০৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
নারিন্দা মোড়ে সড়ক ধস: ওয়াসার পাইপ লিকেজে যান চলাচল বন্ধ, মেরামতে লাগবে এক সপ্তাহ অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান আত্মসাৎ নিয়ে উদ্বেগ, তদন্তে আস্থা আরএসএসের ত্বিশা শর্মা মৃত্যু মামলায় বড় মোড়, জিমন্যাস্টিকস বেল্টেই মিলল ত্বকের নমুনা একসময় সমান, আজ তিনগুণ: কেন ভিন্ন পথে হাঁটল মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত ও সিঙ্গাপুর ডলার আসামে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান ঘোষণা, আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ে জোর মুখ্যমন্ত্রীর ডিএসইএক্স ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ অবস্থানে, টানা উত্থানে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা শ্রীলঙ্কার পর্যটন আয়ে বড় ধাক্কা, ছয় মাসে ১২ শতাংশ পতনে ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য চাপে রাজধানীর মাদ্রাসায় বৈদ্যুতিক বিস্ফোরণ, ঘুমন্ত ৫ শিশু শিক্ষার্থী আহত দমন থেকে সমঝোতা: কাতালোনিয়ায় ফ্রাঙ্কো শাসনের বিবর্তন এবং স্বৈরতন্ত্রের অভিযোজনের পাঠ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চার দিনের রিমান্ডে

পাকিস্তানের ট্যাংকে পুলিশের সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে আইইডি হামলা, নিহত ২ পুলিশ সদস্য

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) ট্যাংক জেলায় পুলিশের একটি সাঁজোয়া যান (এপিসি) লক্ষ্য করে সন্দেহভাজন ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্য নিহত এবং আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার ট্যাংক-জান্দোলা সড়কে নিয়মিত টহলের সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে কী জানা গেছে

পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংক-জান্দোলা সড়কের শহীদ মুরিদ আকবর থানার অধীন এলাকায় সড়কের পাশে পুঁতে রাখা আইইডির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের সময় পুলিশের সাঁজোয়া যানটি নিয়মিত টহলে ছিল।

এ ঘটনায় সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ফারিদুল্লাহ এবং কনস্টেবল আখতার জামান নিহত হন। আহত হন কনস্টেবল আবদুল মালিক ও কুদরাতুল্লাহ। আহতদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকা ঘিরে অভিযান

বিস্ফোরণের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও দায়ীদের শনাক্ত করতে আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু হয়েছে।

Five policemen injured in IED attack targeting police patrol in Lakki  Marwat - Pakistan - DAWN.COM

গভর্নর ও প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য গর্বের।

তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বলেন, এ ধরনের হামলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতির সংকল্প দুর্বল করতে পারবে না। পাশাপাশি আহত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবিস্মরণীয় ত্যাগ স্বীকার করছেন এবং পুরো জাতি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

ট্যাংকে ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্যাংক জেলায় পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে এলিট ফোর্সের কনস্টেবল জিয়াউল্লাহ ভিট্টানিকে দিনের আলোয় গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে ২০ জুন একটি পুলিশ চেকপোস্টে গ্রেনেড হামলায় কনস্টেবল ফিদাউল্লাহ আহত হন।

এ ছাড়া ১০ মে হেড কনস্টেবল জান আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মার্চ মাসেও ট্যাংক শহরের প্রধান বাজার এলাকায় হেড কনস্টেবল উজাইর খানকে সশস্ত্র হামলায় হত্যা করা হয়েছিল।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) সাম্প্রতিক নিরাপত্তা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, টানা দুই মাস পরিস্থিতির উন্নতির পর মে মাসে পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আবার অবনতি ঘটে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী সহিংসতা বেড়ে যাওয়াই এ অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের ট্যাংকে পুলিশের সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে আইইডি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারিন্দা মোড়ে সড়ক ধস: ওয়াসার পাইপ লিকেজে যান চলাচল বন্ধ, মেরামতে লাগবে এক সপ্তাহ

পাকিস্তানের ট্যাংকে পুলিশের সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে আইইডি হামলা, নিহত ২ পুলিশ সদস্য

০৬:৪৭:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) ট্যাংক জেলায় পুলিশের একটি সাঁজোয়া যান (এপিসি) লক্ষ্য করে সন্দেহভাজন ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্য নিহত এবং আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার ট্যাংক-জান্দোলা সড়কে নিয়মিত টহলের সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে কী জানা গেছে

পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ট্যাংক-জান্দোলা সড়কের শহীদ মুরিদ আকবর থানার অধীন এলাকায় সড়কের পাশে পুঁতে রাখা আইইডির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের সময় পুলিশের সাঁজোয়া যানটি নিয়মিত টহলে ছিল।

এ ঘটনায় সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ফারিদুল্লাহ এবং কনস্টেবল আখতার জামান নিহত হন। আহত হন কনস্টেবল আবদুল মালিক ও কুদরাতুল্লাহ। আহতদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকা ঘিরে অভিযান

বিস্ফোরণের পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও দায়ীদের শনাক্ত করতে আনুষ্ঠানিক তদন্তও শুরু হয়েছে।

Five policemen injured in IED attack targeting police patrol in Lakki  Marwat - Pakistan - DAWN.COM

গভর্নর ও প্রেসিডেন্টের প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য গর্বের।

তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং বলেন, এ ধরনের হামলা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জাতির সংকল্প দুর্বল করতে পারবে না। পাশাপাশি আহত পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও হামলার নিন্দা জানিয়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবিস্মরণীয় ত্যাগ স্বীকার করছেন এবং পুরো জাতি তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

ট্যাংকে ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্যাংক জেলায় পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে এলিট ফোর্সের কনস্টেবল জিয়াউল্লাহ ভিট্টানিকে দিনের আলোয় গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে ২০ জুন একটি পুলিশ চেকপোস্টে গ্রেনেড হামলায় কনস্টেবল ফিদাউল্লাহ আহত হন।

এ ছাড়া ১০ মে হেড কনস্টেবল জান আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মার্চ মাসেও ট্যাংক শহরের প্রধান বাজার এলাকায় হেড কনস্টেবল উজাইর খানকে সশস্ত্র হামলায় হত্যা করা হয়েছিল।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) সাম্প্রতিক নিরাপত্তা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, টানা দুই মাস পরিস্থিতির উন্নতির পর মে মাসে পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির আবার অবনতি ঘটে। বিশেষ করে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী সহিংসতা বেড়ে যাওয়াই এ অবনতির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের ট্যাংকে পুলিশের সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে আইইডি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য নিহত এবং আরও দুইজন আহত হয়েছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলছে।