ওই ব্যক্তি স্ত্রীর কিছু প্রতিবেদন প্রকাশের দাবিতে এমন একটি মামলার উদাহরণ দেন, যার কোনো অস্তিত্বই ছিল না।

পরে তিনি জানান, তিনি কেবল খসড়া তৈরি ও সাধারণ কাঠামো তৈরির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছিলেন এবং পরে নিজে তা সংশোধন করেছেন।

তবে বিচারক নথির ভাষা, গঠন এবং দ্রুত প্রস্তুতির ধরন দেখে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু এর মাধ্যমে তৈরি তথ্যের দায় ব্যবহারকারীকেই নিতে হবে।

আদালতে জমা দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিতে প্রযুক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে প্রতিটি তথ্য নিজে যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও বিচারক উল্লেখ করেন।